somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

১৯৮৪ থেকে ২০০৮। পড়াশোনার শেষ পাঠ।

১১ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একজন কুলি যখন দুই মন ওজনের একটা বস্তা মাইল দুই বয়ে নিয়ে যথাস্থানে ধরাম করে ফেলে, তখন তার নিজেকে কতটা হালকা মনে হয় আমার জানা নেই। গত তিন বছর ধরে যে বোঝাটা আমি বয়ে বেড়িয়েচছি, সেটার ওজন কত হবে তাও কোন ওয়েট মিটার দিয়ে মাপা যাবে না। কিন্তু গতকাল বিকাল ৪:৩০ থেকে ৬:২০ পর্যন্ত একটা লেকচার (প্রেজেনটেশান) এবং ৬:২০-৭:০০ টা পর্যন্ত তার উপর ডিসকাশন-এর পর যখন বের হয়ে আসি রুম থেকে, আমার মনে হয়েছিল আমি যেন মহাশূন্যের ওই স্থানটাতে ভেসে বেড়াচ্ছি যেখানে সকল বস্তুর ওজন শূন্য।

তিন বছরের গবেষণার ফলাফল মাত্র ৫০ টা স্লাইড-এ উপস্থাপন করা কতটা কষ্টকর আমি টের পাচ্ছিলাম গত কয়েকটা সপ্তাহ ধরে। কিন্তু সেই স্লাইডগুলোই যখন আকুন্ঠ প্রশংসা পেল আমার সামনে বসা বাঘা বাঘা প্রফেসরদের কাছ থেকে, আমার সমস্ত কষ্ট উড়ে গেল মুহুর্তেই। একজন প্রফেসর তো বলেই ফেল্লন-

: "তুমি এত কাজ করলে, অথচ তোমার সাথে কোনদিনও তো দেখা হয়নি গত তিন বছরে! আই এপ্রিসিয়েট ইউর ইফোর্টস। ইউ ওয়েলডান। কনগ্রাচুলেশান্স।"

তারপর আমার প্রফেসর (সুপারভাইজার) অন্য প্রফেসরদের সাথে কি কি যেন আলোচনা করলেন (জাপানীতে), তা বুঝার মত পর্যাপ্ত জাপানী শব্দ ভান্ডার আমার হার্ডডিস্কে ছিল না। পরে অবশ্য আমার প্রফেরসকে একা পেয়ে জেনে নিয়েছিলাম তাদের আলোচনার সারসক্ষেপ। শুনে আমি কতটা উচ্চে উঠে গিয়েছিল যে পাশের শত ফুট উচু পাহাড়টাকে ও খুবই ক্ষুদ্র বলে মনে হল। আমার প্রেজেনটেশান -এর একজন এক্সামিনার না কি আমার সুপারভাজার কে বলেছিলেন-

: "আমি ঠিক এমন একজন ছাত্রই খুজছি।"

যাই হোক। তিন বছরের বোঝাটা এখনো পুরোপুরি নামেনি মাথা থেকে। আগামী ৬ আগষ্ট শেষ হবে আনুষ্ঠানিক পড়াশোনার সেই পাঠ। ১৯৮৪ সালে পড়াশোনার যে পাঠ শুরু করেছিলাম, তা শেষ হতে যাচ্ছে খুব শীগ্রই। তারপর কর্মজীবনের কন্টকিত পথে শুরু হবে পথচলা। সেই পথচলায় সবার দোয়া পাব আশা করি।
১৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×