somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

জীবনের গল্প - ১০০

২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমার সাথে একজন সাবেক সচিবের পরিচয় হয়েছে।
উনি অবসরে গেছেন, ১০ বছর হয়ে গেছে। এখন উনি বেকার। কোনো কাজ নাই। বাসায় বাজার করেন অনেক বাজার ঘুরে। উনার একটা সাদা গাড়ি আছে। গাড়ি ফ্রি থাকলেই উনি গাড়ি নিয়ে বের হোন। এখানে সেখানে ঘুরে বেড়ান। এই রমজানে উনি একদিনও বাসায় ইফতারি করেন নাই। এক একদিন একেক রেস্টুরেন্টে ইফতারি করেছেন। তার ডায়বেটিস ন্রি। প্রতিদিন দেড় শ গ্রাম চিকন জিলাপি খেয়েছেন। আমাকে বেশ কয়েকবার ফোন করে ইফতারি করার জন্য ডেকেছেন। আমি সময় দিতে পারি নাই। উনি আমার অফিসে মাঝে মাঝে আসেন। অনেক রকম গল্প করেন। জীবন এবং রাজনীতি নিয়ে তার অনেক জ্ঞান।

সচিব সাহেব আমাকে বলেন, আমার হাতে টাকা আছে।
টাকা দিয়ে কি করি বলেন তো? অবসর সময় একেবারেই কাটছে না। উনার কাছে টাকা এবং প্রচুর সময় আছে, কথা সত্য। সামান্য সিগারেট কিনতে গাড়ি করে এক মাইল দূরে যান। আমার সাথে গল্প করেন ঘন্টার পর ঘন্টা। উনি আমার বাবার বয়সী হলেও আমার সাথে প্রায় বন্ধুর মতো সম্পর্ক। সমবয়সীদের সাথে আমার মিলে না। বয়স্ক মানুষের সাথে আমার মিলে। একদিন উনার সাথে উত্তরা মেট্রোরেলের কাছে দেখা! আমি যাবো কাওরান বাজার। উনি বললেন, কারওয়ান বাজার যেতে হবে না। আমার সাথে গাজীপুর চলেন। আমি বললাম, আমার সাথে কাওরানবাজার চলেন। সচিব সাহেব হাসলেন! সহজ সরল হাসি। দুজন মিলে চা খেলাম। জামাত, শিবির, রাজাকার আর এনসিপি দের উনি ঘৃনা করেন।

আমি উনাকে বললাম, আপনার গ্রামের বাড়ি একটা আধুনিক লাইব্রেরী করেন।
লোকজন আপনার লাইব্রেরী যাবে। বই পড়বে। উনি বললেন, আমার গ্রামের বাড়ি আমি একটা মসজিদ করেছি। মসজিদের জন্য বেশ কিছু কোরআন ও হাদিসের বই কিনে দিয়েছি। আমি বললাম, তাহলে একটা বাগানবাড়ি করেন। হুমায়ুন আহমেদের নুহাশ পল্লীর মতো করে। পুকুর থাকবে, থাকার জন্য দোতলা একটা বাড়ি থাকবে, লাইব্রেরী থাকিবে, বাচ্চাদের জন্য খেলার আলাদা জায়গা থাকবে, পুরো বাগানবাড়ি জুড়ে থাকবে অসংখ্য গাছপালা। গাছের উপর ছোট ঘর করবেন। সেখানে মানুষ বসে ধ্যান করবে। লোকজন আপনার বাগানবাড়িতে বেড়াতে আসবে। নায়ক সিনেমার লোকজন আপনার বাগানবাড়ি ভাড়া নিবে। আজকাল এই ব্যবসা ভালো চলছে। এখন ঢাকার চারপাশে কতশত রিসোর্ট! এগুলো খালি পাওয়া বিরাট ভাগ্যের ব্যাপার।

আমি যা-ই বলি, উনার মনে ধরে না।
উনি আমার কাছে এসে চুপ করে বসে থাকেন। উনি বলেন, চা দুই রকমের হয়। পুরুষ চা আর মহিলা চা। মহিলা চা হলো দুধ চা। উনি বলেন, আজ মহিলা চা খাওয়ান। সেদিন আমায় বললেন, একটা কাজ দেন। টাকা লাগবে না। আমি উনাকে বলি, জাপান থেকে ঘুরে আসেন। উনি বলেন, মন্ত্রণালয়ে থাকতে ৩৬ টা দেশ ঘুরেছি। এসব আর ভালো লাগে না। আমি বলি, একটা ফাউন্ডেশন করেন। অসহায় আর দরিদ্র মানুষদের সাহায্য করেন। উনি বলেন, ফাউন্ডেশনের নাম দিয়ে মানুষ কি কি করে আমি খুব ভালো করেই জানি। আমি বললাম, তাহলে আপনি কি করতে চান? উনি বললেন, বিজনেস করবো। বিশাল এক শোরুম দিবো। সেখানে সব পাওয়া যাবে। শো রুমের মধ্যে ছোট এক অফিস থাকবে, আমি সেখানে বসে থাকিব। একটু পরপর মহিলা চা খাবো। আর শো রুমের পুরো দায়িত্ব নিতে হবে আপনাকে।

সচিব সাহেবকে বললাম, একটা বান্ধবী করেন।
তার সাথে ঘুরে বেড়ান। সুন্দর সময় কাটান। সচিব বললেন, মেয়ে গুলো লোভী হয়। তাদের শুধু চাই আর চাই। আজ মোবাইল চাইবে, কাল মেকাপ বক্স চাইবে। এদের চাওয়ার শেষ নেই। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর মানুষের সময় কি খুব কষ্টে কাটে? অবসর সময় কি মানুষকে তিলে তিলে কষ্ট দেয়। মানুষ মূলত নিজেকে ব্যস্ত রেখেই আনন্দ পায়। মানুষ ব্যস্ত থাকতে চায়। বেকারদের অনেক কষ্ট! মানুষ আমৃত্যু কাজ করে যাবে। এটাতেই মানুষের আনন্দ, এটাতেই মানুষের মুক্তি। হ্যা সরকারি চাকরির একটা বয়স সীমা আছে। তারপর মানুষ অন্য কোনো কাজ বা বিজনেস করবে। দিনের পর দিন অবসর কাটানো যায় না। আমার শ্বশুর চাকরি থেকে অবসর করেছেন, ১৬ বছর আগে। এরপর সে ওকালতি করছেন। ওকালতি না করলে, এত লম্বা সময় উনি কি করে পার করতেন? তার স্ত্রীও বেচে নেই। আমার বন্ধুর বাবা পুলিশে কাজ করতেন। অবসর নেওয়ার পর এখন বাজার করেন, স্ত্রীকে মাছ কুটে দেন। নাতীকে স্কুলে নিয়ে যান। গ্রামের বাড়ি গিয়ে গাছ লাগান। গাছের যত্ন নেন।

বই মানুষের সবচেয়ে ভালো বন্ধু।
বই পড়ার অভ্যাস করতে হবে। লেখার অভ্যাস করতে হবে। একটা বয়সের পর মানুষ ধর্মকর্ম করে। হ্যা সারাদিনে পাচ বার নামাজ পড়লেও ভালো। অনেক সময় কেটে যায়। মসজিদে পাচ জনের সাথে দেখা হয়। গল্পগুজব হয়। আমার মায়ের কথা বলি, তার কোনো কামকাজ নাই। সারাদিন টিভি দেখে। মোবাইল দেখে। সময় মতো ডাক্তারের কাছে যায়। নিয়ম করে ওষুধ খায়। আমার খালার অবস্থা আরো করুন। সে অসুস্থ। সে বাসায় একা থাকে। তার ছেলেমেয়েরা কেউ তার সাথে থাকে না। তবে নিয়মিত টাকা পাঠায়। খালা রান্না করে খেতে পারে না। দোকান থেকে কিনে এনে খায়। খালা আমাকে ফোন দেয়, দেখা করতে বলেন। আমি নিজেও ব্যস্ত, খালাকে সময় দিতে পারি না। আমি অবসরে গেলে, আমার কষ্ট হবে না। আমি পড়বো। লিখবো। ঘুরে বেড়াবো। পাহাড়ে যাবো। সমুদ্রে যাবো। কারো বিরক্তির কারণ হবো না।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আর্কাইভ থেকে: ঈশ্বর ও ভাঁড়

লিখেছেন অর্ক, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:১০




বিরাট কিছু চাইনি। পরিপাটি দেয়ালে আচানক লেগেছিলো একরত্তি দাগ। কোনও ঐশী বলে মুছে যেতো যদি—ফিরে পেতাম নিখুঁত দেয়াল। তাতে কী মহাভারত অশুদ্ধ হতো কার! (সে দাগ রয়ে গেছে!)

পাখিদের মতো উড়বার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতভেদ নিরসন ছাড়া মুসলিম আল্লাহর সাহায্য পাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৩



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘স্বপ্নের শঙ্খচিল’ কে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা….

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬



আজ সকালে ল্যাপটপ খুলেই উপরের চিত্রটা দেখলাম। দেখে মনটা প্রথমে একটু খারাপই হয়ে গেল! প্রায় একুশ বছর ধরে লক্ষাধিক ব্লগারের নানারকমের বৈচিত্রপূর্ণ লেখায় ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সমৃদ্ধ আমাদের সবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনু গল্প

লিখেছেন মোগল সম্রাট, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



(এক)
দশম শ্রেণির ছেলে সাদমান সারাদিন ফোনে ডুবে থাকত। বাবা-মা বকাঝকা করলে প্রায়ই অভিমান করে ভাত খেতো না। একদিন রাতে ঘরের দরজা বন্ধ। ভোরে দরজা ভেঙে সবাই স্তব্ধ। খবরের কাগজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প - ১০০

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫



আমার সাথে একজন সাবেক সচিবের পরিচয় হয়েছে।
উনি অবসরে গেছেন, ১০ বছর হয়ে গেছে। এখন উনি বেকার। কোনো কাজ নাই। বাসায় বাজার করেন অনেক বাজার ঘুরে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×