তো আমার বন্ধু বিয়ে করে এসেই বউ আনার যোগার যন্ত করে ফেল্লেন। আমি যেখানে থাকি, সেটা হল জাপান অ্যাসোশিয়েসন ফর স্টুডেন্ট সার্বিস অর্গানাইজেশান (ঔঅঝঝঙ)- এর একটা ডর্ম। এখানে অদ্ভূত সব নিয়ম কানন। আমি আসার আগে যে কেউ এখানে যতদিন খুশী থাকতে পারত। কিন্তু এখন নতুন নিয়ম করেছে দুই বছরের বেশী কেউ থাকতে পারবেনা। আমাদের ডর্ম-এ দু-ধরণের রুম আছে। সিংগল (ব্যাচেলদের জন্য) আর কাপল (নন-চাইল্ড ম্যারিডদের জন্য)। অন্যান্য পাবলিক হাউস থেকে এখানে রেন্ট অবিশ্বাস্য রকম সম বলে রুম পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিযোগীতা করতে হয়। শুধু বিদেশী স্টুডেন্টদের জন্য হলেও দুই-চার জন জাপানীজ ও থাকে এখানে। তবে তাদের ক্ষেত্রে অন্যতম যোগ্যতা হিসাবে ইংরেজীতে জুজু (জাপানী এই শব্দের বাংলা পারদশর্ী) হতে হয়।
বিয়ের পর খরচের কথা চিন্তা করে আমার বন্ধু বিয়ে করতে দেশে যাওয়ার আগেই এখানে কাপল রুমের জন্য আবেদন করে গিয়েছিল। শুনেছি বিয়ের পর না-কি মানুষের ভাগ্য খুলে যায়। যদিও আমার ক্ষেত্রে তার উল্টোটাই হয়েছে। কিন্তু আমার বন্ধুর কপাল ঠিকই খুলে গেল। দেশ থেকে এসে খুজ নিয়ে জানতে পারল তার আবেদন কবুল হয়েছে। কিন্তু সমস্যা একটা রয়ে গেল। আইন অনুসারে বউ ছাড়া ওই রুমে সে উঠতে পারবেনা। বাংলাদেশ হলে না হয় টু-পাই দিয়ে ম্যানেজ করে ফেলা যেত। কিন্তু এতো জাপান। নিয়মের বাইরে এক চুলও যাবেনা। আমাদের ডর্মে অনেক সময় অনাকাংক্ষিত সমস্যায় পড়ে যদি নির্ধারিত সময়ের কিছু বেশী থাকতে আবেদন করে, মানবিক কারণ হলেও ওরা কোন ধরণের কন্সিডারেশান করবেনা। তাই বউ আসা পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে।
সময় চলে গেল খুব তাড়াতাড়ি (আমার বন্ধুর কাছে হয়তো তেমন তাড়াতাড়ি মনে হয়নি)। একদিন বন্ধু আমার টোকিও গেল বউকে আনতে। বাংলাদেশ থেকে জাপান আসতে প্রায় ছত্রিশ ঘন্টার মামলা। এই বিশাল সময়ের ক্লান্তিকর সফর শেষে যখন আমার বন্ধু-বউ যখন ইমিগ্রেশানের ঝামেলা শেষে বের হল, তখন তার বিষন্ন মুখ দেখে বন্ধু বোধ হয় আর সহ্য করতে পারলনা। তাই কি ভাবে নতুন বউয়ের এই বিষন্নতা দূর করা যায়, ভাবতে লাগল। ওই দিকে সময় ও নেই। ফিরতি বাসের টিকেট কাটা আছে। তাই বন্ধু বউকে বল্ল, চল চা খেয়ে বাসে চড়ি। তারপর একটা ভাল করে ঘুম দিলে দেখবে ক্লান্তি র্দর হয়ে যাবে।
বউ আর কি বলবে। কিছু জানে না, চিনে না। চা খাওয়ার প্রস্তাবে সম্মতি দিল। আমার বন্ধু পাশের ব্লেন্ডার মেশিন থেকে দু'টো উঁচা-র (চা কে জাপানীতে উঁচা বলে) ক্যান নিয়ে তার একটি বউয়ের হাতে দিল। তারপর বাসে চেপে বসল। ওদিকে বন্ধু-বউ ক্যান হাতে নিয়ে বসে আছে। খাচ্ছেনা দেখে বন্ধু বল্ল, কি ব্যাপার খাচ্ছনা কেন। বউ বল্ল, তুমি না বল্লে চা নিবে। চা খেয়ে তারপর এটা খাব।
আমার বন্ধু ততক্ষণে নিজের ভূল বুঝতে পারল। এই নতুন তরল পদার্থের সাথে বউ যে পরিচিত নয়, সেটা তার মাথায়ই আসেনি। তারপর নতুন এই পানীয়-র উপর ছোট খাট একটা লেকচার দিল। পেশায় শিক্ষক আমার বন্ধু নতুন ছাত্রীর সামনে লেক্চার ভালই দিলেন। লেক্চার শুনে বন্ধু-বউ উঁচা সম্পর্কে অগাধ জ্ঞান লাভ করিলেন। কিন্তু তাতে তো আর ক্লান্তি দূর হবেনা। তাই ক্যান খুলে নাকের কাছে নিয়ে সদ্য সমাপ্ত লেকচারের সাথে একটু মিলিয়ে নিতে চাইলেন। ক্যান খুলার সাথে সাথে বিশী্র ধরণের অদ্ভূত এক গন্ধ সারা শরীরের শিরায় উপশিরায় ছড়িয়ে পড়ল
। চা-এর গন্ধ যে এমন হতে পারে তা হয়তো তিনি ভাবতেও পারেননি। কিন্তু কি আর কররেন, সেটাই তখনকার মত দম বন্ধ করে গিলে গেলেন।
জাপানীরা 'র (ৎধ)ি' খাবার বেশী পছন্দ করে। উঁচা জাপানীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় পানীয়। যে সব বিদেশী অনেক দিন থেকে জাপানে আছেন, তারাও এটা ভীষণ পছন্দ করেন। বিশেষ করে বাচ্চারা। আমি এমন অনেক বাংগালীকেও দেখেছি যারা কোক বা অন্যান্য কোল্ড ড্রিংক্স-এর চেয়ে উঁচা-ই বেশী পছন্দ করেন। কাঁচা চা পাতার নির্যাস থেকে তৈরী এই উঁচা স্বাস্থ্যের পক্ষেও খুব ভাল। যদি কখনো কারো সুযোগ হয়, দুর্পীয় এই জাপানী চা চেখে দেখার নিমন্ত্রণ রইল।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




