
সৌরবর্ষ আমাদের কাছে ঈসায়ী বা খ্রিস্টীয় সন বলে পরিচিত| সূর্য নিজ কক্ষপথে একবার ঘুরে আসতে ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড সময় লাগে| সময়ের এই পরিমন্ডলকেই সৌরবর্ষ বলে| আর সদ্য জন্ম নেয়া বর্ষকে আধুনিক পরিভাষায় নববর্ষ বলে|
আগে এটা সামাজিকভাবে পালিত হলেও বর্তমানে পৃথিবীর সর্বত্র কোন না কোনভাবে পালিত হয়| পশ্চাত্যের খ্রীস্টান জগতে অতি আনন্দঘন পরিবেশ, জমকালো আলোকসজ্জা, জমজমাট পার্টি এবং উদ্দাম নৃত-সঙ্গীতের মধ্যো দিয়ে পালিত হয় এই নববর্ষ| যিশুখৃস্টের উর্দ্বাহরণের ৩০০ বছরেরও কিছু পর থেকে পোপ সেইন্ট সিলভেন্টারকে উৎসর্গ করে ক্যাথলিক গীর্জা সমুহে বড় ধরণের প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হত| মোটামুটিভাবে এটাই ছিল খ্রীস্টিয় নববর্ষ উদযাপনের ইতিবৃত্ত|
তবে আমাদের উপমহাদেশের মুসলমানরা এই খ্রীস্টিয় নববর্ষ উদযাপন শুরু করে ইংরেজ শাসনামল থেকে| ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন ইউরোপের যে ছোট্ট বীজটা পলাশীর আম্রকাননে রোপণ করা হয় কিছু ভুঁইফোড় স্বদেশী দালালদের কল্যাণে, যা ১৯৪৭ ইং সাল নাগাদ প্রায় ১৯০ বছরের দীর্ঘায়ু লাভ করে বিস্তৃত ডাল-পালায় পল্লবিত হয়ে কাবুল থেকে সিংগাপুর পর্যন্ত জঙ্গলে ঢেকে দেয় | ১৯৪৭ সালে ইংরেজরা যদিও হামাগুড়ি দিয়ে পালিয়েছে এদেশ থেকে, কিন্তু তাদের বিলেতি প্রভাব বলবৎ রয়েছে আমাদের পোশাক-পরিচ্ছেদে, শিক্ষায়, সভ্যতায় এবং অফিস আদালতে| তাদের খ্রীস্টিয় ক্যালেন্ডারও চাপিয়ে দিয়ে গেছে আমাদের উপর| তখন সরকারী, বেসরকারী কাজে ইংরেজী তারিখ কার্যকর ছিল, যেমন এখনো রয়েছে। সুতরাং থার্টিফার্স্ট নাইটের সাথে ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণের সখ্যতা গড়ে উঠে তখন থেকেই- একথা বলা ভুল হবে না।
নিজস্ব স্বকীয়তা ও বোধ বজায় রেখে নববর্ষ উদযাপন করা কিছুতেই দোষণীয় নয়। এছাড়া হারানো অতিত খুঁজে ভবিষ্যতের লক্ষ্য নির্ধারণ, পেছনে ফেলে আসা একটি বছরের প্রাপ্তি ও হারানোর হিসাব-নিকাশ কষে দেখা অবশ্যই উত্তম কাজ। নতুন বছরে সকল ভুল শুধরে দৃঢ় প্রত্যয়ে আগামীর পথচলার নীতি নির্ধারণ করা প্রকৃত মানুষের কাজ। কিন্তু বিপত্তি দেখা দেয় যখন এই শুভ নববর্ষ উদযাপনের নামে অশুভ "থার্টিফার্স্ট নাইট" নামক নতুন উপসর্গ আমাদের পরিশীলিত জীবনানুভূতিতে অন্যায়ভাবে পুশইন করা হয়। উচ্ছৃঙ্খল তারুণ্যের উল্লাস প্রদর্শন আর অশ্লীল কর্মকান্ডের প্রকাশ্য দৃশ্যায়ন যার প্রধান উপজীব্য। যতখানি না আনন্দ, তারচেয়ে বেশী ভয়-আশংকা ও দুর্ঘটনা, দুর্ভাবনা যার অমোঘ পরিণতি। শুভ নববর্ষের এই প্রথম প্রহরে মানবিকতার সুস্থ বিকাশ ও বৈধ বিনোদন চর্চাকে ব্যহত করে। অবাধ মদ্যপান ও খোলামেলাভাবে নারী-পুরুষের সহানন্দ ভোগ যা ব্যভিচার ও ধর্ষণ পর্যন্ত গড়ায়, তা দিয়ে মাতিয়ে রাখা হচ্ছে থার্টি ফার্স্ট নাইটকে। রাত বারোটা এক মিনিটে গ্রেনেড বিস্ফোরণের মত আতশবাজির বিকট শব্দ , উল্লাসিত চিৎকার এবং বন্য হৈ-হুল্লোড়ের মধ্যে দিয়ে নববর্ষকে গ্রহণ করা হচ্ছে। সুতরাং বাঙালি সংস্কৃতির সাথে এ উৎসবের কোন সম্পর্ক থাকতে পারে না। বরং থার্টি ফার্স্ট নাইটকে এখন পশ্চাত্যের ভোগবাদী সংস্কৃতি হিসাবে আখ্যা দেয়া যেতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ২:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


