somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অঘ্রান অভ্রু
আমি জাহিদ রাজ রনি। অঘ্রান অভ্রু নামটা বোকামি করে দেয়া এবং পরে আর নাম পাল্টানোর অপশন খুঁজে পাইনি। পত্রিকায় লিখি 'জাহিদ রাজ' নামে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে আমি: jahidrajrony

আ জার্নি বাই রিকশা

১১ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিমানবন্দরের রাস্তায় রিকশা দেখে মিসাকি যেমন অবাক হয়েছিল, সে রকমই বড় বড় চোখ করে খুব কাছ থেকে মহব্বত আলীর রিকশা দেখে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। চারদিক থেকে ঘুরে ঘুরে দেখে ভ্রু কুঁচকে ডিকশনারির বাংলায় বলল, ‘এই বাহনে আসন গ্রহণ করব কীভাবে?’

—এই যে, এই সিটে বসে।
—সিটবেল্ট নেই!

আমি বেশ আয়েশি ভঙ্গিতে রিকশার সিটে বসে প্রমাণ করতে চেষ্টা করলাম, ব্যাপারটা মোটেই এ রকম কিছু না। মিসাকিকেও উঠে আসতে বললাম। মিসাকি আমার পাশে মূর্তির মতো জড়সড় হয়ে বসে এক হাতে হুড অন্য হাতে আমার বাহু ধরে বিড়বিড় করে কিছু বলল। এতক্ষণ পাশে দাঁড়িয়ে হাসছিল রিকশাচালক মহব্বত। মহব্বত আলী আমার পূর্বপরিচিত। তাকে বললাম, ‘না হেসে চালাও এবার...খুব ধীরে চালাবা।’ মহব্বত আলী সম্ভবত মিসাকির রিকশাভীতি দেখেই তার রিকশাচালক জীবনের সবচেয়ে বিপজ্জনকভাবে রিকশা চালাতে লাগল!
মিসাকি কাঁদো কাঁদো চোখে একবার আমার দিকে, একবার সামনের দিকে তাকাতে লাগল। এই বিলিতি সুন্দরীকে এখন মনে হচ্ছে, বাবার বাড়ি নাইয়র খেটে শ্বশুরবাড়ি ফিরতে থাকা কোনো মন খারাপ বধূ! আমি মিসাকির আঙুল ধরে বললাম,
—কেমন লাগছে?
—আমি কিছু বোধ করছি!
—এখানে ‘বোধ’-এর চাইতে অনুভব শব্দটা সুন্দর।
—কথা বলো না, প্লিজ!
—কেন?
—আমাকে অনুভব করতে দাও!

আমি মিসাকীকে দেখতে লাগলাম। টিএসসির রাস্তায় শত রিকশার ভিড়ে মহব্বত আলীর রিকশা এখন বেশ স্বাভাবিকভাবেই চলছে। মিসাকির চোখে আনন্দ আর কৌতূহল। প্রথমবার ট্রেনের ছাদে বসে ভয় কেটে যাওয়ার পর কোনো কিশোরের যেমন অনুভূতি হয়! এই রিকশা চলুক, আজ আমাদের তাড়া নেই।

জাহিদ রাজ রনি
প্রথম প্রকাশ: ১০ জুন ২০১৭, ছুটির দিনে, প্রথম আলো।

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:৩৩
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিল সিমন্স একটি নাম একটি ইতিহাস

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



"ফিল সিমন্স একটি নাম একটি ইতিহাস"

একটা সময় ছিল, যখন বাংলাদেশ ক্রিকেটে "কোচ" শব্দটা মানেই ছিল ঝড়!

রাসেল ডোমিঙ্গো, হাথুরুসিংহে-
Phil Simmons (2024–present)
Chandika Hathurusingha (2014–2017, 2023–2024)
Russell Domingo (2019–2022)
Steve Rhodes... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মদিনে তাহাদের জন্য শুভকামনা। আমার জন্মদিনের স্মৃতি...

লিখেছেন করুণাধারা, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



একেকটা জন্মদিন পার করা মানে জীবন বইয়ের একেকটা পৃষ্ঠা পড়ে ফেলা, কয়েক বছর পরপর সেই বইয়ের একেক অধ্যায় শেষ হয়! বইটা ট্রাজেডি না কমেডি, একেবারে শেষ পর্যন্ত না পৌঁছালে তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ - একদম চুপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



আমরা শুধু চুপ থাকবো -
আমাদের কথা বলার মুখ নেই
আমাদের দেখার মতো চোখ নেই
আমাদের শোনার মতো কান নেই
মনে হয়, মনে হয় -
আমাদের হাত-পাও নেই।

আমাদের বিবেক নেই
আমাদের চিন্তা-চেতনাও নেই
আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×