পন্টিংয়ের প্রতি করা প্রশ্নে গিলির উৎসাহের কারণ কি সেটা নিয়ে বরং প্রশ্ন উঠতে পারে। জবাবটা এরকম, 97 রানে অসি অধিনায়ক আউট হলে জয় নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাঠ ছাড়া হতো কিনা সন্দেহ! আর স্বস্তিনিয়ে পন্টিং বলতে পারতেন না,' উই হ্যাভ জাস্ট ডান এনাফ টু উইন দ্য ম্যাচ।' একইসঙ্গে 'ম্যান অব দ্য ম্যাচ'এর পুরষ্কার হাতে গিলক্রিস্টের ফটোসেশনটাও হয় না! মাশরাফি মতর্ুজার একটা ভুলই শেষ পর্যন্ত জয় পরাজয় নির্ণায়ক হয়ে গেলো! দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সামনে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো পন্টিংয়ের উইকেটটাই হতে পারতো স্বাগতিকদের জন্য টার্নিং পয়েন্ট। কিন্তু পন্টিংও আর আউট হলেন না, ম্যাচও বাংলাদেশের দিকে টার্ন করলো না!
ঘটনাটা অস্ট্রেলিয়ান দ্বিতীয় ইনিংসের 101 তম ওভারের। 307 রানের টার্গেটের পেছনে ছুটতে থাকা সফরকারীদের রান তখন 7 উইকেটে 283। জয় থেকে 24 রান দূরে থাকা অবস্থায় যদি পন্টিংকে ফেরানো যেত তাহলে স্বাগতিকদের জন্য জয় ছিলো সময়ের ব্যাপার। দ্বিতীয় নতুন বলে স্বাগতিক দুই পেসার বেশ বেগ দিচ্ছিলেন অসিদের। নাইনটিজে থাকা পন্টিংও ছিলেন কিছুটা নাভর্াস। সবমিলে প্রেক্ষাপট তৈরী হলো ঠিকই কিন্তু কাজের কাজটা হলো না। শাহাদাত হোসেন রাজিবে করা ওই ওভারের পঞ্চম বলে পুল করতে গিয়ে সময়ের হেরফেরে বল আকাশে তুলে দিলেন পন্টিং। লং লেগে দাঁড়ানো মাশরাফি বল দেখতে একটু দেরী করে ফেললেন। এমনকি বলের নিচে যেতেও দৌড়ালেন আঁকাবাঁকা ভাবে! শেষ অবধি বল তার হাতের তালুকে ফাঁকি দিয়ে পড়লো মাটিতে! অথচ এটা হতে পারতো একটা সহজ ক্যাচ! শেষ পর্যন্ত পন্টিংয়ের অপরাজিত 118 রানের ক্যাপ্টেন্স নকে স্বপ্নভঙ্গ হলো বাংলাদেশের। খেলা 5 দিনে টেনে নিয়ে যাওয়া আর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে লড়াই করে 3 উইকেটের হার, এই প্রাপ্তি নিয়েই শেষ হলো ফতুলস্না অভিযান! অথচ ওই একটি ক্যাচই সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় আপসেটের জন্ম দিতে পারতো! কার্ডিফের দুঃস্বপ্ন দীর্ঘায়িত হয়ে চলে আসতে পারতো ফতুললাতেও!
আক্ষেপটা তাই থেকেই গেলো! বাগে পেয়েও বাঘ ক্যাঙ্গারম্ন শিকারে ব্যর্থ হলো! টেস্টে একটা ভুলই ম্যাচের সব হিসাব নিকাশ বদলে দিতে পারে। এমনকি বদলে দেয় ম্যাচ ভাগ্যও! তারই দৃষ্টান্ত হয়ে থাকলো ফতুল্ললা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


