
কথায় বলে না, একটা দূর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না!
এটা একদম সত্যি কথা। মানুষ আসলে ভুল করবেই! ভুল থেকে মুক্তি নেই মানুষের। আমার জীবনটা কিভাবে ছাড়খার হয়ে গেলো সেই গল্পটা বলি। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পর, মনে হতো অনেক বড় হয়ে গেছি! নিজেকে বাংলা সিনেমার নায়ক বলে মনে হতো। কলার বড় শার্ট পড়ি, জিন্স প্যান্ট, পায়ে কেডস। চুল কায়দা করে আচড়াই। ক্যাম্পাসে মাস্তানি করি। আর মনে হয়, সমস্ত মেয়েরা আমার জন্য পাগল! এখন বুঝি তখন আমি নায়ক ছিলাম না। ছিলাম বখাটে। আমার কর্মকাণ্ডে মানুষ হয়তো মনে মনে খারাপ গালি দিয়েছে। আসলে মানুষ যখন ভুল করে, তখন সে বুঝতে পারে না। যখন বুঝে তখন আর ভুল সংশোধনের উপায় থাকে না।
আমি রইজউদ্দিনের ছাওয়াল, শাহেদ জামাল।
একদিন গিফারী কলেজে মারামারি করলাম। তিনটা ক্লাশ রুমের ফ্যানের পাখা বাকা করে দিলাম। এক ছেলেকে রড দিয়ে মারলাম। এরপর থেকে মানুষ আমাকে সমীহ করতে শুরু করে। (এখন বুঝি ওটা সমীহ নয়, ঘৃনা) আমিও ভাব নিয়ে চলি। একদিন মার্ডার কেসের আসামি হয়ে গেলাম। পুলিশ আমাকে খুজছে, আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমার বড় চাচা, বুদ্ধিমান মানুষ। আমাকে অনেক টাকা পয়সা খরচ করে ইটালি পাঠিয়ে দিলেন। নিশ্চিত জেলে যাওয়া থেকে বেচে গেলাম। ইটালি যাওয়ার পর মনে হলো, এই দুনিয়ার নাম্বার ওয়ান অভাগা আমি। অড জব করে কোনো রকমে বেচে থাকলাম।
আমার জীবনে আমার প্রতিটি সিদ্ধান্ত ভুল নিয়েছি।
এজন্য নীলা আজ আমার সাথে নেই। এমনকি আমার পরিবারও আমার সাথে নেই। এখন আমি একটা মেসে কোনো রকমে থাকি। মেসের পরিবেশ অতি নোংরা। রুমমেটরাও বদমাশ ও নীচু মানসিকতার। কতদিন হয়ে গেলো বাবা মা, ভাইবোনদের দেখি না! খুব কষ্ট হয়। আত্মীয়স্বজন সবাই আমায় পরিত্যাগ করেছে। আপন ভাইয়ের বাসায় গেলেও, ভাবী দরজা খুলেন না। বলেন, বাসায় কেউ নেই। অন্যদিন এসো। বন্ধুর অফিসে গেলে বন্ধু দেখা করে না, পিয়ন দিয়ে খবর পাঠায় মিটিং করছে, মিটিং শেষ হতে অনেক সময় লাগবে। অথচ আমি বন্ধুকে কাচের দরজার ফাক দিয়ে দেখেছি, বন্ধু তার রুমেই আছে।
এই কিছুদিন আগের কথা। শাহবাগ মোড়ে দাড়িয়ে আছি।
ছেলেমেয়েরা আন্দোলন করছে। তাদের আন্দোলনের ভাষা খুবই নোংরা। সাউয়া মাওয়া ছিড়ে ফেলতে চাইছে। এরা নিশ্চিত ভদ্র ঘরের ছেলেমেয়ে না। ভদ্র ঘরের হলে এরকম ভাষা ব্যবহার করতে পারতো না। যাইহোক, হঠাৎ দৌড়ঝাপ শুরু হলো। পুলিশ সামনে যাকে পাচ্ছে তাকেই পিটাচ্ছে। আমি পুলিশের সামনে পড়লাম। পুলিশ আমাকে মারতে শুরু করেছে। ভাগ্যিস কয়েকটা লাঠি দিয়ে আঘাত করে আমাকে ছেড়ে দিয়েছে। যদি ধরে আমায় থানায় নিয়ে যেতো, কে আমাকে ছাড়িয়ে আনতে যেতো! বাংলাদেশের থানার লকাপ আর কারাগার খুবই জঘন্য পরিবেশে। সেখানে মানুষ দিনের পর দিন কি করে বেচে থাকে, কে জানে!
জীবনে ভুল মানুষ প্রবেশ করলে, দু:খ থাকবে চিরকাল।
নীলা নামের এক মেয়ে আমার জীবনে এলো। চুটিয়ে দুই বছর প্রেম করা হলো। নীলা সহজ সরল সুন্দর ভালো মেয়ে। যখন নীলার বিয়ে করার সময় হলো, তখন সে আমেরিকা প্রবাসীকে বিয়ে করে ফেলল। আমায় বলল, তুমি বেকার। সামান্য একটা চাকরি যোগাড় করার ক্ষমতা তোমার নেই। প্রেম বা বিয়ে করার জন্য তুমি পারফেক্ট নও। তারপর নীলা চলে গেলো! এদিকে নীলার জন্য আমার অবস্থা কাহিল। সারাদিন না খেয়ে পথে পথে ঘুরি। সস্তার সিগারেটের সাথে গাজা ভরে খাই। সারাদিন পার্কে শুয়ে থাকি। অথচ আমার বাবা রইজউদ্দিন একজন ভদ্র মানুষ। দিনাজপুর জেলা স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক। আমার মা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা। আমার ভাইবোনেরা সকলে প্রতিষ্ঠিত। মাঝখান দিয়ে আমি উচ্ছন্নে গেলাম!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




