সব ইভিলের শিরোমণি যখন মিডিয়া (মিনার রশীদ-এর কলাম থেকে)।
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
কিছু মিডিয়ার সাথে সব ইভিলের শিরোমণি মানে ডেভিল বা শয়তানের কাজের কিছুটা মিল লক্ষ করা যায়। মিচকে সে শয়তান বড় ধরনের কোনো শয়তানিতে ব্যর্থ হয়ে একটা কাঠিতে সামান্য মিষ্টি লাগিয়ে দেয়। সেই মিষ্টির গন্ধে একটি মাছি সেখানে এসে বসে। সেই মাছিটিকে ধরার জন্য একটি টিকটিকি এগিয়ে আসে। আর সেই টিকটিকিকে ধরার জন্য একটি বিড়াল এবং বিড়ালকে ধরার জন্য একটি কুকুর এগিয়ে আসে। কুকুর ও বিড়ালের সেই ঝগড়াটি খুব সহজেই তাদের মালিকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। আর কুকুর-বিড়ালের মালিকের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে নিজ নিজ গোত্র। তা থেকে বড় ধরনের একটি যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। তখন কেউ ভাবতেও পারেনি যে ছোট্ট একটি মিষ্টি কণা এই যুদ্ধটি বাধিয়েছে।
একটি পত্রিকা গত ৮ সেপ্টেম্বর একটি সংবাদ ছাপে প্রথম পতায় যার শিরোনামটি ছিল "আঞ্চলিক বৈষম্যে বাংলাদেশ বিভক্ত� পূর্বাঞ্চল এগিয়ে, পশ্চিমাঞ্চল পিছিয়ে"। সাথে একটি মানচিত্রও দেয়া হয়েছে দেশটিকে উত্তর থেকে দক্ষিণে ভাগ করে। এই মানচিত্রটির সাথে বঙ্গভূমিওয়ালাদের সৃষ্ট মানচিত্রের বেশ মিল রয়েছে। এখন এই লাইন বরাবর পূর্ব-পশ্চিমের অর্থনৈতিক বঞ্চনার বোধটি যদি সৃষ্টি করে দেয়া যায় তবে কার উপকার হবে তা সহজেই অনুমেয়। কারণ অর্থনৈতিক বৈষম্যের বোধ সৃষ্টি করে দিতে এবং সেখানে কোনো আঞ্চলিক বা সামাজিক বর্ডার লাইন সৃষ্টি করতে পারলে সিঙ্গেল ইউনিটের এই দেশটিকে আচ্ছাভাবে জব্দ করা সম্ভব হবে। আজ কাঠিতে সামান্য যে মিষ্টি কণাটি লাগানো হয়েছে তার ফলাফল আসবে আরো কয়েক যুগ পরে। মানচিত্রের বুক বরাবর আজ যে লাইন টানা হয়েছে সময়ের সাথে সাথে সেখানে কি কাঁটাতার বা এ জাতীয় কোনো প্রাচীর দাঁড়িয়ে যাবে?
এই লাইনের পূর্ব দিকে রয়েছে রাজধানী শহর ঢাকা ও দেশের মূল বাণিজ্যিক শহর চট্টগ্রাম। রয়েছে বেশিসংখ্যক প্রবাসীদের বিশেষ করে ব্রিটেনে অবস্থানরত প্রবাসীদের আবাসস্থল সিলেট। কাজেই এই তিনটি শহর বা জায়গাকে ঘিরে কেন বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে ও বেশি সম্পদ পুঞ্জীভূত হয়েছে তা সহজেই অনুমেয়। অথচ এই প্রতিবেদনটিতে এই বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমান পুঁজিবাদী সিস্টেমে শহর থেকে গ্রামীণ অর্থনীতি পিছিয়ে পড়ছে। বড় শহর এগিয়ে যাচ্ছে ছোট শহরকে অনেক পেছনে ফেলে। কাজেই এই বৈষম্যটি দুয়েকজন সাইফুর রহমানের জন্য ঘটেনি। আরো অনেক কারণ এর পেছনে জড়িত রয়েছে। কাজেই একই জিনিসকে বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করা যায়। এটি নির্ভর করে কোন উদ্দেশ্যে এটা উপস্থাপিত হচ্ছে সেই উদ্দেশ্যের ওপর। কাজেই সম্পদের এই বৈষম্য সৃষ্টির মূল কারণগুলোকে এড়িয়ে সরাসরি এভাবে একটি আঞ্চলিক বিভেদ লাইন সৃষ্টি কোনো ভালো উদ্দেশ্যে করা হয়েছে তা ভাবা কঠিন। যেখানে বঙ্গভূমিওয়ালা এবং তাদের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সহযোগীরা ওঁৎ পেতে আছে এমন কোনো বঞ্চনাবোধ সৃষ্টির জন্য। বিষয়টি এই পত্রিকাটির না জানার কথা নয়।
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন
অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন
এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে
একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।
গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন
আগে নিজেকে বদলে দিন

"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।