somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একে-৪৭ অ্যাসল্ট রাইফেল

১৪ ই অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৪:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যারা একে-৪৭ রাইফেল সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে চান তাদের জন্য।


বলা হয়ে থাকে পৃথিবীতে যত হত্যাকান্ড সংঘঠিত হয়ে থাকে তার সিংহভাগই করা হয় এই একে-৪৭ এর সাহায্যে।

পৃথিবীর সত্তরটিরও অধিক দেশ এই অত্যাধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল ব্যাবহার করে থাকে,যার মধ্যে বাংলাদেশও আছে।

অ্যাসল্ট রাইফেলের কনসেপ্ট প্রথম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানরা প্রবর্তন করে।তাদের সেই গবেষনার ফলাফল ছিল Sturmgewehr 44
রাইফেল।

Sturmgewehr 44 রাইফেল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে জার্মান সৈনিকেরা Sturmgewehr 44
রাইফেল সোভিয়েত ইউনিয়নের যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাবহার করে।যা থেকে প্রাপ্ত তিক্ত অভিজ্ঞতা রাশানদের প্রভাবিত করে অনুরূপ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি রাইফেল তৈরির জন্য।

মিখাইল কালাশনিকভ ছিলেন একজন উইপন ডিজাইনার।তিনি 7.62x41mmকার্টিজ বহনক্ষম একটি রাইফেল তৈরির পরিকল্পনা করেন।কিন্তু রাশিয়ার আর্দ্র ,কর্দমাক্ত ও ঠান্ডা পরিবেশের জন্য উপযুক্ত সেই ধরনের একটি রাইফেল তৈরি করা ছিল সত্যিই একটি কঠিন কাজ।

মিখাইল কালাশনিকভ

অন্যদিকে এই ধরনের একটি অ্যাসল্ট রাইফেল তৈরি করার জন্য রাশান আর্মিও আগ্রহ প্রকাশ করে।
"Alexey Sudayev " সেই ধরনের একটি রাইফেল প্রদর্শন করেন ১৯৪৪ সালে।কিন্তু ওজনের দিক দিয়ে সেটা ছিল খুবই ভারী।
এরও দুই বছর পর যখন উইপন ডিজাইনিং এর উপর একটি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়,তখন মিখাইল কালাশনিকভ ও তার ডিজাইনিং টিম তাদের রাইফেলের একটি নকশা প্রদর্শন করেন।এটি ছিল একটি গ্যাস অপারেটেড রাইফেল এবং এটাতে ৩০ রাউন্ড বুলেটের একটি ম্যাগাজিন ব্যবহার করা যেত।তখন এই রাইফেলকে একে-১ এবং
একে-২ হিসেবে সম্বোধন করা হত।

একে-৪৭ এর গ্যাস অপারেটেড মেকানিজম।

কালাশনিকভের এই ডিজাইন প্রতিযোগীতার দ্বিতীয় ধাপের জন্য মনোনিত করা হয়।১৯৪৬ সালে রাইফেলটি পুন:রায় টেস্ট করার আগে কালাশনিকভের এক সহকারী
রাইফেলটির ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এর নকশা কিছুটা পরিবর্তনের প্রস্তাব করেন।কিন্তু কালাশনিকভ নকশা পরিবর্তনের জন্য অনিচ্ছুক ছিলেন কারণ তাদের রাইফেল ইতিমধ্যেই ভালো পারফর্ম করেছে অন্য প্রতিযোগীদের তুলনায়।কিন্তু অবশেষে ,যভাবেই হোক, "Aleksandr Zaytsev"
কালাশনিকভকে রাজি করান।
তাদের রাইফেল দ্বিতীয় রাউন্ডের ফিল্ড টেস্টে অংশগ্রহন করে এবং হালকা, নির্ভরযোগ্য, দীর্ঘ রেঞ্জ ও সহজে ব্যবহারযোগ্যতা ইত্যাদি কারণে অত্যাধুনিক অস্ত্র হিসেবে মনোনিত হয়।
পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশ একে-৪৭ এর বিভিন্ন সংস্করণ তৈরি করেছে।

এক নজরে একে-৪৭




ডিজাইনার :-মিখাইল কালাশনিকভ
প্রস্তুতকারি দেশ :-রাশিয়া
ওজন :-৫.২১ কেজি (লোডেড ম্যাগাজিন সহ)
দৈর্ঘ্য :-৮৭০ মি.মি.
ব্যারেল :-৪১৫ মি.মি.
কার্টিজ :-৭.৬২×৩৯ মি.মি.
রেট অব ফায়ার :-৬০০ রাউন্ড/মিনিট
কার্যকর দূরত্ব :-৪০০ মিটার (সেমি অটোমেটিক)
৩০০ মিটার (ফুল অটোমেটিক)



একে-৪৭ বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র। এ পর্যন্ত প্রায় ১০ কোটিরও অধিক এই অস্ত্র বিক্রি হয়েছে এবং বিশ্বের প্রায় ৫০ টিরও বেশি দেশের সামরিক বাহিনীতে এটি ব্যাবহ্ত্রত হচ্ছে। যা কিনা দুনিয়ার সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত এবং জনপ্রিয় রাইফেল। একে ৪৭ এর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারন এর সহজ ব্যবহার,নির্ভরতা ও রক্ষানাবেক্ষন ইত্যাদি। এটাকে বিশ্বের প্রথম কার্যকর অটোমেটিক রাইফেল বলা হয়। ১৯৫১সাল থেকে এখনও এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সৈন্যদের মধ্যে এর ব্যাপক জনপ্রিয়তার মূল কারণ এটি জলে ভিজিয়ে, ধুলাতে রেখে বা এর উপর দিয়ে রাস্তা মেরামতের রোলার চালানোর পরও এটিকে আগের মতই ব্যাবহার করা যায়,যা এর সমপর্যায়ের অন্যান্য অস্ত্রের ক্ষেত্রে অসম্ভব। একে ৪৭ এর অন্যতম বৈশিষ্ট হল এর বুলেট এর মারাত্বক ভেদন ক্ষমতা ,এটি ৭.৬২×৩৯ মি.মি বুলেটকে ৭১৫ মিটার/সেকেন্ডে ছুড়ে যা ৮ ইন্চি কাঠ এবং ৫ ইন্চি কনন্ক্রিট ভেদ করতে পারে। এছাড়া এতে কষ্টমাইজ বুলেট ব্যবহার করা যায়। এতে সিঙ্গেল শট, ব্রাস্ট অব ফায়ার এবং গ্রেনেড ছুড়ার সুবিধা আছে । নির্ভরতার দিক দিয়ে আজও একে ৪৭ অনন্য। একে ৪৭ এ কখনো ব্যাক ফায়ার হয় না। এটিকে দুনিয়ার যেকোন স্থানে ব্যবহার করা যায়। তীব্র শীত,গরম,ভেজা আবহওয়াতেই এর কিছু হয় না। অন্যান্য রাইফেলের তুলনায় একে-৪৭ জ্যাম হবার রেটও কম। বর্তমান বিশ্বের সব দেশই একে ৪৭ বা এর বিভিন্ন সংস্করনের রাইফেল ব্যবহার করে থাকে। বাংলাদেশে সেনাবাহিনীতে একে ৪৭ এর চাইনিজ সংস্করন টাইপ ৫৬ ব্যবহৃত হয়।





তথ্য সূত্র : উইকিপিডিয়া ও অন্য কিছু ইন্টারনেট সূত্র
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×