গত কয়েকদিন ধরে খুব বেশি ব্যস্ত ছিলাম। দু'চোখের পাতা এক মুহুর্তের জন্যেও এক করার সময় পাইনি, এ কাজ, সে কাজ, আড্ডা, গানবাজনা, হৈ হুল্লোর...আমার সবচেয়ে পিচ্চি সবচেয়ে আদুরে কাজিনের বিয়ে বলে কথা!!
বাসায় ফিরছি সবাই, মাত্র একঘন্টার পথ।জানালার পাশের সিট টায় আমি বসেছি, বসেই বুঝতে পারলাম কতোটা ক্লান্ত আমি, মনেহচ্ছে অনন্তকাল ধরে দাড়িয়ে ছিলাম।দু'চোখ বন্ধ হয়ে আসছে ঘুম আর ক্লান্তিতে।এতোটা ঘুম কোথায় লুকিয়ে ছিলো একয়দিন??
কিছুটা তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিলাম,কেটে গেলো কাজিনের ডাকে..
"আপি দেখো কত্তো সুন্দর চাঁদ"
"উহমম নিধি বিরক্ত করিসনাতো, ঘুমোতে দে"
"দেখোনা আপি, একটু, শুধু একবার প্লিজ.."
"এত্তো জালাতন করিস যে তুই,তোর ইচ্ছে হলে তুই দেখ"
আমি চোখ বন্ধ করে কথা গুলো বললাম।
জানি আমি না তাকানো পর্যন্ত ও বকবক করেই যাবে।ভালো যে লাগেনা তা না,কিন্তু আজ আর সত্যিই ইচ্ছে করছে না।অনিচ্ছা সত্বেও তাকালাম,আসলেই অনেক সুন্দর চাঁদটা, ঠিক যেনো রুপোর থালাতে একরাশ আবির ছড়ানো, সে অসাধারন সৌন্দর্যের কাছে সবকিছুই ম্লান,এতোটাই সুন্দর যে নিজেকে তার মাঝে হারিয়ে দিতে ইচ্ছে করছে।
তবুও কোথায় যেন কি নেই, কোথায় যেন একটু খানি অপুর্ণতা।চাঁদ টা যেন সেই রাতের চাঁদের মতো অতোটা সুন্দর না,হয়তো আমার প্রিয় মানুষটা আমার পাশে ছিলো বলেই অতোটা সুন্দর ছিলো সে চাঁদটা।
আমায় যদি কেউ কখনো জিজ্ঞেস করে আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মুহুর্ত কোনটা, আমি বলবো সেই রাতটার কথা নির্দ্বিধায়।
কেউ কি কখনো আমার মতো করে পুর্নিমা দেখেছে...মনে হয়না...দেখবেই বা কি করে..এই বোকা পাখিটা যে পৃথিবীতে শুধু আমারই আছে......আসলেই আমি একটা পাগলি।
.......................সত্যিই ভুলে গিয়েছিলাম যে সেটা ছিলো পুর্নিমার রাত, হয়তো তুমি জানতে আমি ভুলে গেছি, ইচ্ছে করেই জানাওনি, শুধু আমাকে সারপ্রাইজ দেবে বলে।তুমি জানতে ছাদ ভরা জোৎস্না দেখলেই পাগলামি ভর করে আমার মধ্যে!!
রাতের খাবার শেষে হাতের কাজ তখনো শেষ হয়নি আমার,হঠাৎ তোমার ফোন।অবাক হয়ে ফোন রিসিভ করতে করতে ভাবছি এটা আবার কেমন ছেলেমানুষি,ঘরের মধ্যে থেকেই ফোন,আজব!!
"হ্যালো"
"এক মগ কফি নিয়ে একটু ছাদে আসবে প্লিজ??"
"তুমি আবার কখন ছাদে গেলে?"
"কোনো কথা না,প্লিজ সোনা আসো"
"আচ্ছা আসছি"
ছাদে গিয়ে কিছুক্ষন অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম আমার পাগলটার কান্ড দেখে, পুরো ছাদ এ মোম জ্বালানো,মাঝে বসবার ব্যবস্থা।
"কোনো একদিন কথাচ্চলে বলা এ স্বপ্নটাকে তুমি এখনো মনে রেখেছো?"
তুমি শুধুই হাসলে, কিচ্ছু বলার প্রয়োজনও ছিলোনা তখন,তোমার হাসি আর দুষ্টুমিভরা চাহনিই সব বলছিলো।আমি জানি তুমি আমাকে কতোটা ভালোবাসো, মাঝে মাঝে মনে হয় হয়তো আমার চেয়েও অনেকগুন বেশি।
আমার দিব্যি মনে আছে সে মুহুর্তগুলোর কথা, তোমার কাধে মাথা রেখে চাঁদ দেখা, আমার বেসুরো গুন গুন , তোমার নাটোরের বনলতা, কিছু স্বপ্নের ভাগাভাগি, কিছু স্বপ্নজাল দু'জনে বোনা, অথবা গড়েতোলা রঙ্গিন স্বপ্নিল কোনো কল্পরাজ্য।
এভাবে কখন যে ভোর হয়ে গিয়েছিলো দু'জনের কেউই বুঝিনি।সত্যিই যদি আমার কাছে কোনো টাইম মেশিন থাকতো তবে আবার ফিরে যেতাম ঐ রাতে আর থামিয়ে দিতাম সময়কে চিরদিনের জন্যে,শুধু একজন প্রিয়মানুষের সঙ্গি হবার লোভে।
"আপি ওঠো"
অতীত থেকে হঠাৎই যেন ফিরে আসি বাস্তবে..
"পৌছে গেছি?এতো তাড়াতাড়ি?"
"জ্বি ম্যাডাম, কোন জগতে ছিলেন আপনি? বুঝি বুঝি সব বুঝি!!"
"থাক আর পাকামো করতে হবেনা পাকাবুড়ি"
নিধি হাসছে।
আমিও মনে মনে হাসছি।সুন্দর জিনিস গুলো আসলেই একটু কেমন যেনো,নস্টালজিক করে ফেলে নিমেষেই।
আমার প্রিয় মানুষটা আজ অনেক দুরে,জীবিকার তাগিদে হাজার হাজার মাইল দুরে আমাদের বসবাস।হয়তো কিছুটা হলেও প্রযুক্তি সে দুরত্ব কমিয়ে দিয়েছে,কিন্তু সেতো আর দিতে পারছেনা এক কাপে কফি ভাগাভাগি বা প্রিয় মানুষের কাধে মাথা রেখে চাঁদ দেখার অনুভুতি।
প্রতি পুর্নিমায় চাঁদ পুর্নতা পায়, কিন্তু আমি...............
আমার পুর্নতা যে শুধু তোমাতে,অবচেতন এই মন আমার তাই প্রতি মুহুর্তে খুজে বেড়ায় তার প্রিয় মুখটিকে,প্রতিক্ষা করে তার পথপানে চেয়ে................
আলোচিত ব্লগ
মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন
এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)
এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সংকীর্ণ মন

রাস্তার মোড় যেনো সংকীর্ণ মন
ঘর উঠনে রাখবে আর কত কাল
চোখের নেশায় লালসার আগুন
জ্বলছে নিভবে না আর অমরণ
কখন মন জানালায় দেখেছ পায়রা
ভাবনার সফলী মাঠে যাচ্ছে উড়ে
দেখো নাই যে শান্তির পায়রা মন-
সংকীর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন
জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন
ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।