
কাটাতারের এপাশ-ওপাশ,কাটাতারের রাজনীতি আর ক্ষমতার হিসাব-নিকাশ হয়তো আলাদা ব্যাপারস্যাপার কিন্তু মানুষের অনুভূতি আর দ্বীর্ঘশ্বাস তো একই রকমের তাইনা।
আচ্ছা মানচিত্রের কাটাতার কি আসলেই দুটো দেশের সীমানাই কেবল নির্ধারণ করে? নাকি এর চেয়েও বেশি ক্ষতবিক্ষত করে তোলে মানুষকে?
বিএসএফ(BSF) কর্তৃক পুশইনের এই ঘটনাগুলো আমাদের বুকে অদ্ভুত এক শূন্যতার হাহাকার তৈরী করে। পরিবার,নারী-শিশু,বৃদ্ধা,পুশ ইন যেন ভারতীয় সীমান্ত বাহিনীর এক সীমান্ত ফ্যান্টাসিতে পরিণত হয়েছে।
লোকটাকে ভারতীয় রাষ্ট্রযন্ত্র আর সীমান্তরক্ষী বাহিনী এক ধাক্কায় 'পর' করে দিতে দিলো,বাংলাদেশে পুশ-ইনের ব্যর্থ চেষ্টার পর সমস্ত ক্লান্তি আর নিয়তি কাঁধে নিয়ে তিনি আজ বসে আছেন ঠিক কাঁটাতারের বাইরে,নো-ম্যানস ল্যান্ডের এক চিলতে ঘাসে।
তিনি এখন কার?কোন মানচিত্রের? যে মাটি তাকে বড় করেছে,যে মাটি তাকে শৈশব দিয়েছে,কৈশোর দিয়েছে,যৌবন দিয়েছে সে মাটিই আজ তাকে ঠেলে দিলো। আর যে মাটিতে তাকে ঠেলে দেয়া হল সেই মাটিতে বৃদ্ধ এক আগন্তুক।
আর ঠিক মাঝখানে পড়ে রইলো এক জোড়া ছলছল চোখ!!! ক্লান্ত চোখজোড়া আর রাষ্ট্রহীন একজন মানুষের বুকফাটা দীর্ঘশ্বাস।
পুশ-ইন নিয়ে আমাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে যেমন ইমোশনাল হওয়া যাবেনা তেমনি নগ্ন রাষ্ট্রযন্ত্রের অমানবিক রাজনৈতিক কৌশলের বিরুদ্ধেও আমাদের রুখে দাড়াতে হবে সর্বোচ্চ জায়গা থেকে ও রাষ্ট্রীয়ভাবে।
বহু বছর আগে আর্টসেল গেয়েছিলো "অনিকেত প্রান্তর" যার অর্থ গৃহহীন একটি মাঠ। এই ভিডিও এবং অনেকগুলো ছবি দেখার পর আমার মনে হল সম্ভবত অনিকেত প্রান্তর গানের সবচেয়ে নির্মম বাস্তবতার রূপ আমরা পুশ-ইনের মধ্যে দিয়েই উপলব্ধি করতে পারি।
কাটাতারের কি এক নিষ্ঠুর খেলা...
"দুটো মানচিত্র এঁকে দুটো দেশের মাঝে,বিধে আছে অনূভুতি গুলোর ব্যবচ্ছেদ"
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



