somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

২০১৬ চীনের ত্রয়োদশ পাঁচশালা পরিকল্পনার সূচনা বর্ষঃ চীনের দুই অধিবেশন

১০ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ৮:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




গত ০৩ মার্চ শনিবার সকালে বেইজিংয়ে শুরু হয়েছে চীনের দ্বাদশ জাতীয় গণকংগ্রেসের চতুর্থ অধিবেশন। মূলত গণ রাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলনের অধিবেশন ৩ মার্চ বিকেলে এবং জাতীয় গণ কংগ্রেসের চতুর্থ অধিবেশন ৫ মার্চ শুরু হয়। এ দুই অধিবেশন হচ্ছে চীনের গণ কংগ্রেস আর চীনের গণ রাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলনের সংক্ষিপ্ত নাম। প্রতি বছরের মার্চ মাসে এ দুটি অধিবেশন পর পর অনুষ্ঠিত হয়। গণ কংগ্রেস ও পরামর্শ সম্মেলনের কার্যমেয়াদ পাঁচ বছর। প্রতি বছর একবার জাতীয় পর্যায়ের বার্ষিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। 'দুটি অধিবেশন' চীনের ব্যাপক ভোটারদের স্বার্থ ও অধিকার প্রতিনিধিত্ব করে। অধিবেশন চলাকালে অধিবেশনে উপস্থিত প্রতিনিধিরা জনগণের পক্ষ থেকে নানা মতামত ও প্রস্তাব করেন।

গণ কংগ্রেস ব্যবস্থা চীনের এক মৌলিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা। জাতীয় গণ কংগ্রেস চীনের সর্বোচ্চ ক্ষমতা সংস্থা। জাতীয় গণ কংগ্রেস বিভিন্ন প্রদেশ , স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল , কেন্দ্রশাসিত মহানগর , বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল আর সৈন্যবাহিনীর গণ কংগ্রেস-প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত। জাতীয় গণ কংগ্রেস দেশের আইন প্রনয়নের অধিকার প্রয়োগ করে এবং দেশের রাজনৈতিক জীবনের বড় বড় সমস্যা সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত নেয়।

চীন সরকার ২০১৬ সালের প্রশাসন নীতিমালা ও কার্যক্রম জনসাধারনের জন্য উন্মুক্ত করেছে।মূলত চীনের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া এবং এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব। চলমান সমস্যার মুখোমুখি চীন সরকার কি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং চীনের উন্নয়নে কি কি চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে তারা।চীনের সার্বিক সম্প্রীতিময় সমাজ প্রতিষ্ঠা ও ত্রয়োদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার সূচনা বছর এবং অবকাঠামোগত সংস্কারের নির্ণায়ক বছর হিসেবে ২০১৬ সালে চীনের পদক্ষেপের ওপর নজর রয়েছে পুরো বিশ্বের।

২০১৫ সালে চীনের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের কম অর্থাত ৬.৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত ৯০ দশক থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে রপ্তানিসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচক কমে গেছে। ২০১৬ সালের শুরুতেই কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি খ্য ছিয়াং বলেন, চীনের উন্নয়ন নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

চলতি বছর চীনে সার্বিক সম্প্রীতিময় সমাজ গড়ে তোলার সূচনা বছর এবং অবকাঠামোগত সংস্কারের নির্ণায়ক বছর। সরকারের কার্যক্রম ভালোভাবে পরিচালনার জন্য স্থিতিশীল সামষ্টিক নীতিমালা এবং সঠিক শৈল্পিক নীতিমালা প্রণয়ন করা উচিত। পাশাপাশি স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত সংস্কারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা উচিত।

ত্রয়োদশ পাচঁসালা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আংশ হিসাবে চীনের নেতৃত্বে গড়ে তোলা হয়েছে এশিয়া অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক। এশিয়া অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক হচ্ছে চীনের প্রস্তাবিত আঞ্চলিক উন্মুক্ত বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থা।সম্মেলনে জানানো হয়, এ পর্যন্ত ২৭টি দেশ এশিয়া অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। চীনের সময়সীমা অনুযায়ী ৩১ মার্চের আগে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশ হিসেবে গ্রহণ করা হবে।

মধ্য ও উচ্চ পর্যায়ের প্রবৃদ্ধির হার ত্রয়োদশ পাচঁসালা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত সিপিসি ১৮তম কংগ্রেসের ৫ম পুর্ণাঙ্গ অধিবেশনে সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটি ত্রয়োদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা কার্যকরের সময় গড় প্রবৃদ্ধির হার ৬.৫ শতাংশের ওপর নির্ধারণ করেছে। তাই ত্রয়োদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার প্রথম বছর প্রবৃদ্ধির হার সম্পর্কে কি পদক্ষেপ থাকবে? এ প্রসঙ্গে কর্মরিপোর্টে বলা হয়েছে।

"২০১৬ সালে প্রবৃদ্ধির ৬.৫ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে থাকবে। এ প্রবৃদ্ধি সার্বিক সম্প্রীতিময় সমাজ গড়ে তোলা, অবকাঠামোগত সংস্কারের চাহিদা মেটানো এবং বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় অনুকূল। প্রবৃদ্ধির এ হারে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন সরকার এই প্রথমবারের মতো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার এক আওতার মধ্যে নির্ধারণ করেছে। এতে বিরাজমান চাপ মোকাবিলায় চীন সরকারের আরও বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠেছে।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য চীন সামষ্টিক নীতিমালা স্থিতিশীল ও সুবিন্যাস করবে এবং ইতিবাচক আর্থিক নীতি এবং সুষ্ঠু মুদ্রানীতি প্রণয়ন করবে।

চলতি বছর সার্বিক সম্প্রীতিময় সমাজ প্রতিষ্ঠার সূচনা বছর। সম্প্রীতিময় কি-না, তা গ্রামবাসীর কাছ থেকে জানা উচিত-এমন কথা প্রচলিত রয়েছে। গত নভেম্বরে সিপিসি'র কেন্দ্রীয় কমিটির পলিট ব্যুরো আগামী ২০২০ সালের মধ্যে ৭ কোটি মানুষের দারিদ্র্য দূর করবে। এ প্রসঙ্গে রিপোর্টে বলা হয়েছে:
২০১৫ সালে ১ কোটি মানুষের দারিদ্র্য বিমোচন করা হয়েছে। এর মধ্যে স্থানান্তরিত মানুষের সংখ্যা ২০ লাখ। এক্ষেত্রে চীনের কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তা বাড়বে ৪৩.৪ শতাংশ। এছাড়া গরীব অঞ্চলগুলো সরকারের বিভিন্ন গণকল্যাণনীতি ও প্রকল্প থেকে আরও সুবিধা পাবে।

'লক্ষ্যবস্তু দারিদ্র্যবিমোচন' বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত দুই অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের প্রতিনিধি এবং গণরাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলনের সদস্যদের দৃষ্টির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।পরিকল্পনা অনুযায়ী 'লক্ষ্যবস্তু দারিদ্র্যবিমোচন'-এর মাধ্যমে ২০২০ সাল নাগাদ চীনের সকল দরিদ্র লোক দারিদ্র্যমুক্ত হবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।
চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর সম্প্রতি প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, ২০১৫ সালে চীনের গ্রামীণ দরিদ্র জনসংখ্যা ২০১৪ সালের চেয়ে ১ কোটি ৪৪ লাখ ২০ হাজার কমেছে। এই সংখ্যা পূর্বনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে ব্যাপকভাবে ছাড়িয়ে যায়। পূর্বনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিলো এক বছরের মধ্যে ১ কোটি দরিদ্র লোকসংখ্যা কমানো।
তবে ২০২০ সাল নাগাদ সকল দরিদ্র লোককে দারিদ্র্যমুক্ত করার লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে গেলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রতি বছর চীনে কমপক্ষে এক কোটি মানুষের দারিদ্র্যমুক্ত হওয়ার এই দায়িত্ব সম্পন্ন করতে হবে। এটি চীনের বর্তমান দারিদ্র্যবিমোচন ব্যবস্থার বড় একটি চ্যালেঞ্জ।
'লক্ষ্যবস্তু দারিদ্র্যবিমোচন'-এর প্রক্রিয়ায় কিভাবে যুক্তিসঙ্গতভাবে দারিদ্র্যবিমোচনের জ্বালানি বণ্টন করা যায় এবং দারিদ্র্যবিমোচনের কার্যকরিতা বাড়ানো হলো বিভিন্ন মহলের দৃষ্টির গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্যবিষয়।
'লক্ষ্যবস্তু দারিদ্র্যবিমোচন' প্রক্রিয়ায় আর্থিক বরাদ্দ ও সমর্থন বাড়ানো ছাড়াও, সামাজিক পুঁজির প্রবেশকে উত্সাহিত করা একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকার কর্মরিপোর্টের সঙ্গে ত্রয়োদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার খসড়াও জাতীয় গণকংগ্রেসের প্রতিনিধিদের কাছে উত্থাপন করেছে।
ত্রয়োদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার খসড়ায় সার্বিক সম্প্রীতিময় সমাজ গড়ে তোলাকে কেন্দ্রে করে উন্নয়নের ভারসাম্যহীনতা ও সমন্বয়হীনতা-সহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছর অর্থনীতি ও সমাজ উন্নয়নের প্রধান লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা হয়েছে।
চীনের গণ কংগ্রেস (এনপিসি) ও চীনের গণ রাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলন (সিপিপিসিসি)-র প্রতিনিধিরা চীনের সন্ত্রাসবাদ দমন আইনকে সমর্থন করার কথা বলেছেন।সন্ত্রাসবাদ দমন আইন সিনচিয়াংয়ের স্থিতিশীলতা সুরক্ষা ও উন্নয়ন সাধনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মত প্রকাশ করেন অনেকে। কারন ধর্মের উন্নয়ন দেশের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
জাতীয় গণকংগ্রেসের অধিবেশনে চীনের নেতারা 'এক অঞ্চল, এক সড়ক'এর কৌশল উত্থাপন করেছেন। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে চীনের উন্নয়নের সুযোগ-সুবিধা ভাগাভাগি করা এবং পুরো অঞ্চলের উন্নয়ন দ্রুততর করাই এই কৌশল উত্থাপনের চূড়ান্ত লক্ষ্য। এতে করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এ কৌশলে ইচ্ছাকৃতভাবে অংশ নিতে পারবে এবং লাভবান হবে।

ত্রয়োদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা'র আলোকে কৃষকদের গড় বার্ষিক আয় ৬.৫ শতাংশ বাড়বে বলে জানিয়েছেন চীনের কৃষিমন্ত্রী। তিনি জানান, 'দ্বাদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা' অনুযায়ী পাঁচ বছরে কৃষকদের গড়পড়তা আয় ৯.৬ শতাংশ বেড়েছে। যা টানা ছয় বছর ধরে চীনের জিডিপি বৃদ্ধির হারের চেয়ে বেশি এবং শহরাঞ্চলের মানুষের চেয়েও বেশি।
তিনি আরো জানান, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি কিভাবে বজায় রাখা যায় তা বিবেচনা করছে চীন সরকার।

চলতি বছরের পয়লা জানুয়ারি থেকে চীন সরকার দেশে 'দুই সন্তান নীতি' চালু করে। এ নীতি অনুসারে এখন থেকে দেশের যে-কোনো দম্পতি দুটি সন্তান নিতে পারবে। এ নীতি চালু করার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে, দেশে কর্মক্ষম লোকের সংখ্যা বাড়ানো। চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে ভবিষ্যতে অনেক বেশি কর্মক্ষম নাগরিকের প্রয়োজন হবে। কিন্তু আগের 'এক সন্তান নীতি'র কারণে বর্তমানে দেশে প্রবীণ লোকের সংখ্যা বেড়েছে এবং কর্মক্ষম লোকের সংখ্যা কমেছে।
কিন্তু দু'টি সন্তান নেওয়ার অধিকার পেলেও, চীনের অনেক দম্পতিই তার প্রয়োগ করতে চান না। এর জন্য আর্থিক কারণ যেমন আছে, তেমনি আছে সামাজিক কারণ। এ সমস্যা প্রসঙ্গে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কমিশনের মহাপরিচালক লি বিন মঙ্গলবার দ্বাদশ জাতীয় গণকংগ্রেসের চতুর্থ অধিবেশনের এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, দু'টি সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে যে ভয় মানুষের মধ্যে কাজ করছে, তার দূর করতে আনুষঙ্গিক কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকার। তিনি জানান, চীনের জনসংখ্যা সর্বোচ্চ ১৪৫ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। তারপর ২০৫০ সাল থেকে জনসংখ্যা কমে ১৩৮ কোটিতে দাঁড়াবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
লি বিন বলেন, চলতি বছর 'দুই সন্তান নীতি' কার্যকর করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মৌলিক গণসেবা বাড়ানো হবে। যেমন, বাচ্চাদের যত্ন নেওয়া, স্কুলপূর্ব শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে তাদের শিক্ষাদানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গণসেবার মান বাড়ানো হবে।
লি বিন বলেন, "শিক্ষা বিভাগ সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। এ ব্যবস্থায় সরকারি কিন্ডারগার্টেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে এবং বেসরকারি পর্যায়ে কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠাকে উত্সাহ দেওয়া হবে। তা ছাড়া, বিভিন্ন অঞ্চলে তিন বছর বয়সের নিচের শিশুদের জন্য ডে কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠার কাজ ত্বরান্বিত করা হবে এবং যেসব প্রতিষ্ঠানে নারী কর্মীর সংখ্যা বেশি, সেসব প্রতিষ্ঠানে ডে কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠাকে উত্সাহ দেওয়া হবে।"
চীনে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যাও পর্যাপ্ত নয়। 'দুই সন্তান নীতি' সফল করতে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যাও বাড়ানো প্রয়োজন। গেল শীতকালে হিম প্রবাহ ও ফ্লুর প্রভাবে কয়েকটি বড় শহরের হাসপাতালে শিশুচিকিত্সা ব্যহত হয়েছে এ কারণে। এ সমস্যার সমাধানের জন্য চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কমিশন সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে শিশুচিকিত্সা ও স্বাস্থ্য সেবা জোরদারবিষয়ক কার্যক্রম প্রণয়ন করছে। আশা করা হচ্ছে, সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে শিশুচিকিত্সার ক্ষেত্রে বিরাজমান সমস্যা দূর হবে।
লি বিন বলেন, "পরিকল্পনামতে, চাহিদা অনুসারে সরবরাহ বাড়ানো হবে এবং সেবার পরিধিও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি, চেষ্টা করা হবে চাহিদার চাপ কমাতে। এ জন্য রোগ প্রতিরোধের ওপর জোর দেওয়া হবে।"
লি বিন জানান, শিশুচিকিত্সাসেবার মান উন্নয়ন ও পরিধি বাড়ানোর ওপর সরকার জোর দিচ্ছে। ৩০ লাখ জনসংখ্যার প্রতিটি নগরে অন্তত একটি শিশু হাসপাতাল থাকবে। প্রতিটি শহর ও জেলায় সরকারি মানদণ্ড অনুযায়ী একটি করে শিশু ও মাতৃমঙ্গলকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হবে। তা ছাড়া, শিশুচিকিত্সায় দক্ষ কর্মীর প্রশিক্ষণও জোরদার করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশুচিকিত্সাবিষয়ক স্নাতক কোর্স খোলা হবে এবং শিশুচিকিত্সা বিভাগের মাস্টার ডিগ্রিধারী চিকিত্সকদের প্রশিক্ষণের মেয়াদ বাড়ানো হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, "শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের আয় অন্যান্য রোগের বিশেষজ্ঞদের আয়ের চেয়ে যাবে কম বা বেশি না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে।"
'দুই সন্তান নীতি'-র ফলে পরবর্তী কয়েক বছর চীনে সন্তান জন্মদানের সংখ্যা বাড়বে। কেউ কেউ আশঙ্কা করেন যে, এ নীতির দরুণ জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি ঘটবে। চীনের জনসংখ্যা সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করবে। এ প্রসঙ্গে লি বিন বলেন, চীনে 'দুই সন্তান নীতি'র আওতায় আসবে প্রায় ৯ কোটি দম্পতি। এ নীতি চালু হওয়ার পর জনসংখ্যা কিছুটা বাড়বে। আবার ২০৫০ সাল নাগাদ কর্মক্ষম জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি বাড়বে। তখন মোট জনসংখ্যায় প্রবীণ লোকের অনুপাত কিছুটা হ্রাস পাবে। জনসংখ্যার কাঠামোতে ভারসাম্য সৃষ্টি হবে।
লি বিন বলেন, "২০১৫ সালে চীনের মোট জনসংখ্যা ছিল ১৩৭ কোটি ৫০ লাখ। ২০৫০ সালে হতে পারে ১৩৮ কোটি। অর্থাত্ বর্তমান জনসংখ্যার সমান। অর্থনীতি, সমাজ, জনসংখ্যা, সম্পদ ও পরিবেশের সম্পর্ক বিবেচনা করে দেখলে এ জনসংখ্যা গ্রহণযোগ্য ।"
বর্তমান 'দুই সন্তান'নীতি সমাজের সমন্বিত উন্নয়নের জন্য সহায়ক। বর্তমান 'দুই সন্তান'নীতির আওতায় চীনে তালিকাভুক্ত নয় কোটি দম্পতি আছে। এ নীতি প্রণয়নের পর চীনের জনসংখ্যা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০১৫ সালে চীনের প্রযুক্তিগত গবেষণায় ১.৪ ট্রিলিয়ন ইউয়ান অর্থবরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যয় ছিল ৭৭ শতাংশ। ত্রয়োদশ পাঁচসালা পরিকল্পনায় সারা চীনে প্রযুক্তিগত গবেষণায় ২.৫ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বাদশ পাঁচসালা পরিকল্পনায় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে যে দশটি সূচক নির্ধারিত ছিল, গবেষণা ও পরীক্ষানিরীক্ষার ব্যয়ের সূচক ছাড়া অন্যান্য লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। এক্ষেত্রে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যয় নীতিমালা বাস্তবায়নের অবস্থা প্রকাশ করছে।

চীনে ই-বিজনেস আইনের খসড়া ইতোমধ্যে দ্বাদশ জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির পাঁচ বছরের আইনী পরিকল্পনার আওতায় এসেছে। বর্তমানে ই-বিজনেস-সংক্রান্ত আইনের খসড়া প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।
কানর ই-কমার্স বর্তমান অর্থনীতির উন্নয়ন, বিশেষ করে জনসাধারণের দৈনন্দিন জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু তা কোনো আইনের আওতায় না থাকায় কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে।
শুধু ই-কমার্স নয়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অন্য সমস্যাও রয়েছে। যেমন দায়িত্ব গ্রহণ, ক্রেতাদের তথ্য নিরাপত্তা দেওয়া এবং অন্যান্য অধিকারগুলো আইন মাধ্যমে রক্ষা করা উচিত।
বাংলাদেশেও ই-বিজনেস আইন নেই। এক্ষেত্রে চীনের কাছ থেকে সহযোগিতা নেওয়া সম্ভব।

চীনের গ্রামাঞ্চলে বর্তমানে ৩৩ লাখ শিক্ষক আছে। তাদের বেতনভাতা, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত পদবি মূল্যায়নে বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। তাই তাদের আরো বেশি সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে।
গত বছর জাতীয় পরিষদে গৃহীত গ্রামাঞ্চলের শিক্ষকদের সমর্থন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৬০ হাজার বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক শিক্ষক হিসেবে বিশেষ সুযোগ পেয়েছে। ১৬ লাখ গ্রামীণ শিক্ষক ও ২ হাজার গ্রামীণ স্কুল প্রশিক্ষণের আওতায় এসেছে। গ্রামীণ শিক্ষকদের জন্য ২২৮ কোটি ইউয়ানের বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ তিন ভাগের এক ভাগ শিক্ষকদের জীবনমান অনেক উন্নত হয়েছে।
প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা দেওয়া হলো এ বছর চীনের শিক্ষা খাতের প্রধান লক্ষ্য।

চীনের দ্বাদশ জাতীয় গণকংগ্রেসের চতুর্থ অধিবেশনের দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন ৯ মার্চ বুধবার বিকেলে চীনের গণভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পরবর্তী সময় জাতীয় গণকংগ্রেসের ৩ হাজার প্রতিনিধি নিজেদের দায়িত্ব পালন করে সরকারি কর্মরিপোর্ট পর্যালোচনা করবেন এবং অধিবেশনের সমাপ্তি লগ্নে ভোট দেবেন।

সূত্রঃ চায়না রেডিও ইন্টারন্যাশনাল (সিআরআই), বাংলা বিভাগ
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ১০:৩১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×