অনেক কিছুই স্মৃতিতে ধরে রাখা যায় না। আবার অনেক কিছু্কেই মুছে ফেলা যায় না মনের কেনভাস থেকে। কোনটা ধরে রাখব আর কোনটা মুছে ফেলব, সেটাও আবার অনেক সময় নিজে থেকে নির্বাচন করা যায় না। কিছু জিনিস এমনিতেই মনের ভিতর রয়ে যায় অলক্ষ্যে অগোচরে। আবার কিছু জিনিস অলক্ষ্যেই হারিয়ে যায়। এই রয়ে যাওয়া আর হারিয়ে যাওয়ার ভিরে মাঝে মাঝে এমন কিছু ঘটনা মনের ছোট্র জানালায় উকি দিয়ে উঠে যায়, যা কিছুটা হলেও বর্তমানকে নাড়িয়ে দেয়।
অনেক হাটার পরেও তার সাথে হাটার আনন্দ যেন শেষ হয়না। সন্ধ্যার পর সোডিয়াম লাইটের হলদে আলোর নীচে কেমন যেন একটা অস্পস্ট অন্ধকার জমে থাকে। সেই অস্পস্ট অন্ধকারটা কখনো সখনো বেশ রোমান্টিক হয়ে উঠে। শরতের রাতে সোডিয়াম লাইটের সেই আলো-আধারিতে যখন তার পাশাপাশি হাটতাম, তখন পৃথিবীটা চারপাশের পৃথিবীটা কেমন রগ্ঙীন হয়ে উঠত। আর সেই রং শরীর ভেদ করে মনের আকাশটাতেও ছড়িয়ে পড়ত খুব দ্রুত। মন রাগ্ঙানো সেই সন্ধ্যাগুলো আজো ভূলে থাকা হয় না।
প্রান্তিক থেকে চৌরঙ্গী। তারপর সোজা শহীদ মিনার। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর সামনের রাস্তাটাতেও আমাদের পায়ের ছাপ লেগে আছে এখনো। রাতের বাতাসে শরতের শিশির ভেজা গন্ধটা কেমন যেন উপঘটক হিসাবে কাজ করত আমাদের মৌন পথচলায়। পুকুরের জলে ছোট ছোট ঢেউ তুলে দখিনা বাতাস তার নাতিদীর্ঘ চুলগুলোয় কোমল পরশ বুলিয়ে দিয়ে যেত। তার চুল ছুয়ে আসা সেই বাতাসে একটা মিষ্টি গন্ধ ভেসে আসত।
রাস্তার দুই পাশে সারি সারি মেহগনি গাছ। পুকুরের মাঝ থেকে কখনো কখনো রাত জাগা জলচর পাখির কিচিরমিচির শব্দ। গণিত ভবনের পেছনের ইউকেলিপটাস বন থেকে রাতের কোন পাখির কিংরা শেয়ালের ডাক শোনা যেত থেমে থেমে। রাস্তায় কোলাহল করবে কে। পড়ুয়া ছাত্ররা সন্ধ্যা থেকেই টেবিলে মুখ গুজে আগামীকালের লেকচার রেডি করছে। আড্ডাবাজ ছাত্ররা সেই প্রান্তিক, চৌরগ্ঙী, শিরিণ খালার দোকানে কিংবা ডেইরি গেটের আড্ডায় হাসির তুফান তুলছে। মাঝে মাঝে দু'একটা রিক্সা টুনটুন আওয়াজ তুলে আমাদের গায়ে বাতাসের হালকা পরশ দিয়ে ছুটে যায়। এসবের দিকে আমাদের কোন মনযোগ নেই। হেটে চলছি তো চলছিই। কোন ক্লান্তি নেই। কখনো টুকটাক কথা চলত। গল্প হত খুব সাধারণ কিছু বিষয় নিয়ে। আবার কখনো সখনো অনেকটা পথ হাটা হয়ে যেত কোন কথা ছাড়াই। কি এক মোহময়তায় পা দু'টি পড়ছে একটির পর অন্যটি, আমাদের জানা নেই। মনে হত, এ চলার যদি শেষ না হত।
তবু শেষ হত আমাদের পথ চলা। হলে ফিরে এসে হয়তো দেখা যেত ডাইনিংয়ের টেবিলে দু'একজন এখনো ব্যর্থচেষ্টা করছে বাটির তলার অবশিস্ট ডাল দিয়ে উদর পুর্তি করতে। আমিও যোগ দিতাম তাদের সাথে। তারপর পড়ার টেবিলে বই খুলে বসা।
এত পথচলার পরেও তাকে বলা হয়ে উঠেনি মনের কথাটা। আর হবেও না কোন দিন। কেমন আছে সে? অনেক দিন জানা হয় না।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


