somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ত্রিভুজ স্মরণে--আমাকে যত পারেন যা ইচ্ছা বলেন !

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৮:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

না হয়ত বুঝলাম ত্রিভুজ একটু ধম্মকম্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করে । এই বলে তারঁ উপর তো চড়াও উচিত না । কারণ তিনিও মানুষ আমরাও মানুষ । আমি একটি বিশেষ কারণে পোষ্ট করছি ।
জানি যে, এই পোষ্টগুলো পড়ার পর অনেক উলটাপালটা মন্তব্যকারী সাড়াঁশি আক্রমণ করে বসবে । কিন্তু তার জন্য আমি প্রস্তুত । ভয় নেই, আমিও আপনার পথ সাড়াঁশি আক্রমণ করব না, কারণ আমার ধৈর্য্য যথেষ্ট না হলেও অল্পতে ভাঙ্গে না, এই বলে বারবার উত্যক্ত করে বাঁধ ভাঙ্গার চেষ্টা করবেন না, উলেটা সামহোয়্যার এর ই বাধঁ ভেঙ্গে আপনার নিক হারিয়েঁ যাবে অথৈ জলে ।

অনেক আগের ঘটনাটা, প্রায়ই কাজের প্রয়োজনে সপ্তাহে একদিন একজনের বাসায় থাকতাম(রাত কাটানোর জন্য) । যার উদ্দেশ্য করে এখানে থাকা সেও ভিয়েনায় নতুন এবং ঐখানে ভাড়া দিয়ে থাকে । সপ্তাহের শেষ দু'একদিন বাসায় ঘনঘন যাওয়া আসা পড়ত এবং অবশ্যই মালিকের কেন প্রায় অনেক বাসার সদস্যের চোখে পড়া হত । ঘনঘন আসা যাওয়াতে একদিন ঐ বাসায় গোসল করার অভিপ্রায় জাগল । সাধারণ তাদের গোসল খানায় কোন সময় যাওয়া পরেনি । ঢুকেই আমার চোখ ছানা বড়া । গোসলখানাটি কে যথেষ্ট অপরিষ্কার মনে হল । আর আমার পূর্বে যিনি গোসল করেছেন, হয়ত তার চোখে কিছু বাধাঁ ছিল । না হলে অবশ্যই পরিষ্কার হত বৈকি !

যা হোক, কর্ম সম্পাদনের পর আমি গোসলখানা পরিষ্কার করতে লেগে গেলাম । কিছুক্ষণ পড়ে সাড়া পেলাম বের হবার । বের হবার ছেলের কথা শুনে গা গরম হয়ে গেলাম । তবে মাথা ঠান্ডা রইল । আমি তাকে বললাম যদি কেউ অপেক্ষা করেই থাকে তাহলে আমাকে জানিয়ে দিলেই তো পারত, তাহলে আমি দেরী না করে বের হয়ে আসতাম । প্রশ্ন করা হল, এতক্ষণ ঐখানে কোন প্রজাতির গরুর মত ঘাস খাচ্ছিলাম ? আমি তাকে ঘটনাটা একটু বুঝিয়ে-খোলাসা করে বলার চেষ্টা করলাম, বিনিময়ে বিশেষ একটি Angebot (das) (আনগেবোত) (offer(অফার)) দিল । অফারটি ঠিক এরকম সপ্তাহে 2 ইউরো আমাকে zahlen (to pay) তাদের WC (das) (ভেসে)টয়লেট পরিষ্কার করার জন্য । (উল্লেখ্য যে, জামার্ন ভাষায় 'WC' শব্দের অক্ষরটি লেখার সময় beide (both) উভয়ই বড় হাতের হবে)

আমি বললাম ঠিকাছে আমি তাও করে দেব । তখন ছেলেটি নিশ্চুপ হয়ে যায় ।
ঘটনাটা মাত্র শুরু হল.....

বেশ কয়েকদিন পরের কথা, কোন এক কাজে একজন ব্যক্তির সাথে দেখা করলাম McD(ম্যাকডোনালডস)-তে, সাথে আরও একজন উপস্থিত ছিল । অনেক কথাই হচ্ছিল কথার ফাকেঁ যার উদ্দেশ্যে দেখা করতে এলাম সে আমার পুরনো ঘটনাটার একটু স্মৃতিচারণ করে বসল । তিনি বললেন, ও যেখানে সেখানে ছাগলামি করে বেড়ায় । আমি বললাম কি রকম???
ঐ মেস নামক বাসা নিয়ে পূর্ব ইতিহাস টেনে বললেন, ঐ বাসার মালিকের সাথে কথায় কথায় তার বাসার কথা উঠে আসলে বলেন, ঐ বাসার নতুন ছেলের সাথে প্রায়ই একজনকে সাথে দেখি, ঐটা একটা আস্ত ভোদাই রাম ছাগল । এ নাকি গোসল করতে এসে গোসলখানা পরিষ্কার করে ?

তারপর শুনে আমার মেজাজ বিগড়ে গেল, আমি বললাম লোকটার নাম কি ? আমি তার বিরুদ্ধে বাক যুদ্ধের ঘোষণা দিলাম । বললাম, ঠিকাছে ঐ লোকতো গালিগালাজ করল । আমিও করতাম কিন্তু আমি আর উনি এক না । তাহলে তার মধ্যে আমার পাথকর্্য থাকল কি ?
আমি বললাম, যখন ঘন্টায় 7-8 ইউরো পাবার জন্য অস্ট্রিয়ানদের টয়লেট পরিষ্কার করতে দ্্বিধা করবে না, তখন নিজের অপরিষ্কার স্থান পরিষ্কার করতে সমস্যা কি ? আমি বললাম, আমি যেই পরিবেশ থেকে এসেছি, সেখানে সিগারেট, প্রেম-ভালবাসা, গালিগালাজ, মদ, জুয়া, ফাজলামী, আড্ডা, অপরিচ্ছন্নতা, মিথ্যা, চুরি, ডাকাতি, শরগোল এর জায়গা ছিল না । বরং চোখে পড়া খারাপ জিনিসকে এড়িয়ে চলার নিদের্শ এবং পারলে তা শুধরানোর নিদের্শ ছিল । সুতরাং আমি তাহলে বলব, ঐ লোকের শিক্ষার অভাব আছে কিংবা তার জন্ম নিয়েও প্রশ্ন হতে পারে (এই বাক্যটি আমার বলা উচিত হয় নি, কিন্তু নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা হারিয়েঁ ফেলেছিলাম, কিন্তু কথাগুলো নরম সুরেই বললাম তবে টের পেলাম আমার নিশ্বাস গরম হয়ে আসছে । তাই টপিকটি খুব দ্রুত মজা করার মাধ্যমে সরিয়ে ফেললাম । তবুও বললাম উনাকে বলে দিবেন, আমি সবার মত বলে বেড়াই নি যে, তার ঘর অপরিষ্কার রাখে, বরং তা পরিষ্কার করে দিয়ে এসেছি । আমার জায়গায় অন্য বাঙ্গালী থাকলে হয়ত পরিষ্কারতো করতই না বরং আরও ঢোল পিটিয়ে বলে বেড়াত, তার বাড়িতে মানুষ থাকে না ! বরং ..... বুঝতেই তো পারছেন পরের বাক্যটির শেষ কিভাবে হবে । সুতরাং এ করে যদি আমাকে গালিও খেতে হয় তাহলে, আমি তা খেতে দ্্বিধা করব না । দিন দিন আরও দিন... তখন সেই লোকটি চুপ হয়ে গেল । আবার বলল সমাজের মানুষের সাথে ঠিকমত চলতে হয়, চলতে গেলে এরকম ব্যাপারটাকে এড়িয়ে যেতে হবে । তাহলে আমি বলি, এটা কোন ধরনের কথা, তাহলে কি আমরা মুসলমান, তাহলে কি মানুষ, লোক দেখানো কারবার প্রত্যেকই করে, তাই বলে সমাজের গড্ডালিকা প্রবাহে নিজেকেও গা ভাসিয়ে দিতে হবে, তাই বলে সমাজের প্রত্যেক মানুষের মত কাটাঁ হয়ে যেতে হবে (এই কথাগুলি অবশ্য তাকেঁ বলি নাই, মনে মনে চিন্তা করছিলাম) ।

আর এই জন্যই আমরা বাঙ্গালী, আমাদের দুনার্ম সবতর্্র । আশি কিংবা নব্বই এর দশকে হবে মনে হয়, আমার ঠিক মনে আসছে না, আমেরিকার জনপ্রিয় হাসি-ঠাট্টার অনুষ্ঠানে এক ব্যক্তি একটি আক্রমণাত্নক কৌতুক করেছিলেন বাংলাদেশকে নিয়ে, ব্যাপারটা এরকম- একটি জাহাজ (ময়লার জাহাজ) সমুদ্রে ঘোরাফেরা করছে তা ফেলার জন্য পৃথিবীর কোন দেশই তা গ্রহণ করছে না, একসময় বাংলাদেশের বন্দরে ভীড় করল, বাংলাদেশ তা সানন্দে গ্রহণ করল । ঘটনাটা আমার কাছে খারাপ লাগে । আজ মনে হচ্ছে ঐ অনুষ্ঠানের জনপ্রিয় উপস্থাপক ভুল করেন নি, ঐ কৌতুক বলে । বরং সঠিক ব্যাপারটিই তুলে ধরেছেন ।

তাহলে আমাদের দেশ থেকে বিদেশে আসতে হত না । দেশেই আমরা উন্নতি করতে পারতাম, পশ্চিমাদের মত । কিন্তু ...... আর বলার কিছু নাই, কারণ আমিও বিদেশগামীদের মধ্যেই পড়ি । তবুও ধন্যবাদ কাফেরদেরকে, বিদেশীদেরকে, শত্রুদেরকে আমি কিছু হলেও ভাল জিনিস জানতে, শিখতে, বুঝতে, করতে পেরেছি কিংবা পারছি । এ উসিলায় তাদের জন্য যেন....
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৫:০৮
১৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অদৃশ্য অসুখের দৃশ্যমান সংকট: দ্বৈত বাস্তবতার প্রভাব

লিখেছেন বাঙালী ঋষি, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:০৭



আধুনিক সভ্যতা একটি মৌলিক বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে—যা পরিমাপযোগ্য, সেটাই বাস্তব। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব অগ্রগতি এই বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছে। আমরা জানি কীভাবে শরীরের অসুখ নির্ণয় করতে হয়, কীভাবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেড ইন বাংলাদেশ ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:২২


দেশপ্রেমের সংজ্ঞাটা আমাদের দেশে ঋতুভেদে বদলায়। তবে ২০২৪-এর জুলাই পরবর্তী সময়ে আমরা এক নতুন ধরনের সিজনাল দেশপ্রেম দেখলাম। একে বলা যেতে পারে "রিটার্ন টিকিট দেশপ্রেম"। যারা দেশে বিদেশে আরাম-আয়েশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:৫৬

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

image upload problem

বাংলাদেশে একসময় খুব জনপ্রিয় একটা পরিচয়-“আমি সুশীল”, “আমি নিরপেক্ষ”, “আমি কোনো দলের না”। এই পরিচয় ছিল আরামদায়ক, নিরাপদ, সম্মানজনক। এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়ন রোডম্যাপ: একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিপত্র রূপরেখা : পর্ব -১ ও ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১১


প্রস্তাবিত রূপরেখা: কৃষিকে জীবিকানির্ভর খাত থেকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল
ও বৈশ্বিক বাজারমুখী বাণিজ্যিক শিল্পে রূপান্তরের জাতীয় কৌশল প্রস্তাবনা ।

বাংলার মাঠে প্রথম আলোয়
যে ছবি আসে ভেসে
কাঁধে লাঙল, ঘামে ভেজা মুখ
কৃষক দাঁড়ায় হেসে।

সবুজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি ধার্মিক না মানুষ?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮

ধার্মিক হওয়া কোনো কাজের কথা নয়।
ধার্মিক হওয়া সহজ। বিজ্ঞানী হওয়া সহজ কথা নয়। পিএইচডি করা সহজ কথা নয়। সেই তুলনায় কোরআন মূখস্ত করা সহজ। জন্মগত ভাবে আমি বাপ মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×