somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে আমাদের নির্বাচকদের মাথা নষ্ট !!!

১৪ ই জুন, ২০১৫ ভোর ৫:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ দল:
মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, আরাফাত সানি , তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেন, রনি তালুকদার, লিটন কুমার দাস, মুস্তাফিজুর রহমান।

ওয়ান ডে দলে আবারো নির্বাচকরা মোমিনুলকে দলে রেখেছে। এই ছেলেটাকে ওয়ান ডে তে টানাটানি করে ওর টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ করতে চায় আমাদের গবেট মস্তিস্কের নির্বাচকগণ। ভারতের বিপক্ষে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৮, ২১ ও ২৪ জুন তিনটি ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ। কিন্তু দলে ব্যাটসম্যান কোথায়? বোলারের এতো ছড়াছড়ি কেন? ব্যাটসম্যানের সংখ্যা পোষাতেই কী মোমিনুলকে আবারো ওয়ান ডে তে রাখা হয়েছে?

যদি তামিম ইকবাল আর রনি তালুকদার ওপেন করে তাহলে সৌম সরকারকে ওয়ান ডাউনে নামানো হোক। চার ও পাঁচ নাম্বারে মুশফিকুর রহিম ও শাকিব আল হাসান খেলুক। ছয় ও সাত নাম্বারে নাম্বারে লিটন কুমার দাস ও নাসির হোসেন খেলুক। এখন প্রশ্ন হল আট, নয়, দশ ও এগারো নাম্বারে কে কে খেলবে?

যদি রনি ওপেন করে তাহলে মাশরাফি বিন মুর্তজা আট নাম্বারে, নয় নাম্বারে তাসকিন আহমেদ, দশ নাম্বারে রুবেল হোসেন ও এগারো নাম্বারে মুস্তাফিজুর রহমান। তাহলে ব্যাটসম্যান হিসেবে পাচ্ছি তামিম, রনি, সৌম্য, মুশফিক, শাকিব, লিটন আর নাসিরকে। আর বোলার হিসেবে পাচ্ছি মাশরাফি, তাসকিন, রুবেল ও মোস্তাফিজকে। এমন কি প্রয়োজনীয় মুহূর্তে মাশরাফিও ভালো ব্যাট করতে জানে। সেক্ষেত্রে চার পেসার পাচ্ছি দলে। সঙ্গে শাকিব আর নাসিরের স্পিন তো আছে। এ গেল আমার ফার্স্ট সিলেকশান।

আমার দ্বিতীয় চয়েস হল, তামিম আর সৌম্য যদি ওপেন করে, তাহলে ওয়ান ডাউনে লিটন খেলুক। চার-পাঁচে মুশফিক-শাকিব। ছয় নাম্বারে নাসির, সাত নাম্বারে সাব্বির হোসেন, আট, নয়, দশ ও এগারো নাম্বারে মাশরাফি, তাসকিন, রুবেল ও মুস্তাফিজুর। সেক্ষেত্রে ব্যাটসম্যান পাচ্ছি তামিম, সৌম্য, লিটন, মুশফিক, শাকিব, নাসির আর সাব্বিরকে। আবার বোলার হিসেবে পাচ্ছি চার পেসার মাশরাফি, তাসকিন, রুবেল ও মুস্তাফিজকে। এবং স্পিন হিসেবে পাচ্ছি শাকিব, নাসির ও সাব্বিরকে।

কিন্তু মোমিনুলকে তিন নাম্বারে নিলে আমার অলটানেটিভ একটা বোলার শর্ট থাকছে। সেক্ষেত্রে লিটন যদি চার নাম্বারে খেলে, মুশফিক, শাকিব ও নাসিরের ব্যাটিং অর্ডার লোয়ার হচ্ছে। তখন একজন বোলার দলে কম থাকবে। কারণ তখন মাশরাফি ছাড়া রুবেল, তাসকিন ও মোস্তাফিজদের থেকে দুইজন নিতে হচ্ছে। কারণ শাকিব আর নাসিরের সঙ্গে তখন হয়তো সাব্বির থাকবে। তখন বাংলাদেশের বোলিং আক্রমন একটু দুর্বলই হয়ে যায়।

ভারতের ব্যাটিং লাইনআপকে আমাদের বোলিং শক্তি দিয়েই গুড়িয়ে দেবার মত সামর্থ্য নিয়েই মাঠে নামতে হবে। আন্দাজে দলে একজন ব্যাটসম্যান বেশি নিয়ে বোলার একজন কম নিলে, বাংলাদেশ দল একটু পিছিয়ে থাকবে। এখন দেখা যাক নির্বাচকরা কি করেন? ভারতের মত শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে আমাদের এক্সপারিমেন্ট করার সুযোগ নেই। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ইনজুরিতে না থাকলে এই সমস্যা অনেকটা কাটিয়ে ওঠা যেত। কারণ রিয়াদ প্রয়োজনে বল হাতে ভালো করতে পারেন। যা মোমিনুলকে দিয়ে ওয়ান ডে তে প্রত্যাশা করা হবে চরম বোকামি।

বাংলাদেশের উচিত চার পেসার, দুই স্পিনার কম্বিনেশান রাখা। অথবা তিন পেসার তিন স্পিনার রাখা। সেক্ষেত্রে ব্যাটসম্যান কে কোন পজিশানে খেলবে, সেটাও একটা কঠিন হিসাব। কারণ প্রথমেই যদি টাইগার্সদের ব্যাটিং ধ্বস শুরু হয়, তাহলে দুর্বল ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে ঝুঁকি থাকবে। আবার ব্যাটসম্যান আটজন নিয়ে বসে থাকলে বোলিং দুর্বলতার কারণে আমরা পিছিয়ে থাকব।

আমি বলতে চাই, মোমিনুলকে বাইরে রেখে ওর টেস্ট ক্যারিয়ার নিয়ে নির্বাচকদের এই তামাশা বন্ধ করা উচিত। মোমিনুল শুধু টেস্ট খেলুক। ওয়ান ডে দলে একে নেওয়া মানে নতুন একটা ছেলের ক্যারিয়ার আটকে রাখা। তাই মোমিনুলকে বাইরে রেখে রনি, লিটন, মোস্তাফিজ এই তিনজনকেই সুযোগ দেওয়া হোক।

বিশ্বকাপে টাইগার্সদের পারফর্মেন্স দেখার পর ভারত এমনিতেই একটু আতংকে থাকবে। সেই আতংক মাথায় রেখেই বিধ্বংসি বোলিং লাইনআপ রাখা হোক। যাতে রোহিত-ধাওয়ান-কোহলি-রায়ানে, ধোনিরা দাঁড়াতেই না পারে। বোলিং দিয়েই বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে জিতবে। ব্যাটিং দিয়ে ওদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়াটা হবে বোকামি।

কারণ ওরা তিন পেসার ও দুই স্পিনার নিয়ে দল করবে। আর পাঁচজন সেরা ব্যাটসম্যান তো দলে ওরা রাখবেই। বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের টেস্ট ম্যাচ শেষ হলে ওদের ওয়ান ডে ক্যাপ্টেন কিন্তু ধোনি থাকবে। ধোনির সঙ্গে যোগ দেবে সুরেশ রায়ানা, রবিন্দ্র জাদেজা। এছাড়া মোহিত শর্মা ও স্টুয়ার্ট বিন্নিও যোগ দিতে পারে। সেক্ষেত্রে ভারতের যে একাদশ দেখা যাবে তা হল:

রোহিত শর্মা, শেখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি, সুরেশ রায়ানা, এমএস ধোনি, রবিন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দন অশ্বিন, মোহিত শর্মা, উমেশ যাদব, অক্সার প‌্যাটেল ও ভূবনেশ্বর কুমার। তবে ওদের অনেক বিকল্প আছে। অজিংকা রাহানে, ধাওয়াল কুলকার্নি, স্টুয়ার্ট বিন্নি ও অম্বতি রাইডু দলে আছেন। ওরা একজন ব্যাটসম্যান বেশি নিলেও বোলার হিসেবে কোনো ঘাটতি থাকবে না ওদের। তবে ভারতীয় ওয়ানডে দলে এবার মিডিয়াম পেসারদের বেশি ছড়াছড়ি। মোহাম্মদ সামি ইনজুরিতে থাকায় ভারতের বোলিং অ্যাটাক কিছুটা দুর্বল থাকবে। যা অবশ্য জাদেজা, রায়ানা, কোহলি এরা বল করে পুশিয়ে দেবার চেষ্টা করবে।

তবে ভারত যে বাংলাদেশের বিপক্ষে কোনোভাবেই দুর্বল একাদশ নিয়ে মাঠে নামছে না, এটা প্রায় শতভাগ নিশ্চিত। বিশ্বকাপের চরম বিতর্কিত কোয়ারর্টার ফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষে জিতে ভারত অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সেমি-ফাইনাল খেলার সুযোগ পেয়েছিল। বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশের সঙ্গে তাই প্রথম মুখোমুখি ভারত দল সতর্ক থাকবে সিরিজ হার এড়াতে। ভারতীয় শিবিরে বিশ্বকাপের টাইগার্সদের যে আতংক এখনো ভর করে আছে, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই আমাদের জিততে হবে।

তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে টাইগার্সদের জয়ের কোনো বিকল্প নেই। যদি আমরা সিরিজ হারি, তাহলে ভারত বলার একটা দারুণ মওকা পাবে যে, সেমি-ফাইনালে তারা যোগ্য দল হিসেবে গিয়েছিল। ভারত যে বিশ্বকাপে টাইগার্সদের চেয়ে দুর্বল ছিল, তা প্রমাণ করতে হবে এই সিরিজ জয় করে। সিরিজ জয় ছাড়া টাইগার্সদের সামনে অন্য কোনো বিকল্প নেই। জয়তু টিম টাইগার্স। জয়তু বাংলাদেশ ক্রিকেট।
..............................
১৪ জুন ২০১৫
ঢাকা

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০১৫ ভোর ৫:৩৫
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবির কথা আমার মুভি উতল অপেক্ষা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




আজ একটা নতুন খবর ভাগ করে নেই সবার সাথে। অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম, নিজের গল্প দিয়ে যদি নাটক বা সিনেমা করা যেত। ভাবনা এক সময় সত্যি হয়ে গেলো।
দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×