সাধারন জনগন কি চায় তা তারা ভাবার সময়ই পান না। তাদের উপর থাকে দেশের বড় বড় স্বার্থ উদ্ধারের চিন্তা।
দুটি দল চায় তারাই জিতুক। প্রতিযোগিতায় হার জিত এরা মানে না। ঘোড়া দৌড়ে সবাই প্রথম হতে চাই। আর যে দ্বিতীয় হয় সে ফলাফল মেনে নেবে না। এটাই নিয়ম।
এখন যদি একটি নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করা হয় এবং দেখা যায় “ক” দল জয় লাভ করেছে তবে “খ” দল বলবে নির্বাচন সুষ্ঠ হয় নি। নির্বাচনে কারচুপির আশ্রয় নিয়ে বিরধী দল জয়লাভ করেছে। আর “খ” দল বলবে নির্বাচন সফল হয়েছে। সবার অংশগ্রহনই নির্বাচনকে সার্থক করেছে এবং জনগন সঠিক দলকে ভোটদিয়ে ক্ষমতায় এনেছে।
কিছু সময় পরে যদি প্রকাশ করা হয় নির্বাচনের ফল প্রকাশে ভুল হয়েছিল । আসলে “খ” দল বিজোয়ী হয়েছে । তখন “ক” দল বলবে “খ” দল আগে যা বলেছিল আর “খ” দল বলবে “ক” দল আগে যা বলেছিল। কেউই পরাজয় মেনে নিতে চান না বা পারেন না।
নির্বাচনের শেষে নিয়মমাফিক পরাজিত দল নির্বাচিত দলকে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি দেবে। চলবে হরতাল । আর সরকারি দল হরতাল ঠেকাতে পুলিশকে কাজে লাগাবে। শুরু হবে লাঠিচার্য। এতেও পরাজিত দল শান্ত হবে না। তাদের আন্দোলনের মাত্রা আরো বেড়ে যাবে। অবশেষে চলবে গুলি। রাস্তায় পড়ে থাকবে কোন এক মায়ের আদোরের খোকা।
এতেও কোন দল শান্ত হবে না। সেই লাশ নিয়ে শুরু করবে শকুনি যুদ্ধ। সন্তান হারা মায়ের কান্নাধ্বনি তাদের কাছেও পৌছাবে না ভাষনের তীব্র গর্জনে।
অবশেষে যে প্রান দুই দলের ধারাবাহিক নাটকে হারালো তার কথা সবাইভুলে যাবে। কিন্তু মা, মা যে ভুলতে পারে না। তার খোকা হারানোর বেদনা কি দিয়ে শোধ করবে জাতি।
আমি স্বার্থপর । দেশের স্বার্থ আমি বুঝি না। নিজের স্বার্থই আমার কাছে বড়। কারা দেশের উন্নতি করে আমি তা বুঝি না।
এক সময় ছিল যখন আমরা রাত্রে ঘুমোতে যাবার আগে বলতে পারতাম না কাল আবার সূর্যের মূখ দেখবো কিনা। কাল আবার কোন হরতাল নয়তো। দাঙ্গা, রাহাজানি মানুষ হত্যা হবে কি ? সবার মুখে শুধূ প্রশ্ন ছিল। উত্তর জানা ছিল না কারো। যে উত্তর আমাদেকে আস্বস্ত করতে পারত।
বেশ ভুলে গেছিলাম। হরতাল ছিল না। ছিল না মারামারি। টিভি খুললে মায়ের বুক ফাটানো আহাজারি শুনতে হতো না। নির্ভয়ে বাইরে বেরুতে পারতাম। বাইরে যাবার আগে মাকে বুক ফুলিয়ে বলতে পারতাম মা চিন্তা করো না তোমার ছেলে আবার তোমার কোলে ফিরে আসবে।
আবার নির্বাচন হবে। আবার ওদের গনতন্ত্র প্রতিষ্টিত হবে। আবার তারা ক্ষমতায় আসবে। আবার তার দেশের ভালো করার জন্য উঠেপরে লাগবে। আর আমরা হয়ে পড়বো গৌন। মাকে আর বলতে পারব না তোমার ছেলে আবার তোমার কোলে ফিরে আসবে।
মা তুমি আর কেদো না মা। আমাকে নিয়ে তোমার বুকে কত স্বপ্ন আমি জানি মা। তুমি বলতে আমার খোকা একদিন বড় হবে। বড়গীদের মেরে মেরে দেশ ছাড়া করবে। কিন্তু কি করব বলত মা। ওরা যে আমাদের মুক্তি দেবে না। আমি যে অসহায়। ওরা চায় না আমরা ওঠে দাড়াই। তাহলে যে ওরা ধ্বংস হয়ে যাবে মা।
তবে জান মা তোমার ছেলে কাউকে ভয় পায় না। মনে আছে মা ছোট বেলায় তোমার কোলে মাথা রেখে ঘুমোতাম। আর তুমি আমাকে রাজপুত্রের গল্প শোনাতে। আমি তখন কল্পনায় ভাবতাম রাক্ষসদের মেরে রাজকন্যাকে উদ্ধার করে পঙ্খিরাজ ঘোরার পিঠে চড়ে তোমার কাছে উড়ে আসছি।
লক্ষ্যি মা। রাগ করো না। আমি কথা দিচ্ছি । আমরা একদিন জিতবই মা। দেখে নিও। আজ তোমার ছেলে একা নয় মা। হাজার হাজার খোকা জেগে উঠছে। ওই শোন মা। ওইযে ওদের কলধ্বনি শোনা যায়।
[--ব্লগ বাংলা]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


