somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি এখনও স্বপ্ন দেখি।

১২ ই এপ্রিল, ২০১৫ রাত ২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্বপ্ন দেখা কিন্তু খুব মজার একটা ব্যাপার। সেটা জেগে হোক আর ঘুমের মধ্যে, কোন রেস্ট্রিকশন আর বাউন্ডারি কন্ডিশন নাই। খুব ছোটবেলা যখন ঘুমতে গিয়ে ঘুম না আসলে, ঘুম আসার আগ পর্যন্ত স্বপ্ন দেখতাম। অদ্ভুত ছিল স্বপ্ন গুলো, যখন যেটার দরকার ছিল সেটা নিয়ে এ স্বপ্ন দেখতাম। যেমন, আম্মুর বকা ছাড়া সারাদিন পুকুরে গোসল করা, কয়েক শত ডানো গুড়া দুধের কৌটা আর মেগগাইবার বিস্কিট নিয়ে বেলুনে করে আকাশে উড়ে যাওয়া, মাটির নিচে গোয়েন্দা হেডকোয়ার্টার বানানো, একটু বড় হওয়ার পর ফোর্ড এর মুসতাং জিটি কনভার্টিবল গাড়ি, রিয়াল মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাব এ খেলা কিনবা অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার মত উদ্ভট চিন্তা মাথায় এসেছে। বাই ডেফিনেশন এগুলো সবই দিবাস্বপ্ন যা পূর্ণ হবার নয়। কিন্তু আমি এমনও স্বপ্ন দেখেছি যা পুরন হতেই পারত কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা হয়নি। স্বপ্ন দেখা থেমে থাকে নি।
টিউশনি করে রাস্তা দিয়ে যখন হেটে আসতাম, চাকুরী পেয়ে এখন যখন রিকশা সিএনজি তে চড়ি তখন পাশ দিয়ে সাঁই সাঁই করে ছুটে ধুলি উড়িয়ে যাওয়া টয়োটা টাকে দেখে আমি স্বপ্ন দেখি একদিন আমিও ওই রকম একটা গাড়ির পিছনের সিটে বসে থাকব। এ রকম হাজারো স্বপ্ন রয়েছে যেগুলো দিবাস্বপ্ন না, এবং পুরন হওয়া হয়ত সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু সে স্বপ্নগুলো পুরন হওয়ার আনন্দ কমতে কমতে প্রায় শূন্যে এসে পৌঁছে গেছে। কিন্তু আমি এখনও স্বপ্ন দেখি।
বেশ কিছু দিন আগের কথা পরীবাগ থেকে বাসাবো আসছিলাম রিকসা করে। একা রিকসায় চড়লে রিক্সাচালকদের সাথে কথা বলতে ভালো লাগে। তারা খুব সহজ মানুষ হয়, মন খুলে কথা বলে। সহজ মনের মানুষদের সাথে ৫-১০ মিনিট কথা বললে মন ভালো হয়ে যায়। আর কিছু মানুষ আছে কথা শুনার আগেই পকেটে হাত দিতে হয় হেডফোন এর জন্য। যাইহোক লোকটা এইচ এস সি পাস, এদিক ওদিক থেকে কিছু টাকা মেনেজ করে একটা প্রাইভেট কলেজে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হয়েছে। একটা সেমিস্টার কোনোমতে রিকশা চালিয়ে লেখাপড়া করেছে, কিন্তু এর পরের সেমিস্টার এর জন্য টাকা মেনেজ করতে পারে নাই। আর সারাদিন রিকশা চালিয়ে লেখাপড়াও করা যাচ্ছে না। তাই সে সেই কলেজে ইস্তফা দিয়ে তার এসএসসি আর এইচএসসি এর সার্টিফিকেট আনতে যায়। তখনি বাধে বিপত্তি সেই কলেজ তাকে সোজা বলে দেই তাকে ওখানে পরতেই হবে টাকা দিয়ে নতুবা একটা বড় অঙ্কের টাকা দিতে হবে তার নিজের অর্জিত এসএসসি আর এইচএসসি সার্টিফিকেট এর জন্য। বেচারা সোজা মানুষ টাকার ভয়ে সার্টিফিকেট এর কথা ভুলে গেছে। সে এখন রিকশা চালানোকে পেশা নিয়ে নিয়েছে। ভাবলাম সার্টিফিকেট গুলো উদ্ধারের অনেক পথই তো আছে কিন্তু এতে এই লোকের কিচ্ছু আসে যায় না। লোকটা বেশ স্মার্ট, সে আমাকে বলতেছিল আমি জানি আমরা গরিব কিন্তু আমরা আপানাদের থেকে ভালো আছি কারন আমদের চিন্তা কম। আপনারা যা আয় করেন তা দিয়ে আপনাদের সমাজের মানুষের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে বেশ কষ্ট হয়, কিন্তু আমারা দিন শেষে গিয়ে আরামের ঘুম দিতে পারি। লোকটা অপটিমিস্টিক, রিয়েল অপটিমিস্টিক। অন্যের কথা না ভেবে নিজের যা ইচ্ছে করা পরে রিগ্রেট এর পরিবর্তে বলা আমি অপটিমিস্ট, এরা ভণ্ড আর খুব ভয়ংকর মানুষ। যাইহোক আমি জিজ্ঞেস করলাম আপনার স্বপ্ন দেখতে ইচ্ছে করে না? সে সোজাসুজি উত্তর দিল না, আমি আমার জীবন থেকে যা পাওয়ার পেয়ে ফেলসি। আমি আর স্বপ্ন দেখি না। হা ঠিক বলছেন উনি, উনার মত সবাই হার মেনে নিচ্ছে নিয়তির কাছে। আর আমাদের দেশে স্বপ্ন দেখা মানুষের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এর ভবিষ্যৎ নিয়ে পজেটিভ চিন্তা করার মানুষ খুব কম। বাংলাদেশ এর বেশির ভাগ মানুষ এখনও জীবনযাত্রার সর্বনিন্ম মানের চেয়ে নিচে বসবাস করছে। তাঁদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল সারভাইব করা। এসব স্বপ্ন টপ্ন দেখার টাইম নাই।
কিন্তু আমি এখনও স্বপ্ন দেখি। হোকনা সেটা গুড়া দুধ আর মেগগাইবার বিস্কিট এর। B-)


পুনশ্চ, আর সবার মত, সুশ্রী স্মার্ট রুচিশীল :P :P :P একটা বউ যারা সাথে সারাদিন ফিফা আর এনএফএস খেলতে পারব, পোড়া কপাল আমার এই স্বপ্ন মনে হয় না আর এ জীবনে পুরন হবে। :(
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জল-জলন্ত

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
অলকা থাকে আমেরিকার ফারগো নামক শহরে। খুবই ছোট শহর। শহরটি ছবির মতন সুন্দর। শীতের সময় প্রচণ্ড শীত পড়ে। এলিন নামের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে অলকা দুই রুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

হারানো আকাশে আমার ক্যানভাসে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫

হারানো আকাশে আমার ক্যানভাসে
.........................................................................



সেই জগতে আমার ছিলো আঁকিবুকি চকখড়িতে,
মন ভেসে যেত মেঘের ভেলায় সোনালী সেই দিনগুলিতে।
একটা সকাল, একটা বিকেল গোল্লাছুটের ধুলোবালি,
চিবুড়ি আর লুকোচুরি খেলা, স্মৃতির পাতা নয়কো খালি।

সুনীল... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটি কোটি মানুষকে টাকা দেওয়া হয়েছিলো?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩

গানঃ হাল্লাজের কাপড়
গানের লিংকঃ https://on.soundcloud.com/Vctd83PVm40VJ64T16



১) ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনকে অনেকে আম্রেকিয়া আর শিবিরের প্ররোচনায় হয়েছে বলে প্রচার করেন। আমার প্রশ্ন, আম্রিক্যা ও শিবির কাউকে কাউকে হয়তো 'ভাড়া' করে থাকতে পারে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুটি হাসিখুশি গল্প: ফাজিল কানাডিয়ান ও মহা সিরিয়াস কানাডিয়ান

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৩৩


হুমায়ূন আহমেদের একটা গল্প ছিল তাদের মাকে নিয়ে। তাদের মেঝ ভাই জাফর ইকবাল তখন আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে থাকেন। তাদের মা ছেলের কাছে বেড়াতে গিয়েছেন। বিকেলে তিনি একা একা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রশ্নের আগুন যুক্তির মহাযাত্রা :প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য ২য় পর্ব ।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:০৮


আদিতে ছিল প্রশ্ন
অন্ধকার আকাশের তলে দাঁড়িয়ে মানুষ
চেয়ে দেখেছিল নক্ষত্রের দিকে
মনে তার জেগেছিল বিস্ময়
কে জ্বালালো এই দীপ
কেন ঘোরে পৃথিবী, কেন নামে বৃষ্টি
কেন জন্ম, কেন মৃত্যু
কেন এই অনন্ত চলা?
উত্তর ছিল না হাতে
ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×