আপনারা হয়তো ভাবছেন, এতো কিছু থাকতে আমি ব্লগ লেখার জন্য কেন এই বিষয়টা বেছে নিলাম, কারণ এটা এমন একটা ব্যবসা যেখানে অনেক মানুষ নিজের পুঁজি হারিয়ে আজ নিঃস্ব। তারপর ও ব্যবসাতে শেষ বলে কোনো কথা নেই।
প্রথমে পুজিবাজারে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্থ যেসমস্ত বিনিয়োগকারী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন, তাদের আত্মার সদগতি কামনা করছি ও তাদের পরিবার কে সমবেদনা জানাচ্ছি। পুজিবাজার হল একটা দেশের ব্যারোমিটার এর মত, যাকে দেখে ওই দেশের অর্থনীতির অবস্থা পরিমাপ করা যায়। পুজিবাজার ধ্বংস হলে ওই দেশের অর্থনীতি টিকতে পারে না, কেননা এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, লোকবলের উপর চরম প্রভাব পড়ে। তাই আজ হোক, কাল হোক আমাদের বাজার অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াবে।
পুজিবাজারে সাধারণত, নিজের অলস টাকা নিয়ে আসবেন, নয়তো ব্যবসা করে মজা পাবেন না। আর এই ব্যবসাটা সম্পূর্ণ নিজের মতামতে করবেন, কারো প্ররোচনায় না, কারণ লাভ-ক্ষতি তো আপনার।
শেয়ারবাজারে ধ্বসের কারণে মিডিয়াতে ব্যাপক ফলোয়াপের কারণে, বাংলাদেশের প্রায় মানুষই এখন কোনো না কোনো ভাবে এই ব্যবসার সাথে পরিচিত। তাই অনেকেই এর সম্পর্কে কিছু না কিছু ধারণা রাখেন। তারপর ও আমি আমার অভিজ্ঞতার আলোকে আপনাদের কিছু ধারণা দিচ্ছি। যারা এই ব্যবসা ভালোভাবে জানেন, বুঝেন, পারেন তারা এখানে মাথা না ঘামালে ও চলবে। শুধুমাত্র যারা নবীশ, এই ব্যবসা শুরু করতে চান, এই পোস্টটা শুধুমাত্র তাদের জন্য। আমি আমার ধারাবাহিক কয়েকটি পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের কে এই ব্যবসার প্রাথমিক কিছু ধারণা দিব।
আজ আমি আমার পোস্টের মাধ্যমে কিভাবে আপনি শেয়ার ব্যবসা শুরু করবেন, তার একটা ধারণা দিব। এখানে বলে রাখা ভালো যে, বাংলাদেশে শেয়ার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে এসইসি(সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন)। এর অধীনে বাংলাদেশে দুইটা বাজার আছে। একটা হল ডিএসই(ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ) এবং সিএসই(চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ)। এই দুইটার অধীনে দেশে অনেক ব্রোকারেজ হাউস আছে, যাদের অনেক গুলো শাখা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে আছে।
প্রথমত, শেয়ার ব্যবসায় নামতে হলে আপনাকে বাংলাদেশের যেকোনো ব্যাংকে(অনলাইন হলে আপনার সুবিধা) একটি ব্যাংক হিসাব খুলতে হবে।
দ্বিতীয়ত, শেয়ার ব্যবসা করার জন্য এসইসির অনুমোদিত, সিএসই অথবা ডিএসই-র অধীনে কিছু ব্রোকারেজ হাউস আছে, সেখানে বিও একাউন্ট(বেনিফিসারি ওনার একাউন্ট) খুলতে হবে।
আমি আপনাকে বলে রাখি যে আপনি একটি ব্যাংক হিসাব দিয়ে দুইটি বিও একাউন্ট খুলতে পারবেন। আপনার জ্ঞাতার্থে বলছি, একজন সাধারণ শেয়ার ব্যবসায়ী উনার নামে সর্ব্বোচ্চ দুইটা বিও একাউন্টের মালিক হতে পারবেন। একটি নিজের নামে এবং অন্যটি একটি জয়েন্ট হিসেবে(নিজের সাথে নিকটাত্মীয় কারো নাম দিয়ে)। এখানে বলে রাখা ভালো যে, ব্রোকারেজ হাউসগুলো খুব অল্প টাকার বিনিময়ে বিও একাউন্ট খুলার সুযোগ করে দেয়। সাধারণত ৬০০টাকা থেকে এই হিসাব খুলা যায়। হাউস ভেদে এই একাউন্ট ফি ভিন্ন। এর মধ্যে প্রতিটি হাউসেই প্রতি বছরে একাউন্ট রক্ষাণাবেক্ষণ ফি হিসেবে ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়। কোনো হাউস এ এক/দুই বছরের ফি এক সাথে নেওয়া হয় এবং এই টাকার সাথে কিছু ফরম ফি নেওয়া হয়।
তৃতীয়ত, সাধারণ শেয়ার ব্যবসার জন্য, বিও হিসাব দুই প্রকার। সিঙ্গেল(ইন্ডিভিজুয়াল) ও জয়েন্ট। সিঙ্গেল একাউন্ট খুলতে হলে প্রায় ব্রোকারেজ হাউস এ একাউন্ট মালিকের দুইটা পাসপোর্ট সাইজ ছবি, ব্যাংক হিসাবের একটা ডকুমেন্ট, জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি, একাউন্টের যিনি নমিনি থাকবেন তার একটা পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি লাগে। আর জয়েন্ট একাউন্ট খুলতে হলে প্রায় ব্রোকারেজ হাউস এ দুই একাউন্ট মালিকের দুইটা করে চারটা পাসপোর্ট সাইজ ছবি, ব্যাংক হিসাবের একটা ডকুমেন্ট, দুই জনেরই জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি লাগবে। আর সাধারণত জয়েন্ট একাউন্টের ক্ষেত্রে নমিনি লাগে না।
চতুর্থত, আপনি এই ডকুমেন্টসমূহ সহকারে কোনো একটা ব্রোকারেজ হাউসে গেলে, আপনাকে হিসাব খুলার জন্য একটা ফরম দেওয়া হবে। ফরম টা পূরণে উনাদের কারো সাহায্যে পূরণ করে জমা দিন। জমা দেওয়ার কয়েকদিন পরে আপনাকে একটা প্রাপ্তি স্বীকার পত্র দেওয়া হবে। সেই সাথে ওই হাউস এ লেনদেন করার জন্য একটা হিসাব নম্বর দেওয়া হবে এবং প্রাপ্তি স্বীকার পত্রে সিএসই অথবা ডিএসই-র অধীনে একটা হিসাব নম্বর দেওয়া হবে।
এভাবে আপনি আপনার শেয়ার ব্যবসার প্রাথমিক ধাপ পেরোতে পারবেন। পরবর্তী পোস্টে আমি আরো বিশদ আলোচনা করব.।.।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




