somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজিন রিভিউ: Jurassic World

১৩ ই জুন, ২০১৫ রাত ১১:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


“দোস্ত! গাঞ্জা দে ...”
“গাঞ্জা নাই!”
“গাঞ্জা নাই তো কিইনা আন”
“গাঞ্জা কিনার টেকা নাই”
“ট্যাকা না থাকলে জুরাসিক পার্ক মুভি বানা!”
“ভালা বুদ্ধি!”
এভাবেই কয়েকটি গাঞ্জাখোড়দের অর্থপ্রাপ্তি লোভের নতুন পণ্য “Jurassic World”।

কাহিনী জানা যাক। ১৯৯৩ সালের জুরাসিক পার্কের ঘটনার ২২ বছর হয়ে গেছে। একই জায়গায় গড়ে উঠেছে নতুন “জুরাসিক ওয়ার্ল্ড”। পার্কটি সবার জন্য খোলা প্রায় অনেকদিন হলো। কীভাবে যে পার্কটি কার্যকরী হলো আল্লাহ মালুম। যাই হোক জুরাসিক ওয়ার্ল্ডের ব্যবসাতে কিছুটা মন্দা যাচ্ছে। ডায়নোসর গুলার দিকে মানুষ এমনে তাকায় যেন হাতি দেখে। আরে ব্যবসা চলবো ক্যামনে? এত দামি একটা পার্ক কিন্তু একটাও রোলার কোস্টারও নাই।

জুরাসিক ওয়ার্ল্ডের নতুন মালিক ইরফান খান মুভির লেখকদের চেয়েও বড় গাঞ্জাখোড়। নতুন ডায়নোসর বানাও যেটা টি-রেক্সের চেয়েও ভয়াবহ হবে। ভালো কথা। বানানো হলো ইন্ডোমিনাস রেক্স। ইন্ডোমিনাসের ডি এন এ তে কিছুটা টি-রেক্স আর বাকীটা কই থেকে নকল করছি কেউ জানে না। যাইহোক ইন্ডোমিনাসের উচ্চতা যখন ৫০ ফুট তখন খাঁচাতে সিমেন্ট ঢালা হচ্ছে। খাঁচাটা ঠিক আছে কিনা সেটা দেখার জন্য ডাক পড়ে নায়কের ( Chris Pratt)। তারপরেই ঘটে বিরাট অঘটন। পুরা পার্কে ব্যায়াম করে বেড়ায় এই ইন্ডোমিনাস। ক্যামনে তাকে থামানো সম্ভব?

মুভিটি কেন দেখতে যাবেন? ডায়নোসর দেখতে? তাহলে হতাশ হবেন না। ডায়নোসরগুলির দৃশ্যগুলি একেবারে দুর্দান্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে ইন্ডোমিনাস রেক্সের দৃশ্যগুলি আসলেই ফাটাফাটি। শেষের দৃশ্যে কিন্তু আমিও তালি দিয়েছি।

কিন্তু মনে রাখতে হবে এটি কোন মুভির উত্তরসূরি। ১৯৯৩ সালের জুরাসিক পার্ক একটি ক্লাসিক মুভি। চিত্রায়ন নির্ভর সেই মুভিটি এই যুগেও অসাধারণ লাগে। শুধুমাত্র ডায়নোসর চিত্রায়ন নয়; মুভিটিতে ছিলো কাহিনী এবং শক্তিশালী চরিত্র। এমনসব চরিত্র, যাদের সাথে দর্শকদের সম্পর্ক তৈরী হয়। নতুন মুভিটিতে চিত্রায়ন অসাধারণ হলেও প্রত্যেকটি চরিত্র একেবারে বিরক্তিকর। এ মুভির সেরা চরিত্র হচ্ছে ইন্ডোমিনাস। অন্য কোন চরিত্রের দৃশ্য এলেই মনে হয় “ইন্ডোমিনাসরে দেখা রে ব্যাটা”। তবে ইন্ডোমিনাসকে নিয়ে আরো একটু কাহিনী হয়তো আগানো যেত।

অভিনয়ের দিক দিয়ে Chris Pratt কিছুটা ভালো করলেও বাকি সবাই ছিল ভুয়া। Bryce Dallas Howard অত্যন্ত প্রতিভাশালী অভিনেত্রী হলেও তাকে সবচাইতে বিরক্তিকর লেগেছে। নায়ক-নায়িকা ছাড়াও আজেবাজে চরিত্রের অভাব নেই এই মুভিতে। প্রায় দুঘণ্টার মুভিতে প্রথম ৩০ মিনিটের মতো খালি হুদা কামের দৃশ্য।

মুভিটি বানানো কথা প্রায় ১৪ বছর ধরেই চলে আসছে। এতদিন অপেক্ষার পর মুভিটিকে কীভাবে পয়সা বানানোর যন্ত্র বানানো যায় সেটাই এতদিন ধরে হয়তো চিন্তা ভাবনা করা হয়েছে। কীভাবে নতুন একটি ডায়নোসর দেখানো যায়, কীভাবে ১৯৯৩ সালের মুভিটির কথা মনে করানো যায়, এবং শেষ দৃশ্যে কী কী দেখালে মানুষ খুশি হবে সবই করা হয়েছে। কিন্তু চিত্রনাট্যে কোন প্রাণ নেই। শেষ দৃশ্যে আমি তালি দিয়েছি কিন্তু হাসতে হাসতে পড়ে গেছি:” এই টা কী হইতেসে?”। মুভিটিতে কোনই যুক্তি নেই। এছাড়া এমুভিটি আগের গুলির মত সায়েন্স ফিকশান না হয়ে বরং মনস্টার মুভি হয়ে গেছে।

যাই হোক। মুভিটি দেখে খুব একটা হতাশাগ্রস্ত না হলেও এ মুভির পরবর্তী পর্ব দেখতে খুব একটা আগ্রহী হবো না। মুভিটি জুরাসিক পার্ক-৩ এর চেয়ে অনেক ভালো। কাহিনী এবং চিত্রনাট্যের কোন যুক্তি না খুঁজে মুভিটি দেখলে বেশ উপভোগ্যই মনে হবে।

রেটিং – ২.০ / ৫.০
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুন, ২০১৫ রাত ১১:৪৯
১০টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবির কথা আমার মুভি উতল অপেক্ষা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




আজ একটা নতুন খবর ভাগ করে নেই সবার সাথে। অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম, নিজের গল্প দিয়ে যদি নাটক বা সিনেমা করা যেত। ভাবনা এক সময় সত্যি হয়ে গেলো।
দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×