somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টুকরো স্মৃতি-১

২৮ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৯:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তখনো অন্ধকার পুরোপুরি কাটেনি। পূবের আকাশ হালকা আলোর রেখায় ধীরে ধীরে স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হচ্ছে। নিঝুম গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষগুলো এখনো ঘুম থেকে জাগেনি। সকালের পাখিরা ঘুম জড়নো কন্ঠে ডেকে যাচ্ছে অবিরত। সবুজ গ্রামটার মুখে কি এক মুগ্ধকরা সতেজতা।

আমার ঘুম কেন যেন হঠাৎ করেই ভেঙ্গে গেল। ছোট্র মাটির ঘরের গুলগুলির মত জানালাটা খোলা-ই থাকে সারা রাত। সেই জানালা দিয়ে তাকালাম বাইরের দিকে। রাত কতটা ঠিক ঠাহর করা যাচ্ছিল না। একটু এপাশ ওপাশ করে ও আর ঘুমাতে পারলাম না। বিছানা ছেড়ে বাইরে এসে দাড়ালাম। দূরের মসজিদ থেকে ভেসে আসছে আযান। আমি ঘুম জড়ানো চোখে হাটতে হাটতে এসে দাড়ালাম আমাদের বাড়ির সামনের প্রসস্ত খোলা মাঠটার প্রান্তে। ভোরের কোমল বাতাস আমার অনুভূতিতে অন্যরকম একটা পরশ দিয়ে গেল।

মাঠটার ঠিক সামনে দিয়ে চলে গেছে আমাদের গ্রামের প্রধান সরকটা। আমি হাটতে শুরু করলাম সেই সরক দিয়ে। পথে দু'একজন মুসল্লির সাতে দেখা হল। তাদের কেউ-ই আমাকে খুব একটা চেনেন বলে মনে হল না। না চেনার-ই কথা। একে বারে গ্রামের ছেলে হলেও লেখাপড়ার ছুতোয় সেই ৯ বছর বয়স থেকেই গ্রাম ছাড়া। তবু নিজেকে আমার একনিষ্ঠ গেয়ো বলেই মনে হয়। কারণ, অনেক দিনের শহর বাস আমার মন থেকে গ্রামের আবহটা মুছে দিতে পারেনি এতটুকুন ও। শহরের মাঝে থেকে ও আমি আমার মনে ছোট্র একটা গ্রামকে লালন করে চলেছি প্রতি নিয়ত।

হাটতে হাটতে বেশ অনেকটা পথই চলে এলাম। আমি তখন একটা ছোট্র কালভার্ট-এ দাড়িয়ে। সামনে-পিছে আদিগন্ত বিস্তৃত সবুজ ধানক্ষেত। সরকটা দুই পাশের দু'টো গ্রামকে যুক্ত করে রেখেছে। সকালের আলোর রেখা ফুটতে এখনো বেশ খানিকটা দেরি। ধানের সবুজ গাছগুলোর উপর দিয়ে বয়ে আসা সকালের ভিজে বাতাস ফুসফুসের ভেতর প্রবেশ করে আমার হৃদয়টাকেও যেন ভিজিয়ে দিচ্ছিল। ভেজা মনের সেই সুখ আজো আমার মনে সজীব হয়ে আছে।



আমার টেবিলের সামনে একটা বিশাল কাচের জানালা। খোলা হয় কদাচিৎ। পাচ তালার এই রুমটা থেকে জানালার কাচ গলে সামনে দৃষ্টি রাখলেই দেখা যায় ঢেউ খেলানো পাহাড়ের সাড়ি আর তার ছোট্র উপত্যকা দিয়ে চলে যাওয়া মসৃণ সরক। সেই সরক দিয়ে মিনিট পাচেক হাটলে একটা ছোট্র কালভার্ট পড়ে। সেই কালভার্টে দাড়িয়ে মাঝে মাঝে আমি বিকালের সূর্যডুবা দেখি। পাহাড়ী বাতাস গায়ে মাখি। সবুজ পাহাড়ের সিগ্ধতা অনুভক করি। কিন্তু আমার ফেলে আসা সেই ছোট্র গ্রামের ছোট্র কালভার্টে দাড়িয়ে যে সবুজকে উপভোগ করতাম, সেই অনুভুতি পাই না। বাতাসে সেই চীরচেনা গন্ধ পাই না। ফুসফুস ভরে বাতাস নিলেও কেমন যেন এটা শুন্যতা থেকে যায়। তাই কেবলই ইচ্ছে করে আবার চলে যাই সেই ছোট্র গ্রামে।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৯:৫৯
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth-রূপের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

প্রশ্ন ও প্রারম্ভিক জিজ্ঞাসাঃ
আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জেগে উঠেছে জামাত-শিবিরের রগ কাটা বাহিনী

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:০৫



গণ অধিকার পরিষদের এক কর্মীর পায়ের রগ কেটে দিয়েছে জামায়াত-শিবির।

কুষ্টিয়ায় গণ অধিকার পরিষদের নেতারা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের এক কর্মীর পায়ের রগ কেটে দিয়েছেন জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মদিনে তাহাদের জন্য শুভকামনা। আমার জন্মদিনের স্মৃতি...

লিখেছেন করুণাধারা, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



একেকটা জন্মদিন পার করা মানে জীবন বইয়ের একেকটা পৃষ্ঠা পড়ে ফেলা, কয়েক বছর পরপর সেই বইয়ের একেক অধ্যায় শেষ হয়! বইটা ট্রাজেডি না কমেডি, একেবারে শেষ পর্যন্ত না পৌঁছালে তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×