শিকারঃ পর্ব ২
মৌচাকে ঢি‡লর গত অক্টোবর ২০১১ ঈদুল আজহা সংখ্যার ৫২ পৃষ্ঠায় আমার একটি লেখা প্রকাশিত হয় শিকশিরোনামে। লেখাটি প্রকাশের পর পাঠকদের কাছ থেকে অনেক বেশী প্রতিক্রিয়া পাই। পাঠকদের আগ্রহ নিবৃত্তির জন্যই আমার পুনরায় কলম ধরা।
আমি পাঠকদের কাছ থেকে প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি ফোনে তাদের সবাইকে সময় না দিতে পারার জন্য। বর্তমানে আমি একটি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকে চাকুরি করি। সেজন্য ব্যাংক চলাকালীন সময়ে যে সকল আগ্রহী পাঠক আমাকে ফোন করেছিলেন কিংবা এখনো করেন তাদের ফোন রিসিভ করা কিংবা রিসিভ করার পর বেশীক্ষন কথা বলা সম্ভব হয় না। এজন্য পাঠকদের সংক্ষিপ্ত উত্তর দিয়ে দিই - এটি নিছক একটি গল্প। আবার অনেক পাঠক ভেবে বসেন- এটি আমার জীবনেরই গল্প। তাই অনেকে আমাকে জিজ্ঞেস করেন- আমি সোনালীকে বিয়ে করেছি কিনা।
আবার অনেক পাঠক গালাগালিও করেছেন- বাস্তবতাবিহীন গাঁজাখুড়ি গল্প লিখে আমি পাঠকদের সময় নষ্ট করেছি।এই শ্রেণির পাঠকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি- সত্যিই তাদের সময় নষ্ট করার জন্য।আমি হয়তো আরো ভালোভাবে গুছিয়ে লিখতে পারলে তারা আমার প্রতি অসন্তুষ্ট হতেন না। ভালো লিখতে না পারার জন্য আমি সত্যিই অনুতপ্ত ও লজ্জিত।
মিলয় -সোনালীর ঘটনাটি আমার ব্যক্তিগত জীবনের কোন গল্প নয়। তবে খুব কাছ থেকে দেখা এক বন্ধুর জীবনের গল্প। মিলয়ের সাথে আমি একই মেসে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছি। সে আমার এক বছরের জুনিয়র। আর সোনালী আমার ছাত্রী ছিল। পরবর্তীতে আমিই মিলয়কে সোনালীর প্রাইভেট টিউটর হিসাবে নিয়োগের ব্যবস্থা করি।
পরের ঘটনাতো পাঠকরা জানেনই।এখন মিলয় সোনালীর অবস্থা কি? মিলয় একটি বেসরকারী ব্যাংকে উচ্চ বেতনে চাকুরি করছে।এখনো বিয়ে করেনি।পিতৃহীন মিলয়কে বিয়ে করানোর জন্য মিলয়ের মা অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মিলয় রাজী হচ্ছে না।হবে বলেও মনে হয় না।
আর সোনালী? ঐ দুর্ঘটনার পর সোনালীকে মাসখানেক হাসপাতালে কাটাতে হয়।শারিরীকভাবে সোনালী সুস্থ্য হয় ঠিকই, কিন্তু ডাক্তাররা জানিয়ে দেন সোনালীর পক্ষে আর কখনো মা হওয়া সম্ভব নয়। মিলয় বিষয়টি মেনে নিয়ে বিয়ে করতে চাইলেও সোনালীর পরিবার রাজী হয়নি। সোনালীর বাবার কথা হলো- এ মূহুর্তে অতি আবেগের কারনে সব জেনেশুনে মিলয় সোনালীকে বিয়ে করতে আগ্রহী হলেও ভবিষ্যতে দাম্পত্য জীবনে সমস্যার সৃষ্টি হবে।তাই এ বিয়ে হতে পােও না। সোনালীকে তিনি ইংল্যান্ড পাঠিয়ে দেন পড়াশোনা করার জন্য। সোনালী পড়াশোনা শেষ করার পর এখন সেখানেই চাকুরি করছে।
আমার সাথে এখনো মাঝে মাঝে সোনালীর ফোনে কথা হয়। আমি তাকে মিলয়ের বিষয়টি ভাবতে অনুরোধ করি। কিস্তু সোনালীর এক কথা - স্যার, আমাকে এ বিষয়ে কোন অনুরোধ করবেন না।কারন এ অনুরোধ রাখা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি তাকে ঠকাতে চাই না। আমি মিলয়কে খুব ভালোবাসি। সারাজীবন ভালোবাসতে চাই।
মো. শহীদুল কায়সার লিমন
বড়নল, ভিটিপাড়া (বরমী), শ্রীপুর, গাজীপুর-১৭৪৩।
মোবাইল- ০১৯১১৭৫৮৫৩৩, ০১৭১১১০৮৬৮৪
মেইল- [email protected]
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুন, ২০১২ দুপুর ২:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


