somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্মৃতি রোমন্থন-৩

২৭ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সরারচর স্টেশান থেকে আমাদের বাড়ী ১০ মাইলের মতো হব। গ্রামের নাম ওসমানপুর। যেতে হয় রিক্সা করে। গুটি কয়েক রিক্সা দাঁড়ানো থাকতো স্টেশানে। ভাড়া ২০ টাকা। আমরা ৪ জন, আমি বাবার কোলে, আমার বোন মার কোলে। পথের দু পাশে পড়ত আগুন লাল শিমুল ফুল গাছ, ধান ক্ষেত, একটা শ্মশান ( যেটাকে নিয়ে বাবার একটা কাহিনী ছিল )। চার ভাগের ১ ভাগ ছিল কাঁচা রাস্তা। কাঁচা রাস্তা শুরু হওয়া মানে বাবার পরিচিত গন্ডি শুরু হওয়া। অনেকেই কুশলাদি জানতে চাইতো। গ্রামের অধিকাংশ বাড়ীগুলোতে বাঁশ ঝাড় ছিল। দিনের বেলাতেই কেমন যেন ভুতুড়ে অন্ধকার জমাট বেধে থাকে। রাতের বেলাতে জরুরী প্রয়োজন না থাকলে বের হত না কেউ। আমাদের গ্রামে তখনো বিদ্যুৎ ছিল না। আজো যাকে আমরা বলি অজো পাড়া গা। সপ্তাহে ২ দিন হাট বসতো। আর তা না হলে আমাদের যেতে হত ৪ কি.মি. দূরের বাজিতপুর বাজারে।

আমাদের বাড়িতে থাকতো আমার ঠাকুরমা, দুই কাকা, আর এক দুর সম্পর্কের দাদু ( ঠাকুরমার ভাই )। আমারা যখন বাড়ীর কাছাকাছি চলে আসতাম তখন আমাদের দুই ভাই বোনের মধ্যে শুরু হত প্রস্তুতি, কে আগে ঠাকুরমার কোলে উঠতে পারবে। আমি বড় ছিলাম। স্বভাবিক ভাবেই আমার বোন আমার সাথে কুলেয়ে উঠতে পারতো না। আমি সবার আগে ঠাকুরমার কোলে উঠে পরতাম। প্রতিবার ই উনি আমাকে চুমু খেয়ে বলতো " আমার মানিক অনেক বড় হয়ে গেছে "। অমিও বড়দের আচরণ দেখাতে গিয়ে কোল থেকে নেমে পড়তাম।

সারা রাস্তার ক্লান্তি এক নিমিষে উড়ে চলে যেতো তখন। প্রথম কাজ ছিল এক দৌড়ে সারা বাড়ী ঘুরে দেখে আসা। সব ঠিকঠাক আছে কিনা। কারন এই বাড়ীটা আমার ই জানতাম, আমি ছিলাম ঠাকুরমার বড় ছেলের এক মাত্র ছেলে। দ্বিতীয় কাজ ছিল দাদুকে গিয়ে প্রনাম করা। সাথে সাথেই বায়না আমাকে দোলনা বেধেঁ দিতে হবে। কারণ দোলনা বাধার প্রধান উপকরন দড়ি ছিল তার দপ্তরে। আমাদের ২টা গরু দাদু পালতেন। শেষ পর্যন্ত উনি রাজি হতেন কারণ আমাদের খুব আদর করতেন।

আমার ঠাকুরমা ছিলেন বিধবা। আমার দাদু মারা গিয়েছিলেন আমার বাবার বয়স তখন ১৮। তখন বাবাকের সংসারের দায়িত্ব নিতে হল। দাদুর চাকরিতে জয়েন করলেন (টেক্সটাইল মিলে)। সবে বাবা মেট্রিক পাশ করেছে। ঠাকুরমা নিরামিষ খেতেন। তাই আমরা সবাই ক্ষিধা পেটে ঠাকুরমার রান্না করা বড়ি দিয়ে ডাল আর ভাজি দিয়ে শেষ দুপুরের খাবার শেষ করতাম। এই বাড়ীটা ছিল আমার ঠাকুরমার। দাদুর বাড়ি ছিল নারায়নগঞ্জে। তাই আমাদের পূর্ব পুরুষ ধরা যায় ঢাকার আশেপাশের। আমার বাবা প্রায় সময়ই দুই জায়গায় থেকে পড়াশুনা করেছে। এর মধ্যে নারায়নগঞ্জের তুলারাম কলেজের কথা প্রায়ই বলেন। বাবার পূর্ব পুরুষদের কে দেখি শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করে। আমাকে বলতো তার বাবা উনাকে ৪ পুরুষের নাম বলে গেছেন। আমিও আগ্রহ ভরে শুনি। সেই হিসাবে আমি জানি ৬ পুরুষের নাম। স্মৃতির পাতা থেকে নামগুলো লিপিবদ্ধ করাটাই মনে হয় ভাল। আমাকে নিয়ে শুরু করলে নাম গুলো এমন হয় :
৭-পুরুষ
১। রাজীব মিত্র
২। অসিত মিত্র
৩। হেরম্ব মোহন মিত্র
৪। পিয়ারি মোহন মিত্র
৫। দেবপ্রসাদ মিত্র
৬। মহেশ মিত্র
৭। রামকানাই মিত্র


নাম গুলো শুধু নামই না আমার কাছে, এ গুলো এক একটা পরিবার, ইতিহাস, সময়। তাই এগুলো আমাকে না
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মন বাগানে ফুটে আছে রঙবাহারী ফুল=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০৫



তুমি তো আর করলে না যাচাই, মন আমার মন্দ কী ভালো,
প্রেম কথনে ভরালে না মন, ভালোবেসে করলে না মনঘর আলো;
মনের শাখে শাখে ঝুলে আছে মধু মঞ্জুরী ফুল,
কী মুগ্ধতা ছড়িয়ে পাপড়ির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

“Epstein “ বুঝতে পারেন ! কিন্তু রাজাকার,আলবদর,আলশামস আর আজকের Extension লালবদর বুঝতে পারেন না ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:০৮

মূলত এটি একটি ছবি ব্লগ। এক একটি ছবি একটি করে ইতিহাস। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কস্টের অধ্যায়।

এপস্টেইন ফাইল দেখে আপনারা যারা বিচলিত, জেনে রাখুন ভয়াবহ আরেক বর্বরতা ঘটেছিলো ৭১এ এদেশেই, আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×