somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চোরাবালি -১

২২ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১০:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত কয়েকদিন ধরে খুব বেশি ব্যস্ত ছিলাম। দু'চোখের পাতা এক মুহুর্তের জন্যেও এক করার সময় পাইনি, এ কাজ, সে কাজ, আড্ডা, গানবাজনা, হৈ হুল্লোর...আমার সবচেয়ে পিচ্চি সবচেয়ে আদুরে কাজিনের বিয়ে বলে কথা!!

বাসায় ফিরছি সবাই, মাত্র একঘন্টার পথ।জানালার পাশের সিট টায় আমি বসেছি, বসেই বুঝতে পারলাম কতোটা ক্লান্ত আমি, মনেহচ্ছে অনন্তকাল ধরে দাড়িয়ে ছিলাম।দু'চোখ বন্ধ হয়ে আসছে ঘুম আর ক্লান্তিতে।এতোটা ঘুম কোথায় লুকিয়ে ছিলো একয়দিন??

কিছুটা তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিলাম,কেটে গেলো কাজিনের ডাকে..
"আপি দেখো কত্তো সুন্দর চাঁদ"
"উহমম নিধি বিরক্ত করিসনাতো, ঘুমোতে দে"
"দেখোনা আপি, একটু, শুধু একবার প্লিজ.."
"এত্তো জালাতন করিস যে তুই,তোর ইচ্ছে হলে তুই দেখ"
আমি চোখ বন্ধ করে কথা গুলো বললাম।

জানি আমি না তাকানো পর্যন্ত ও বকবক করেই যাবে।ভালো যে লাগেনা তা না,কিন্তু আজ আর সত্যিই ইচ্ছে করছে না।অনিচ্ছা সত্বেও তাকালাম,আসলেই অনেক সুন্দর চাঁদটা, ঠিক যেনো রুপোর থালাতে একরাশ আবির ছড়ানো, সে অসাধারন সৌন্দর্যের কাছে সবকিছুই ম্লান,এতোটাই সুন্দর যে নিজেকে তার মাঝে হারিয়ে দিতে ইচ্ছে করছে।

তবুও কোথায় যেন কি নেই, কোথায় যেন একটু খানি অপুর্ণতা।চাঁদ টা যেন সেই রাতের চাঁদের মতো অতোটা সুন্দর না,হয়তো আমার প্রিয় মানুষটা আমার পাশে ছিলো বলেই অতোটা সুন্দর ছিলো সে চাঁদটা।

আমায় যদি কেউ কখনো জিজ্ঞেস করে আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মুহুর্ত কোনটা, আমি বলবো সেই রাতটার কথা নির্দ্বিধায়।

কেউ কি কখনো আমার মতো করে পুর্নিমা দেখেছে...মনে হয়না...দেখবেই বা কি করে..এই বোকা পাখিটা যে পৃথিবীতে শুধু আমারই আছে......আসলেই আমি একটা পাগলি।

.......................সত্যিই ভুলে গিয়েছিলাম যে সেটা ছিলো পুর্নিমার রাত, হয়তো তুমি জানতে আমি ভুলে গেছি, ইচ্ছে করেই জানাওনি, শুধু আমাকে সারপ্রাইজ দেবে বলে।তুমি জানতে ছাদ ভরা জোৎস্না দেখলেই পাগলামি ভর করে আমার মধ্যে!!
রাতের খাবার শেষে হাতের কাজ তখনো শেষ হয়নি আমার,হঠাৎ তোমার ফোন।অবাক হয়ে ফোন রিসিভ করতে করতে ভাবছি এটা আবার কেমন ছেলেমানুষি,ঘরের মধ্যে থেকেই ফোন,আজব!!
"হ্যালো"
"এক মগ কফি নিয়ে একটু ছাদে আসবে প্লিজ??"
"তুমি আবার কখন ছাদে গেলে?"
"কোনো কথা না,প্লিজ সোনা আসো"
"আচ্ছা আসছি"
ছাদে গিয়ে কিছুক্ষন অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম আমার পাগলটার কান্ড দেখে, পুরো ছাদ এ মোম জ্বালানো,মাঝে বসবার ব্যবস্থা।
"কোনো একদিন কথাচ্চলে বলা এ স্বপ্নটাকে তুমি এখনো মনে রেখেছো?"
তুমি শুধুই হাসলে, কিচ্ছু বলার প্রয়োজনও ছিলোনা তখন,তোমার হাসি আর দুষ্টুমিভরা চাহনিই সব বলছিলো।আমি জানি তুমি আমাকে কতোটা ভালোবাসো, মাঝে মাঝে মনে হয় হয়তো আমার চেয়েও অনেকগুন বেশি।
আমার দিব্যি মনে আছে সে মুহুর্তগুলোর কথা, তোমার কাধে মাথা রেখে চাঁদ দেখা, আমার বেসুরো গুন গুন , তোমার নাটোরের বনলতা, কিছু স্বপ্নের ভাগাভাগি, কিছু স্বপ্নজাল দু'জনে বোনা, অথবা গড়েতোলা রঙ্গিন স্বপ্নিল কোনো কল্পরাজ্য।
এভাবে কখন যে ভোর হয়ে গিয়েছিলো দু'জনের কেউই বুঝিনি।সত্যিই যদি আমার কাছে কোনো টাইম মেশিন থাকতো তবে আবার ফিরে যেতাম ঐ রাতে আর থামিয়ে দিতাম সময়কে চিরদিনের জন্যে,শুধু একজন প্রিয়মানুষের সঙ্গি হবার লোভে।

"আপি ওঠো"
অতীত থেকে হঠাৎই যেন ফিরে আসি বাস্তবে..
"পৌছে গেছি?এতো তাড়াতাড়ি?"

"জ্বি ম্যাডাম, কোন জগতে ছিলেন আপনি? বুঝি বুঝি সব বুঝি!!"
"থাক আর পাকামো করতে হবেনা পাকাবুড়ি"
নিধি হাসছে।

আমিও মনে মনে হাসছি।সুন্দর জিনিস গুলো আসলেই একটু কেমন যেনো,নস্টালজিক করে ফেলে নিমেষেই।

আমার প্রিয় মানুষটা আজ অনেক দুরে,জীবিকার তাগিদে হাজার হাজার মাইল দুরে আমাদের বসবাস।হয়তো কিছুটা হলেও প্রযুক্তি সে দুরত্ব কমিয়ে দিয়েছে,কিন্তু সেতো আর দিতে পারছেনা এক কাপে কফি ভাগাভাগি বা প্রিয় মানুষের কাধে মাথা রেখে চাঁদ দেখার অনুভুতি।

প্রতি পুর্নিমায় চাঁদ পুর্নতা পায়, কিন্তু আমি...............
আমার পুর্নতা যে শুধু তোমাতে,অবচেতন এই মন আমার তাই প্রতি মুহুর্তে খুজে বেড়ায় তার প্রিয় মুখটিকে,প্রতিক্ষা করে তার পথপানে চেয়ে................
১০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গ্রেট প্রেমানন্দ মহারাজ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



'প্রেমানন্দ' একজন ভারতীয় হিন্দু তপস্বী ও গুরু।
১৯৭১ সালে কানপুরের কাছে 'আখরি' গ্রামে তার জন্ম। দরিদ্র পরিবারে জন্ম। ১৩ বছর বয়সে প্রেমানন্দ সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য গৃহ ত্যাগ করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুতাপ (ছোট গল্প)

লিখেছেন আবু সিদ, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৯

একনাগাড়ে ৪-৫ বছর কাজ করার পর রহিমের মনে হলো, নাহ! এবার আরেকটা চাকরি দেখি। লোকাল একটা কোম্পানিতে কাজ করত সে। কিন্তু কোনকিছু করার জন্য শুধু ভাবনাই যথেষ্ট নয়। সে চাকরির... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩


করোনার সময় নানান উত্থান পতন ছিল আমাদের, আব্বা মা ছোটবোন সহ আমি নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় মরে যেতে যেতে বেঁচে গিয়েছিলাম শেষ মুহূর্তে, বেঁচে গিয়েছিল আমাদের ছোট্ট সোনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১০



আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৩)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



সূরাঃ ১৩ রাদ, ১১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১। মানুষের জন্য তার সম্মুখে ও পশ্চাতে একের পর এক প্রহরী থাকে। উহারা আল্লাহর আদেশে তার রক্ষণাবেক্ষণ করে। আর আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×