
খাইয়া দাইয়া কাম নাই? সোনাম কাপুরের মুভি দেখুম? তার উপর এই কাহিনী নিয়া মুভি খুব বেশি জুইতের হওয়ার কথা না। যাই হোক, আসলেই একদিন বিকালের নাস্তার পর কোন কাম ছিল না। দেখি মুভিটা। পুরাই টাস্কি! এইটা সেই সোনাম কাপুর?
কাহিনী জানা যাক। নীর্জা ভানোত ( সোনাম কাপুর) সদ্য বিমান বালার চাকরীতে যোগদান করেছে। প্রথমবারের মত হেড পার্সন হিসেবে একটি ফ্লাইটে নিজের কাজে ব্যস্ত। ফ্লাইটটি মুম্বাই থেকে করাচী হয়ে ফ্রাংকফুর্টের দিকে রওনা হবার কথা। করাচীতেই লাগলো কুফা। ফিলিস্তিনি কিছু জঙ্গী হাইজ্যাক করে প্লেনটি। তারপরই হতে থাকে ভয়ংকর সব ঘটনা।
সত্য ঘটনা নিয়ে মুভি করার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মুভিতে চমক দেবার তেমন কিছু থাকে না। মানুষ চাইলেই সব কাহিনীর গুষ্ঠি উদ্ধার করতে পারে। তবুও দারুনভাবে নির্মিত হয়েছে মুভিটি। প্লেন হাইজ্যাকের ভয়াবহতাটি সবাই অনুভব করতে পারবে। প্লেনে চলাকালীন এই মুভিটি দেখলে কেউ ঘুমাইতে পারবে না। পরিচালক রাম মাধবনী নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবীদার।
অভিনয়ে আগেই বলেছি সোনাম কাপুর পুরাই চমকায় দিসে। শুধু প্লেনের হাইজ্যাকিং ছাড়াও নীর্জার বৈবাহিক জীবনের দ্বন্দ্ব নিয়ে দৃশ্যগুলিতে পুরাই কোপায় ফেলসে। এছাড়াও শাবানা আজমী বরাবরের মতই দারুন। জঙ্গী চরিত্রে জিম সর্ভের অভিনয় মারাত্মক হয়েছে। পুরাই ভয় খাওয়ায় দেওয়া টাইপ। অভিনয়ে আরেকজন চমক দিয়েছেন ভিশাল-শেখরের জুটির শেখর।
নীর্জা ভানোত সম্পর্কে জানতে পেরে খুবই ভালো লেগেছে । এই ভয়াবহ ঘটনার পর নীর্জা ভানোতকে ভারতের সাহসিকতার সর্বোচ্চ পুরস্কার অশোক চক্র দেওয়া হয়। তাঁর সাহসিকতা সত্যিই অনুপ্রেরণা জোগায়।
মুভিটি মাঝের দিকে কিছুটা বোরিং হয়ে যায়। মুভিটিকে অনেকেই নিখুঁত বললেও মুভিটি খুব বেশি রোমাঞ্চকর নয়। তবে বেশ কিছু দৃশ্য চোখে পানি আসা নিশ্চিত।
মুভিটি পাকিস্তানে নিষিদ্ধ করেছে যেটা কিছু ভারতীয়দের অবাক করেছে। যদিও আমার মতে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে বেশ বেকুবই দেখানো হয়েছে। এছাড়া করাচীর এয়ারপোর্টের নিরাপত্তা, মোহাম্মদপুরের ফিজিকাল কলেজের মাঠের মতো মনে হয়েছে।
মুভিটি বেশ ভালো ব্যবসা করছে। সোনাম কাপুর দারুন এক নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। সোনাম কাপুরের এটা সেরা অভিনয় বলাটা তেমন কিছু প্রকাশ যদিও করেনা। সব মিলিয়ে বেশ ভালো মুভি।
রেটিং – ৩.৫ / ৫.০
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০১৬ দুপুর ১:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



