somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৩

১৩ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কথায় বলে না, একটা দূর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না!
এটা একদম সত্যি কথা। মানুষ আসলে ভুল করবেই! ভুল থেকে মুক্তি নেই মানুষের। আমার জীবনটা কিভাবে ছাড়খার হয়ে গেলো সেই গল্পটা বলি। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পর, মনে হতো অনেক বড় হয়ে গেছি! নিজেকে বাংলা সিনেমার নায়ক বলে মনে হতো। কলার বড় শার্ট পড়ি, জিন্স প্যান্ট, পায়ে কেডস। চুল কায়দা করে আচড়াই। ক্যাম্পাসে মাস্তানি করি। আর মনে হয়, সমস্ত মেয়েরা আমার জন্য পাগল! এখন বুঝি তখন আমি নায়ক ছিলাম না। ছিলাম বখাটে। আমার কর্মকাণ্ডে মানুষ হয়তো মনে মনে খারাপ গালি দিয়েছে। আসলে মানুষ যখন ভুল করে, তখন সে বুঝতে পারে না। যখন বুঝে তখন আর ভুল সংশোধনের উপায় থাকে না।

আমি রইজউদ্দিনের ছাওয়াল, শাহেদ জামাল।
একদিন গিফারী কলেজে মারামারি করলাম। তিনটা ক্লাশ রুমের ফ্যানের পাখা বাকা করে দিলাম। এক ছেলেকে রড দিয়ে মারলাম। এরপর থেকে মানুষ আমাকে সমীহ করতে শুরু করে। (এখন বুঝি ওটা সমীহ নয়, ঘৃনা) আমিও ভাব নিয়ে চলি। একদিন মার্ডার কেসের আসামি হয়ে গেলাম। পুলিশ আমাকে খুজছে, আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমার বড় চাচা, বুদ্ধিমান মানুষ। আমাকে অনেক টাকা পয়সা খরচ করে ইটালি পাঠিয়ে দিলেন। নিশ্চিত জেলে যাওয়া থেকে বেচে গেলাম। ইটালি যাওয়ার পর মনে হলো, এই দুনিয়ার নাম্বার ওয়ান অভাগা আমি। অড জব করে কোনো রকমে বেচে থাকলাম।

আমার জীবনে আমার প্রতিটি সিদ্ধান্ত ভুল নিয়েছি।
এজন্য নীলা আজ আমার সাথে নেই। এমনকি আমার পরিবারও আমার সাথে নেই। এখন আমি একটা মেসে কোনো রকমে থাকি। মেসের পরিবেশ অতি নোংরা। রুমমেটরাও বদমাশ ও নীচু মানসিকতার। কতদিন হয়ে গেলো বাবা মা, ভাইবোনদের দেখি না! খুব কষ্ট হয়। আত্মীয়স্বজন সবাই আমায় পরিত্যাগ করেছে। আপন ভাইয়ের বাসায় গেলেও, ভাবী দরজা খুলেন না। বলেন, বাসায় কেউ নেই। অন্যদিন এসো। বন্ধুর অফিসে গেলে বন্ধু দেখা করে না, পিয়ন দিয়ে খবর পাঠায় মিটিং করছে, মিটিং শেষ হতে অনেক সময় লাগবে। অথচ আমি বন্ধুকে কাচের দরজার ফাক দিয়ে দেখেছি, বন্ধু তার রুমেই আছে।

এই কিছুদিন আগের কথা। শাহবাগ মোড়ে দাড়িয়ে আছি।
ছেলেমেয়েরা আন্দোলন করছে। তাদের আন্দোলনের ভাষা খুবই নোংরা। সাউয়া মাওয়া ছিড়ে ফেলতে চাইছে। এরা নিশ্চিত ভদ্র ঘরের ছেলেমেয়ে না। ভদ্র ঘরের হলে এরকম ভাষা ব্যবহার করতে পারতো না। যাইহোক, হঠাৎ দৌড়ঝাপ শুরু হলো। পুলিশ সামনে যাকে পাচ্ছে তাকেই পিটাচ্ছে। আমি পুলিশের সামনে পড়লাম। পুলিশ আমাকে মারতে শুরু করেছে। ভাগ্যিস কয়েকটা লাঠি দিয়ে আঘাত করে আমাকে ছেড়ে দিয়েছে। যদি ধরে আমায় থানায় নিয়ে যেতো, কে আমাকে ছাড়িয়ে আনতে যেতো! বাংলাদেশের থানার লকাপ আর কারাগার খুবই জঘন্য পরিবেশে। সেখানে মানুষ দিনের পর দিন কি করে বেচে থাকে, কে জানে!

জীবনে ভুল মানুষ প্রবেশ করলে, দু:খ থাকবে চিরকাল।
নীলা নামের এক মেয়ে আমার জীবনে এলো। চুটিয়ে দুই বছর প্রেম করা হলো। নীলা সহজ সরল সুন্দর ভালো মেয়ে। যখন নীলার বিয়ে করার সময় হলো, তখন সে আমেরিকা প্রবাসীকে বিয়ে করে ফেলল। আমায় বলল, তুমি বেকার। সামান্য একটা চাকরি যোগাড় করার ক্ষমতা তোমার নেই। প্রেম বা বিয়ে করার জন্য তুমি পারফেক্ট নও। তারপর নীলা চলে গেলো! এদিকে নীলার জন্য আমার অবস্থা কাহিল। সারাদিন না খেয়ে পথে পথে ঘুরি। সস্তার সিগারেটের সাথে গাজা ভরে খাই। সারাদিন পার্কে শুয়ে থাকি। অথচ আমার বাবা রইজউদ্দিন একজন ভদ্র মানুষ। দিনাজপুর জেলা স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক। আমার মা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা। আমার ভাইবোনেরা সকলে প্রতিষ্ঠিত। মাঝখান দিয়ে আমি উচ্ছন্নে গেলাম!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৫
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সকালে শিক্ষক, বিকালে সবজি বিক্রেতা

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৪৯


মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর বিভিন্ন আলোড়ন সৃষ্টিকারী পদক্ষেপে যখন মিডিয়া জগৎ সয়লাব এমনি সময় হটাৎ করেই ইউ টিউবে একটা ভিডিও চোখে পড়লো। ২ মিনিটের এ ভিডিওটা সেলফ এক্সপ্লানেটোরি ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়াময় স্মৃতি, পবিত্র হজ্জ্ব- ২০২৫….(৯)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:১৬

অষ্টম পর্বের লিঙ্কঃ পবিত্র হজ্জ্ব- ২০২৫ এর মায়াময় স্মৃতি….(৮)

১০ই জিলহজ্জ্ব তারিখে (০৬ জুন ২০২৫) সূর্যোদয়ের আগেই আমরা মুযদালিফা থেকে রওনা হয়ে সকাল সকাল ‘বড় জামারাত’ বা জামারাত আল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুদিত, অনূদিত এবং অনুবাদিত, কোনটার কী অর্থ?

লিখেছেন নতুন নকিব, ২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪

অনুদিত, অনূদিত এবং অনুবাদিত, কোনটার কী অর্থ?

অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

প্রথমেই বলা দরকার, "অনূদিত" শব্দটি সাধারণত সঠিক এবং প্রমিত বানান হিসেবে ব্যবহৃত হয় যখন অর্থ "অনুবাদ করা হয়েছে এমন" বা "ভাষান্তরিত"... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শেকল ভাঙার গান

লিখেছেন ইসিয়াক, ২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০২

রক্ত-আগুনে প্রতিবাদ চলুক,
বিক্ষোভের অনলে সারাদেশ জ্বলুক ।
শেষ থেকে শুরু হোক না আবার,
নতুন করে তো কিছু নেই হারাবার!

পুনরায় বিনাশিব তিমির রাত
আঁধার কেটে জাগবে প্রভাত।

দিকে দিকে সংগঠিত হও... ...বাকিটুকু পড়ুন

Diplomacy is not tourism

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৫৯


আফ্রিকার পশ্চিম প্রান্তে আটলান্টিকের তীরে সেনেগালের রাজধানী ডাকার। এপ্রিলের শেষে সেখানে বসেছে 'Dakar International Forum on Peace and Security in Africa'-এর দশম আসর। নামটা দীর্ঘ হলেও এবারের হাওয়া বেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×