একজন কুলি যখন দুই মন ওজনের একটা বস্তা মাইল দুই বয়ে নিয়ে যথাস্থানে ধরাম করে ফেলে, তখন তার নিজেকে কতটা হালকা মনে হয় আমার জানা নেই। গত তিন বছর ধরে যে বোঝাটা আমি বয়ে বেড়িয়েচছি, সেটার ওজন কত হবে তাও কোন ওয়েট মিটার দিয়ে মাপা যাবে না। কিন্তু গতকাল বিকাল ৪:৩০ থেকে ৬:২০ পর্যন্ত একটা লেকচার (প্রেজেনটেশান) এবং ৬:২০-৭:০০ টা পর্যন্ত তার উপর ডিসকাশন-এর পর যখন বের হয়ে আসি রুম থেকে, আমার মনে হয়েছিল আমি যেন মহাশূন্যের ওই স্থানটাতে ভেসে বেড়াচ্ছি যেখানে সকল বস্তুর ওজন শূন্য।
তিন বছরের গবেষণার ফলাফল মাত্র ৫০ টা স্লাইড-এ উপস্থাপন করা কতটা কষ্টকর আমি টের পাচ্ছিলাম গত কয়েকটা সপ্তাহ ধরে। কিন্তু সেই স্লাইডগুলোই যখন আকুন্ঠ প্রশংসা পেল আমার সামনে বসা বাঘা বাঘা প্রফেসরদের কাছ থেকে, আমার সমস্ত কষ্ট উড়ে গেল মুহুর্তেই। একজন প্রফেসর তো বলেই ফেল্লন-
: "তুমি এত কাজ করলে, অথচ তোমার সাথে কোনদিনও তো দেখা হয়নি গত তিন বছরে! আই এপ্রিসিয়েট ইউর ইফোর্টস। ইউ ওয়েলডান। কনগ্রাচুলেশান্স।"
তারপর আমার প্রফেসর (সুপারভাইজার) অন্য প্রফেসরদের সাথে কি কি যেন আলোচনা করলেন (জাপানীতে), তা বুঝার মত পর্যাপ্ত জাপানী শব্দ ভান্ডার আমার হার্ডডিস্কে ছিল না। পরে অবশ্য আমার প্রফেরসকে একা পেয়ে জেনে নিয়েছিলাম তাদের আলোচনার সারসক্ষেপ। শুনে আমি কতটা উচ্চে উঠে গিয়েছিল যে পাশের শত ফুট উচু পাহাড়টাকে ও খুবই ক্ষুদ্র বলে মনে হল। আমার প্রেজেনটেশান -এর একজন এক্সামিনার না কি আমার সুপারভাজার কে বলেছিলেন-
: "আমি ঠিক এমন একজন ছাত্রই খুজছি।"
যাই হোক। তিন বছরের বোঝাটা এখনো পুরোপুরি নামেনি মাথা থেকে। আগামী ৬ আগষ্ট শেষ হবে আনুষ্ঠানিক পড়াশোনার সেই পাঠ। ১৯৮৪ সালে পড়াশোনার যে পাঠ শুরু করেছিলাম, তা শেষ হতে যাচ্ছে খুব শীগ্রই। তারপর কর্মজীবনের কন্টকিত পথে শুরু হবে পথচলা। সেই পথচলায় সবার দোয়া পাব আশা করি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


