**এই ব্লগটি একই সাথে ajairaa-pachal এ প্রকাশিত
সময়টা খুব সম্ভব ১৯৯২ সাল, আমি ক্লাস স্যাভেন এ পড়ি। একদিন হটাৎ বিটিভি তে আড্য দেখলাম "মুভি অফ দ্যা উইক" এ স্পিলবাগ এর ছবি "Back to the Future" দেখাবে। ছবির ট্রেইলার দেখে আমরা সবাই তো দেওয়ানা ! পত্রিকায় ছবিটার রিভিউ পরলাম, খুবই ভাল লাগল। আগামি বৃহস্পতি বারে বিকেল ৩টায় দেখাবে। তাই দিন গুনতে থাকলাম।
আমি যে সময়ের কথা বলছি সে সময় ঘরে ঘরে ডিসের প্রচলন খুব একটা হয়ে ওঠেনি, মোবাইল আর ইন্টারনেট তখনো এদেশে পা ফ্যালেনি। যান্ত্রিক বিনোদোনের একমাত্র মাধ্যম হল "বিটিভি" এবং "ভি,সি, আর"। আর আমার মত যারা মুভি পাগল, তাদের জন্য "মুভি অফ দ্যা উইক" নিঃসন্দেহে আন্তঃজাতিক চলচিত্র উপভগ করার অন্যতম মাধ্যম। কাজেই এইরকম একটা সুযোগ কোনও ভাবে হাত ছাড়া করা যায়না।
কি করব বুঝে পাছিলাম না। বাসায়ে আম্মার কাছে ছুটির আরজি পেশ করলাম, উনি অত্যান্ত আন্তরিকতার সাথে তা প্রতাক্ষান করলেন আর বললেন, "পড়াশুনায় মন দাও", আব্বাকে বলার কোনো মানে হয় না, কারন তিনি শুরু করবেন তার জীবন সক্রান্ত লেকচার। আমার সব রাস্তা বন্ধ। মনে মনে খুব দোয়া করলাম যাতে ওই দিন অসুস্থ থাকি, কিন্তু আমার সাস্থ অটুট রইল। কাজেই, স্কুলে যেতেই হবে। আমার বন্ধু বাবলুর সাথে কথা হল, ওর খুব জর, প্রায় ১০২ ডিগ্রির মত। সে খুবই আনন্দিত। আমাদের বন্ধু মহলের আফসোসের সীমা রইল না।
কি আর করা, ভগ্ন হৃদয় এ গেলাম স্কুলে। গিয়ে দেখি আমার মত অনেকেই এসেছে, কিন্তু ক্লাস করতে চাচ্ছেনা। আমরা সবাই মিলে চিন্তা করতে থাকলাম কি করা যায়। এমন সময় একজন বুদ্ধি বের করল, আমরা আজকে পুরো স্কুলের জন্য অর্ধ দিবস ছুটির আবেদন করব হেড স্যারের কাছে। প্রথমে কেউ পাত্তা না দিলেও, পরে সবাই বললো আইডিয়া খারাপ না, বিষেশ করে প্রত্যেক ক্লাসের ফাস্ট বয় যদি আপ্লিকেশানে সাইন করে, নিশ্চই ওইটা হেড স্যার অত সহজে না করতে পারবেন না!
যেই কথা সেই কাজ, আমরা পরাশুনায় একত্র না হলেও, স্কুল ফাকি দেয়ার বেলায় সবাই ইউনাইটেড ! আমার ওপর পরল দরখাস্ত লেখার। লেখা শেষে শুরু হল সাক্ষরতা অভিযান। বেশিরভাগ ছেলে পেলে সানন্দেই সই করল, কেউ কেউ আবার ভাব নিয়ে বললো, "এভাবে ক্লাস ফাকি দেয়ার মাঝে আমি নাই, তাই সই করব না !",
এ নিয়ে তর্ক বিতর্ক, সবাই উতপ্ত বাক্য বিতান্ডা, এক সময় হাতা হাতি হয় হয় অবস্থা......! অল্পের জন্য সেদিন সেই ছেলে রক্ষা পেল।
এক সময় আমাদের সাক্ষরতা অভিযান শেষ হল, দুরু দুরু বুকে সবাই হাজির হলাম হেড স্যারের রুমে, কিন্তু আমাদের দুরভাগ্য, হেড স্যার আর আসিসট্যান্ট হেড স্যার দুজ়নেই শিক্ষা বোর্ডে গিয়েছেন বিষেশ কাজে। কাজেই আমাদের সব আশাই গুরে বালি। সবাই মন খারাপ করে ক্লাসে গেলাম।
আমাদের ৩য় ঘন্টার পরে টিফিন ও নামাযের ব্রেক। তা চলে প্রায় সোয়া দুইটা পর্যন্ত । এরপর ক্লাস শুরু হলে তা চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। কাজেই, ক্লাস করলে পুরা মুভি মিস করতে হবে। এখানে একটা তথ্য দিয়ে রাখি তখন স্কুলে ঘন্টা থাকত হেড স্যারের রুমের সামনের বারান্দায়, আর তা দেখভাল করত স্যারের কেয়ার টেকার রমিজ মামা (খুব সম্ভব, নাম টা সঠিক খেয়াল নেই)। যেহেতু স্যার বাইরে গেছে, সেও এই চান্সে বাইরে চায়ের দোকানে আড্ডায় মসগুল হল।
ঘরিতে তখন আড়াইটা বাজে, আমি ক্লাস থেকে বের হলাম ফ্রেসরুমে যাব বলে। আমাদের ক্লাসরুম থেকে ফ্রেসরুমে যাবার পথে টিচারস রুম আর হেড স্যারের রুম পরে। আমি যাবার পথে দেখলাম স্যারের রুম ফাকা, রমিজ মামার কোনও খবর নেই। অন্যান্য স্যাররা সবাই ক্লাস রুমে। আমার মাথায় এক শয়তানি বুদ্ধি চাপলো, আমি খুব ধিরে ধিরে ঘন্টার কাছে গেলাম।
চারপাশ টা একবার দেখে নিলাম কেউ আছে কিনা, দেখলাম নেই, আমি আস্তে করে হাতে নিলাম হাতুড়ি আর ঘন্টা। আমি একবার ঘন্টার দিকে দেখি আবার হাতুড়ির দিকে দেখি ! আমার বুকের ধক ধকানি বেরে গেল, হাত কাপতে লাগল। মনে মনে বললাম, "আল্লাহ ভরসা !!"
বলেই গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে ঘন্টা পেটাতে থাকলাম ! ডং ! ডং! ডং!! ঠিক যেন ছুটির ঘন্টা !!!
মুহুর্তের মধ্যে বিপল্ব ঘটে গেল, স্কুলের সব ছাত্র এক সংগে হই চৈ করতে করতে ক্লাসরুম থেকে বের হয়ে গেল ! আমি পুরা হতভম্ভ !! স্যার রা নিজেরাও কনফিউসড, কি হছে কেউ কিছু জানে না, যেহেতু ছুটির ঘন্টা পরেছে, অতএব স্কুল ছুটি! সবাই দে ছুট! স্যার রা কয়েক জন সবাইকে থামানোর চেষ্টা করলেন কিন্তু তা পুরোপুরি বিফলে গেল।
আমি তখনো ঘন্টা হাতে দাঁড়িয়ে মজা দেখছি, আর হেসে কুটি কুটি হছি , এমন সময় দেখি আমাদের স্কুলের সবচেয়ে কড়া শিক্ষক আলতাফ স্যার বেত নিয়ে তেড়ে আসছে আমার দিকে আর বলছেন, "আই ছেলে ! দাড়াও !! দাড়াও বলছি !!"
আমি হটাত জ্ঞান ফিরে পেলাম, বিপদ আচ করে দিলাম দৌড়, স্যার আমার পেছনে ছুটছেন আর বলছেন, "আই থামও ! থামো বলছি !!" কিন্তু পঞ্চাশ উর্ধ একজন বয়স্ক মানুষের পক্ষে আমার মতন দুরন্ত কিশোরের সাথে অসম দৌড় প্রতিযগিতায় জিতাটা মোটামোটি অসম্ভব। ফলাফল যা হওয়ার তাই, হেরে গেলেন। আর আমিও এই সুযোগে একঝাক ছেলের মাঝে মিসে গেলাম।
আমি বরাবর ছিলাম চুপচাপ স্বভাবের। কখনো কারও সাথে পাচে যাই না, অনেকটা গো বেচারা ভাল মানুষ টাইপের। কাজেই আমার পক্ষে যে এতবড় কান্ড ঘটানো সম্ভব ছিল তা অনেকের কাছেই অবিশাস্য, এমনি আমার নিজের কাছেও। তবে এটা ঠিক যে সেদিন আমার সেই পাগলামির কারনে একদল স্কুল বালক একটি বিখাত্য চলচিত্র দেখার সুযোগ পেয়েছিল !!
যাই হোক, মুল প্রশংগে আসি। অনেকদিন ধরে ইছে ছিল মুভি রিভিউ নিয়ে একটা সিরিজ লেখার, ইছে আছে, প্রতি সপ্তাহে একটি করে আগামী এক বছর লিখব। চেষ্টা থাকবে ভাল কিছু মুভি আপনাদের সামনে তুলে ধরার, তবে কোনও কমিটমেন্ট দিছি না, জানিনা কতদুর করতে পারব, তবে ইছা আছে চালিয়ে যাবার............।।।।
Lets see where do we end up...............!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


