somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মসলিন কাপড়ের ইতিহাস

২৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার এক class 5 এর ছাত্রকে পরানোর সময় প্রথম জানতে পারি মসলিন সংক্রান্ত চমৎকার একটি তথ্য। তারপর বাংলা wikipedia তে সার্চ দিয়ে যা পেয়েছি তা এখানে দেওয়া হল।

মসলিন তুলার আঁশ থেকে প্রস্তুত করা এক প্রকারের অতি সুক্ষণ কাপড়। এটি প্রস্তুত করা হতো পূর্ব বাংলার সোনারগাঁও অঞ্চলে। মসলিনে তৈরী করা পোশাকসমূহ এতই সুক্কণ ছিলো যে ৫০ মিটার দীর্ঘ মসলিনের কাপড়কে একটি দেশলাই বাক্সে ভরে রাখা যেতো।

ভারতে ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে উনবিংশ শতাব্দীতে স্থানীয় ভাবে প্রস্তুত করা বস্ত্রের উপরে ৭০ হতে ৮০ শতাংশ কর আরোপ করা হয়, যেখানে ব্রিটেনে প্রস্তুত করা আমদানীকৃত কাপড়ের উপরে মাত্র ২ থেকে ৪ শতাংশ কর ছিলো। এর ফলে ভারতীয় উপমহাদেশের তাঁতশিল্পে ধ্বস নামে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকেরা মসলিন উৎপাদন বন্ধ করার জন্য মসলিন বয়নকারী তাঁতীদের হাতের বুড়ো আঙুল কেটে নেয় বলে কথিত আছে


মূলত ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় উৎপন্ন তুলা থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সুতা তৈরি করে তা দিয়েই বোনা হতো মসলিন। আর কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে সুক্ষতা আর দক্ষতা ফুটিয়ে তোলার যে জ্ঞান সেটা তাঁতিরা অর্জন করতেন অনেকটা বংশানুক্রমেই। ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে ঢাকায় পা রাখা একাধিক পর্যটকের হাত ধরে মসলিন এর খ্যাতি পৌঁছে যায় চীন থেকে রোম অবধি।
সেখানকার সম্রাট আর রাজা-বাদশাদের উপঢৌকন হিসেবে সীমিত আকারে রপ্তানি হতে থাকে ঢাকাই মসলিন। একই ভাবে মসলিন এর উন্নত ও অনুন্নত কিছু সংস্করণ সে সময় ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে স্থানীয় অধিবাসীদের কাছেও। তবে ঢাকাই মসলিন তার খ্যাতি এবং মনোযোগের শীর্ষে পৌঁছায় মূলত মোঘল শাসনামলেই।

মোঘল বংশীয় নবাব আর জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতায় মসলিন যেমন আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে ওঠে তেমনি ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকেও বাড়তে থাকে এর গুরুত্ব। মলমল, ঝুনা, রঙ, খাসা, শবনম, আলাবালি, তানজিব, নয়নসুখ, কুমিস, ডুরি, চারকোনা, জামদানী প্রভৃতি হরেক মান আর হরেক নামে মসলিনের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজোড়া।
আর খ্যাতির এই টানেই বহু ইংরেজ বণিক ছুটে আসেন ঢাকাই মসলিনের কাছে। ধারণা করা হয়ে থাকে যে, বাংলার ঐতিহ্য আর ঢাকার গর্ব সুক্ষাতিসুক্ষ এই কাপড়ের নাম মসলিন হবার পেছনেও হাত রয়েছে ইংরেজ বণিকদেরই।
কারো কারো মতে ইরাকের মসুল শহর থেকে আমদানী করা পাতলা কাপড়কেই মসলিন বলতো ইংরেজরা। আবার কেউ কেউ মনে করেন ভারতে ইংরেজদের বাণিজ্যিক আখড়া মুসলিপট্টম এর নাম থেকেই উদ্ভব হয়েছে মসলিন নামটির।
তবে নাম নিয়ে যতো সংশয়ই থাকুক না কেন, এটা সবাই প্রায় এক বাক্যেই স্বীকার করেন যে সে আমলে ঢাকাই মসলিন এর মতো এতোটা খ্যাতি আর মান আর কোথাও ছিল না। পলাশীর যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ইংরেজ বণিকদের স্বেচ্ছাচার, ক্ষমতা হারানো মোঘল নবাবদের পৃষ্ঠপোষকতার অভাব আর ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের সাথে প্রতিযোগিতায় কুলিয়ে উঠতে না পারায় ক্রমেই বিলুপ্তির পথে অগ্রসর হয় ঢাকাই মসলিন।
ঢাকা, সোনারগাঁও, ধামরাই, জঙ্গলবাড়ি এবং বাজিতপুর এলাকার যেসব তাঁতিরা মসলিন কাপড় বুনতেন তারা টিকে থাকার স্বার্থে তাদের কাজের ধরণ পাল্টে ফেলেন। ফলে যুগ যুগ ধরে যে বংশানুক্রমিক ঐতিহ্য আর অভিজ্ঞতা মসলিনকে দিয়েছিল আকাশছোঁয়া খ্যাতি, সেই মসলিন বুননের জ্ঞানও হারিয়ে যায় কালের গর্ভে। মানের অবনমনের পাশাপাশি সুক্ষ তন্তুজাত এই শাড়ি সংরণের অভাবে হারিয়ে যায় ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকেও।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:২৬
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×