শিকার
মিলয়। ২৫ বছরের টগবগে এক যুবক। পড়ে ঢাকার এক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিষয়টা যে খুব সহজ তা নয়। অর্থনীতির মতো কাঠখোট্টা সাবজেক্টে পড়লেও তার রসবোধ কম নয়। আড্ডার মধ্যমনি। এজন্যে ওর প্রতি বন্ধুদের হিংসাও কম নয়।
সুদর্শন চেহারার জন্য কাসের অনেক মেয়েই মিলয়কে প্রেম নিবেদন করতে চায়। কিন্তু কেউই সফল হয় না। বিভাগের অনেক জুনিয়র মেয়েরাও প্রতিযোগিতায় নামে মিলয়ের সাথে প্রেম করতে। নিদেনপক্ষে কথা বলতে। কিন্তু মিলয় এসব কিছুকেই পাত্তা দেয় না।
দরিদ্র পারবারের মেধাবী ছাত্র হিসাবে মিলয়ের ইচ্ছে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরন করে তাদের মুখে হাসি ফুটানো। বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গর্ভনর ড. আতিয়ুর রহমানের মতো সেও একদিন গর্ব করে বলতে চায় কত কষ্ট করে বাবা-মা তাকে পড়ালেখা করিয়েছে।
পড়াশোনার খরচ যোগানোর জন্য মিলয়কে প্রাইভেট টিউশনি করতে হয়। অষ্টম শ্রেণি পড়–য়া সোনালীকে পড়ানোর দায়িত্ব এসে পড়ে মিলয়ের উপর। সোনালী ধনী পিতার একমাত্র কন্যা। দেখতে সুন্দরী, খুবই আধুনিকা। বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া মিলয়ের পক্ষে অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্রীর সঙ্গে প্রেম সিনেমা নাটকে সম্ভব হলেও বাস্তবের সাথে ঠিক সামঞ্জস্যপূর্ন নয়। তারপরও যে মিলয় বিভাগের সুন্দরী মেয়েদের প্রস্তাব আগ্রাহ্য করতে পারলো সেই মিলয়ই ছাত্রীর প্রেমে হাবুডুবু খেতে লাগলো।
সোনালীর পরিবারে বিষয়টি জানাজানি হলো। মিলয় মেধাবী ছাত্র হওয়ায় কেউই তেমন আপত্তি করলো না। তবে সোনালীর বাবার শর্ত হলো- মিলয় এস.এস.সি. পরীক্ষা পর্যন্ত সোনালীকে পড়াতে পারবে।তারপর সোনালীর এইচ.এস.সি পাশের পর পারিবারিকভাবে বিয়ে হবে।
মিলয় সোনালীর সোনালী দিনগুলো ভালোভাবেই কাটতে লাগলো। মিলয় প্রতিদিন সোনালীকে পড়াতে আসতো।আর সোনালী মিলয়ের আসার প্রতিক্ষায় থাকতো। সেলফোনে কথা তো হতোই।
ইতোমধ্যে সোনালী ভালোভাবে এস.এস.সি পাশ করে কলেজে ভর্তি হলো। মিলয় সপ্তাহে একদিন সোনালীদের বাসায় যেতো।এছাড়া ডেটিং করতো দর্শনীয় কোন স্থানে।
কলেজের এক ছাত্রনেতার নজর পড়লো সোনালীর উপর। সে সোনালীকে প্রেমের প্রস্তাব দিল। সোনালী সে প্রস্তাব অত্যন্ত ভদ্রভাবে প্রত্যাখ্যান করলো এবং বিষয়টি মিলয়কে জানালো। মিলয় পরদিন সোনালীর কলেজে এসে ছাত্রনেতার সাথে দেখা করলো এবং সোনালী যে তার বাগদত্তা সে বিষয়টি ছাত্রনেতাকে জানালো। কিন্তু ছাত্রনেতা বিষয়টি মানতে রাজী নয় এবং সে সোনালীকে বিয়ের সিদ্ধান্তটিতে মিলয়কে চ্যালেঞ্জ জানালো।
একদিন কাসশেষে সোনালী বের হয়ে আসার সময় কলেজের প্রধান ফটকে ছাত্রনেতা অশোভন আচরন করলে মিলয় বিষয়টি কলেজের অধ্যক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট ছাত্রনেতার উর্দ্ধতনপদধারী ব্যক্তিকে জানালো। উর্দ্ধতনপদধারী নেতা উক্ত ছাত্রনেতাকে ডেকে সোনালীর বিষয়ে সাবধান করে দিলেন।
এরপর সোনালীর কোন সমস্যা হয়নি । কিন্তু একদিন কাশশেষে সোনালী বাসায় ফিরল না। সেলফোনও বন্ধ। অন্য বান্ধবীরাও কোন সমাধান দিতে পারলো না। সোনালীর বাবা বিষয়টি পুলিশকে জানালো।
দুই দিন পর সোনালী ফিরে এলো। কিন্তু চঞ্চলা, চপলা সোনালী নির্বাক হয়ে গেল। কাউকে কিছু বললো না। এমনকি প্রিয়তম মিলয়কেও না। মিলয়কে ছোট একটি চিরকূট ধরিয়ে দিল-
আমাকে ওরা নষ্ট করে ফেলেছে, আমি আর তোমার হতে পারলাম না। পারলে ক্ষমা করো- সোনালী।
মিলয় সোনালীর কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে অনেক চেষ্টা করলো। কিন্তু সোনালী নির্বাক।
এ ঘটনার সপ্তাহখানেক পর স্থানীয় সিডির দোকানগুলোতে এক তরুনীর ধর্ষনের ভিডিও সিডি বিক্রি হতে দেখা গেল। বলাই বাহুল্য- ধর্ষনের শিকার তরুনীটি কে তা পাঠক মাত্রই বুঝতে পারছেন আশা করি।
মো. শহীদুল কায়সার লিমন
পরিচালক
রেমাশ গ্রন্থ সম্ভার
বড়নল, ভিটিপাড়া (বরমী), শ্রীপুর, গাজীপুর-১৭৪৩
মুঠোফোন- ০১৯১১৭৫৮৫৩৩, ০১৭১১১০৮৬৮৪
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ সকাল ১০:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


