somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রেজওয়ান ইসলাম
আমি আপাতত একজন পাঠক।তবে লেখা-লেখিও করতে চাই-হোক সেটা অন লাইন বা অফ লাইনে।আশা করি আপনাদের সবার সহযোগীতা পাব।আমার ব্লগে আপনাদের স্বাগতম।

সুফি দরবেশ সাকিক আল বালখি’র শিক্ষা।

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খোরাসান স্কুলের একজন প্রসিদ্ধ সুফি দরবেশ ইব্রাহিম ইবনে আযহাম। আর উনার শিষ্য ছিলেন আরেক সুফি দরবেশ সাকিক আল বালখি। সুদীর্ঘ চল্লিশ বছর শিক্ষা লাভের পর ওস্তাদ ছাত্রের কাছে জানতে চাইলেন - আমি কিছু কি শিখাতে পারলাম। এই চল্লিশ বছরে তুমি কি শিক্ষা লাভ করলে। সাকিক আল বালখি বলেন- জানিনা, কতটুকু শিখেছি। তবে, নয়টি সমস্যা বুঝতে পেরেছি। ইব্রাহিম ইবনে আযহাম চিন্তিত হয়ে বললেন- সময়ের বুঝি নিদারুন অপচয় হলো। আচছা শুনি কি সমস্যা বুঝলে। এক) যতক্ষণ দেহে প্রাণ আছে । ততক্ষণ পর্যন্ত ভালোবাসা আছে। দেহ যখন কবরে চলে যায়- সবচেয়ে আপনজনও আলাদা হয়ে যায়। এটা একটা বিশাল সমস্যা। এই সমস্যা থেকে সমাধানের পথ আমি কোরআনে পেয়ে গেলাম। আমি সুকর্মকে আপন করে নিলাম। যাতে সবাই আলাদা হয়ে গেলেও এই সুকর্ম কবরে আমার সাথী হয়।
দুই) আরেকটি সমস্যা হলো- মানুষ যখন মারা যায় এতো দিন ধরে অর্জিত জীবনের সব সম্পদ তার হাত ছাড়া হয়ে যায়। এই সমস্যার সমাধান আমি কোরআনে পেলাম। তুমি যা নিজের জন্য রেখে দাও- তা একসময় অন্যের হস্তগত হবে। যদি আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করো- তা পরকালের জন্য রয়ে যাবে। সুতরাং আমার প্রয়োজনকে আমি ছোট করতে লাগলাম। আর আল্লাহর প্রয়োজনকে বড় করতে লাগলাম। আর আল্লাহর যা প্রয়োজন প্রকৃতপক্ষে পরকালে তাতো আমারই প্রয়োজন। উপার্জনের একটা অংশ তাই আমি আল্লাহর হেফাজতে দিয়ে দিলাম।
তিন) যে বিশুদ্ধ আত্মা নিয়ে মানুষ দুনিয়াতে আসে। সে আত্মাকে পরিশুদ্ধ রাখা যায়না।দিন দিন সেই আত্মা শুধু কলুষিত হতে থাকে। এটাও একটা সমস্যা। এই সমস্যারও সমাধান পেলাম কোরআনে। প্রকাশ্যে এবং গোপনে তুমি আল্লাহকে ভয় করো। তোমার সব গোপন কিছু, গোপন অভিলাষও আল্লাহ দেখছেন। তোমার আত্মা যদি পরিশুদ্ধ থাকে জান্নাত তোমার নিবাস হবে। আল্লাহ ভীতি যত বাড়তে থাকলো- আমার হৃদয়ের পরিশুদ্ধতাও তত বাড়তে থাকলো।
চার) আমি দেখলাম নিজের গুরুত্ব , মর্যাদা বাড়ানোর জন্য মানুষের সম্পদ, পদ, মসনদ এই তিনটির প্রতি লোভ বেড়েই চলে। কিন্তু এক রাজ্যে এক মসনদের মালিকতো সবাই হতে পারেনা। আর হতে পারলেও এসব কিছুইতো ক্ষনস্থায়ী। সময়ের কাঠগড়ায় সব কিছুই একসময় কঙ্কাল হয়ে যায়। তাহলে মর্যাদা বাড়ে কীসে। আমি সমাধান পেলাম কোরআনে। তোমাদের মাঝে যে সবচেয়ে ন্যায়নিষ্ঠ এবং ধার্মিক সেই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশী মর্যাদাবান। তাই, পৃথিবীর সব মোহ মর্যাদা ভুলে গিয়ে আমি আল্লাহর কাছে সম্মানিত হওয়ার পথই বেছে নিলাম।
পাঁচ) আমি চারপাশে মানুষের ক্ষণস্থায়ী ভরসা দেখলাম। কারো ভরসা ক্ষমতায়,কারো ভরসা ব্যবসায়, কারো ভরসা চাকুরিতে, কারো ভরসা দেহের শক্তিতে। নানা জনের ভরসা নানা জিনিসের উপর। এটাও একটা সমস্যা। সমাধান পেলাম কোরআনে। যে আল্লাহর উপর ভরসা রাখে- তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। এটা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করার পর এক আধ্যাত্মিক শক্তির সন্ধান যেন আমি পেলাম। সব কিছু বাদ দিয়ে আমি শুধুমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা রাখা শুরু করলাম। আমার সমস্ত পেরেশানি কমে গিয়ে আমি একেবারে নির্ভার হয়ে গেলাম।
ছয়) আমি দেখলাম চারপাশে মানুষ একজন আরেকজনের সাথে নানা সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। কি একটা ভয়ানক ক্ষতির মাঝে মানুষ নিমজ্জিত। আমি আল্লাহর কাছে ফিরলাম এবং সমাধান পেয়ে গেলাম। বান্দা বান্দা সংঘাত করোনা। এক জন অন্যজনের হক নষ্ট করোনা। মানুষ মানুষের শত্রুনা। শয়তানই তোমাদের শত্রু। আর এই শয়তান হলো যে কলব নষ্ট করে। সুতরাং এই শুত্রুকেই আমি একমাত্র শত্রু মনে করলাম। আর সমস্ত সংঘাত,সংঘর্ষ এড়িয়ে চললাম।
সাত) একদিন প্রচনড দাবদাহ। মরুর বালু যেন আগুনের ফুলকি হয়ে ফুটছে। গৃহে পান করার পানি ফুরিয়ে গেছে। নিকটস্থ কুয়ায় গেলাম। সেখানেও পানি শুকিয়ে গেছে। নিদারুন তৃষ্নায় বুক শুকিয়ে আসছে। চিন্তা করলাম- এর চেয়ে কঠিন তৃষ্নার মাঝে পড়বে মানুষ হাশরের ময়দানে। শিশু জন্ম গ্রহণ করেই মায়ের দুগ্ধ পান করে। ভূমিষ্ঠ হয়েই খাবারের যোগান পেয়ে যায়। এই দুধেই তার তৃষ্না , খাবারের ক্ষুধা মিটে । কিন্তু হাশরের ময়দানে আমি তো কাউকে পাবোনা। কে আমার তৃষ্না মিটাবে। বিশাল সমস্যা। সমাধান পেয়ে গেলাম কোরআনে। যারা সত্যবাদী নবী সাঃ নিজেই তাদের কাউসারের পানি পান করিয়ে তৃষনা মিটাবেন। আমি মিথ্যা বলা ছেড়ে দিলাম। আর, সারা জীবনে একটাও মিথ্যা না বলার শপথ নিলাম।
আট) কেউ রাজার ঘরে জন্ম নেয়। কেউ প্রজার ঘরে জন্ম নেয়। কারো রং সাদা, কারো রং কালো। এতে কেউ মর্যাদা বেশি পাচ্ছে । কেউ পাচ্ছে না। কারো গৌরব বাড়ছে। কারো কমছে। কেউ সুন্দর , কেউ অসুন্দর হয়ে জন্ম নেয়। জন্মই মানুষের মাঝে বৈষম্য তৈরি করে দিচ্ছে। বিশাল সমস্যা। সমাধান পেলাম নবী সাঃ এর শেষ ভাষণে। আর কোরআনে। আরবের উপর অনারবের এবং অনারবের উপর আরবের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই, সাদার উপর কালোর আর কালোর উপর সাদার কোন মর্যাদা নেই। 'তাকওয়াই' শুধু পার্থক্য নির্ণয় করবে। রাজা না বাদশাহ না, ধনী না ফকির না। ফর্সা না কালো না। সেই সবচেয়ে বেশি মর্যাদা বান- যে যত বেশী পরহেযগার আর গুনবান। আর শিক্ষা নিয়ে হোক, বর্ণ নিয়ে হোক, বংশ নিয়ে হোক, পদবী নিয়ে হোক এমনকি বেশী ধর্ম কর্ম করে এটা নিয়েও কেউ যদি তিল পরিমান গৌরব করে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা। নিজের অহমকে দমন করতে হবে। যে বীর সে শত্রু ধ্বংস করে। আর যে মহাবীর সে নিজের ইগোকে ধ্বংস করে। আমি সমস্ত অহম, গরীমা, গৌরব থেকে পরিত্রানের পথ খুঁজতে লাগলাম।
নয়) এই যে পৃথিবীর প্রতি, জীবনের প্রতি একটা মায়া -এই মায়ার জীবন ছেড়ে- চলে যাওয়া- বড় কঠিন। জীবনে থাকে মৃত্যু ভয়। জঙ্গলে থাকে বাঘের ভয়। আর জঙ্গলে বাঘ আছে জানলে -সেই জঙ্গল আপনি এড়িয়ে যেতে পারেন। কিন্তু মৃত্যু ভয় জানার পরও এটা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তো কোনো মানুষের নাই। বিশাল সমস্যা। সমাধান পেয়ে গেলাম কোরআনে। যে যেখান থেকে আসে -তাকে সেখানেই ফিরে যেতে হয়। আমি যত বেশি - কবরে সাথি পাওয়ার কাজ করতে লাগলাম, হাশরে নবী সাঃ কাছে থেকে কাউসারের পানি পান করার সুযোগ তৈরি করতে লাগলাম, রবের কাছে মর্যাদা বানানোর ফিকির করতে লাগলাম। তত আমার মৃত্যু ভয় কেটে গেলো। আর আল্লাহতো বলেই দিয়েছেন- মানুষ আল্লাহর কাছ থেকে আসে। আর তার কাছেই প্রত্যাবর্তন করে।
(সংগৃহীত)
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:৪৫
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×