somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্মৃতি রোমন্থন-৫

০৩ রা নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা ঠাকুরমার বাড়ী যেতাম কোন না কোন ছুটির সময়। যেমন গ্রীষ্মের ছুটি বা শীতের ছুটিতে। তো কোন এক গ্রীষ্মের ছুটিতে বাড়ী গিয়েছি। রাতে ঘুমানোর সময় ঘরের দরজাটা শুধু লাগানো থাকতো। সব জানালা খোলা থাকত। বাড়ীতে বিদ্যুৎ ছিল না, বাতাস আসতো জানালা দিয়ে। আর কোন দিন শুনিনি বাড়ীতে চুরি হতে। তখন ছিল আমের সময়। হঠাৎ রাতে ঘুম ভাঙল ঝড়ের শব্দে আর বৃষ্টির ঝাপটায়। আমি ঘুমের ঘুড়ে হাতড়ে খুজছি ঠাকুরমা কে। তখন দেখলাম ঘরের দরজা খুলা। ঝড়ের বাতাসে আম পড়ছে উঠানে। ঠাকুরমা পাত্র নিয়ে গেছে আম কুড়াতে। আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখছি ঠাকুরমার আম কুড়ানোর দৃশ্য। মুহূর্তের মধ্যে ঠাম্মা নিয়ে আসল ঝুড়ি ভর্তি আম। আমি আম খাবার অদম্য ইচ্ছাটা আর দমিয়ে রাখতে পারি নি ঐ রাতে। মধ্য রাতে আমি আম খাওয়া শুরু করেছিলাম।

চিন্তা করে দেখুন, আপনি কি কখনো মধ্য রাতে আম খেয়েছেন?

আমার কাছে ঐ রাতের স্মৃতি এখনো এত পরিষ্কার যে এখনো মাঝে মাঝে আমি ঐ রাতের বৃষ্টির শব্দ শুনতে পাই চোখ বন্ধ করল।

প্রতিবার বাড়ী থেকে যখন আসতাম কিশোরগঞ্জে, ঠাকুরমা বস্তা ভর্তি করে আম আর কাঁঠাল দিয়ে দিত। ১০ টা গাছের আম খেয়ে শেষ করা যেত না। তাই ঐ আম দিয়ে ঠাকুরমা আম স্বত্ব বানিয়ে রাখতেন। পরের বার বাড়িতে গেলে যেন দিয়ে দিতে পারেন।

আর এখন যখন আমের সিজন আসে তখন আমার অনেক কষ্ট হয়। বাজারে গিয়ে যখন ৬০টাকা কেজি দরে আম কিনি, তখন আমার বুকে বাঁধে।

আমার নতুন দিন শুরু হয়। দাঁত মাজতে মাজতে পুকুর পাড় ঘুরে আসি। মুখ ধুই পুকুরের পানিতে। একটু পর যে পুকুর থেকে মাছ ধরা হবে। বাড়ীতে তখন ঠাম্মা সকালের খাবার রেডি করছে। আইটেম- ঘরে বানানো মুড়ি, নারকেল, ঘি, আম, কাঠাঁল আর চা।

সকালের প্রধান কাজ গুলোর মধ্যে একটা ছিল গরুর দুধ দোহানো দেখা। দাদু করতো কাজটা। খুব মজার ব্যপার ঘটত তখন। আমার দায়িত্ব ছিল বাছুর ধরে রাখা। গরুর দুধ দোহানোর ব্যাপারটরা বুঝতাম না তখন। প্রথমে বাছুর কে আলাদা করে রাখা হতো। সব রেডি করে বাছুরটাকে ছাড়া হতো। আমার কাছে ব্যাপারটা ছিল তখন অমানবিক। গরুর দুধের প্রকৃত দাবিদার হল বাছুর। তকে কেন খেতে দেয়া হবে না ? তার উপর আরো বড় অমাবিক লাগত যে দুধ দোহানোর আগে মিনিট খানেক বাছুর কে দুধ খেতে দিতে হয়। তা না হলে নাকি গরুর বানে দুধ আসেনা। বাছুরটা যখন খাওয়া শুরু করে তখনি ঐটাকে সরিয়ে নেয়া হয়। আপনিই ভাবুন, একটা ৮ বছরের বালকের মনের অবস্থা ! যারা দুধ দোহানো দেখেছেন তারাও কি এই বিষয়টা লক্ষ্য করেছেন?

দুধ জাল দেবার পর আমার জন্য বরাদ্দ ছিল স্টিলের গ্লাসে আধা গ্লাস সর। কারণ আমি দুধ খেতে চাইতাম না । এখনো আমি দুধ খেতে পারিনা।
ছোট কাকাকে এরি মধ্যে আমি তাগদা দিতে থাকতাম কখন মাছ ধরব পুকুর থেকে?


.....চলবে।


সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:০৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

প্রিয় সহব্লগার,
একসময় সামু ছিল আমাদের ছোট্ট এক মহাবিশ্ব।
দৈনিক গড়ে তিন-চারশ' ব্লগার অনলাইনে থাকতেন। প্রতি মিনিটেই নতুন নতুন পোস্ট আসত। কেউ গল্প লিখছেন, কেউ কবিতা, কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্য ধর্মের অনুসারীদের সাথে সদয় আচরণ করলে আল্লাহর ভালোবাসা পাবেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৭

১) "দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে নিজ দেশ থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদয় আচরণ ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেননি। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ২২ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭



বাংলাদেশে শেষ কবে সিনেমা হলে গিয়ে মুভি দেখেছিলাম মনে নাই। গতকাল সন্ধ্যায় আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলাম, স্টার সিনেপ্লেক্স মুভি থিয়েটারে। এখন আর আগের মতন সিনেমা হল নেই। অনেক কিছু বদলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে প্রথম ১০০০০০ মন্তব্যপ্রাপ্ত রাজীব নুর'কে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা!!

লিখেছেন বিজন রয়, ২২ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০



প্রাপ্ত মন্তব্য ১,০০,০০০!!
ঐতিহাসিক!

এই ব্লগের ইতিহাসে রাজীব নুর আপনি সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্য পেয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন!

আপনাকে অভিনন্দন আর শুভেচ্ছা প্রাণঢালা।

আপনি আবার এই ব্লগে সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্যকারীও বটে!
সেটা নিয়ে আমি এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×