somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরস্ত্রীকাতরতা

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানুষ নাকি স্বভাবদোষেই পরশ্রীকাতর- শুধু তাই নয় পরস্ত্রীকাতরও বটে ! বিপ্লবী উক্তিটি আমার নয় তবে শচীন ভৌমিক নামের এক রসলেখকের। (তাঁকে হয়তো অনেকেই চিনবেন না তবে তাঁর রসবোধের নমুনা বুঝাতে একটা কথাই বলি- তিনি নিজের নামকে জর্জ বার্নার্ড শ এর আদলে চীন শ করে ফেলেছিলেন) যাই হোক, আজকের আলোচ্যতে ফিরে আসি, শুরুতেই চীন শ-র কাছে রেফার করাকে প্রেফার করলাম কারণ, এহেন উক্তিতে সকল যুক্তিতেই পতিপরায়ণা স্ত্রী আর স্ত্রৈণ স্বামীর ভাবাবেগের বিস্ফোরণ ঘটিতেই পারে। আমি শুধু কিছু ফ্যাক্ট ব্যক্ত করব। বিচার বিশ্লেষণ আর সিদ্ধান্ত আপনারটাই চূড়ান্ত।

প্রথমেই মোবাইল। অপ্রাসঙ্গিক মনে হতে পারে কিন' হালের মোবাইল ক্রেজে ঐ বস্তুটি ছাড়া একদিনও কি চলে? দিন বদলায়া গ্যাছে না ! মোবাইল কিনতে যাবেন, আপনার চটুল বন্ধুটি সাজেশান দিল, ‘‘প্রেম করলে পরকীয়া, মোবাইল কিনলে নোকিয়া”। আপনিও বিনা প্রতিবাদে মেনে নিলেন । ফিনল্যান্ডের এই কোম্পানি যেমন সেটগুলির মধ্যে শ্রেষ্ঠটির প্রস্তু'তকর্তা ঠিক তেমনি অন্যের কর্তার গিন্নীকে বাগিয়ে ‘অন্যের মাথায় কাঁঠাল ভাঙ্গা’ বা ‘পরের ধনে পোদ্দারি’ করাই সেরা প্রেমের উপায়। মানুন আর নাই মানুন, নোকিয়া কিন্তু ভাল সেট !

আবারও মোবাইল ! দু’দিন পর পর সেট, সিম চেঞ্জ করা অনেকেরই বাতিকে পরিণত হয়েছে। যাদের ট্যাঁকে টাকা আছে বা যাদের ট্যাঁকে নেই সকলেই লুফে নিচ্ছে বাজারে আসা কোন নতুন সেট বা মোবাইল কোম্পানির কোন নতুন অফার (যেন পরকীয়ার অফার !! ) । আবারও সেই চটুল রসিক বন্ধুর বাণী চি্রন্তনী, ‘মোবাইল হল বউয়ের মত, নিজেরটা ছাড়া সবারটাই ভাল লাগে।’ আরে, কারো বউও তো কারো শরীরের সাথে এতোক্ষণ চিপকে থাকতে পারে না, মোবাইল তো বউয়ের চেয়েও বেশি কিছু। মানুন আর নাই মানুন, ‘ঘারকা মুরগি ডাল বরাবর।’

এবার পুরাণের কিছু পুরান কথা মনে করিয়ে দিই। এক হেলেনকে যেভাবে প্যারিস ফুসঁলে নিয়ে গেল, আর এক পরকীয়ার তোড়ে যেভাবে ট্রয় নগরী উড়ে গেল, পরকীয়ার শক্তিকে কোন যুক্তিতে উড়িয়ে দিবেন? সাতখণ্ড রামায়ণ পড়েছেন আর এটুকু বুঝেননি সীতার সাথে পরকীয়া করার রাবণের নেক ইরাদার কথা। আর সীতাও তো ‘তোরা যে যাই বলিস ভাই, আমার সোনার হরিণ চাই’ বলে চ্যাঁচাতে শুরু করল ! মানুন আর নাই মানুন , চ্যাঁচানো বউয়ের প্যাঁচানো কথায় কান দিলে আপনার সাজানো সংসারও ট্রয় হয়ে যেতে পারে- পরকীয়ার ট্রোজান হর্স ভাইরাসটা আমার আপনার সবার মধ্যেই আছে- কম আর বেশি !

নাটক, সিনেমা তো জীবনেরই প্রতিচ্ছবি। শতকরা পঞ্চাশ ভাগ বাংলা নাটকে দেখবেন পরকীয়া, শুনবেন ‘আমি আর পারছি না’ জাতীয় সংলাপ আর হালের বলিউডের ‘‘কাভি আলবিদা না ক্যাহনা’ দেখে না থাকলে দেখে নিন, পরকীয়া কাকে বলে - একেবারে বজ্রগুণনের মত বজ্রাহত হয়ে যাবেন। সাদা কালো যুগের ‘Casablanca’দেখুন, তাতেও পরকীয়া। মানুন আর নাই মানুন, যুগে যুগে কালে কালে পরকীয়া ছিল, আছে, থাকবে !

পরস্ত্রীকাতরতা আর পরকীয়া অবশ্য এক বস্তু নয়। পরকীয়াকে তো ইংরেজিতে বলে Adultery - যার বাংলা ‘ভেজাল’ও (Adulteration) হতে পারত। ধরা খাইলেই ভেজাল। (তবে সকল প্রেমে ধরা খাওয়াই ভেজাল- কখনো বাবা-মার কাছে ধরা আবার কখনো বউয়ের কাছে ধরা।) তবে পরস্ত্রীকাতরতা পরকীয়ার মত সোচ্চার নয়। নিতান্ত নিশ্চুপে, নীরবে, নিভৃতে কিছু কাতরতা, কিছু ব্যাকুলতা, কিছু আকুলি-বিকুলির কিলবিল। কোন বিবাহিত পুরুষ বা সাচ্চা প্রেমিকপ্রবর বুকে হাত দিয়ে বলতে পারেন (না না, বউয়ের না, নিজের বুকে) অন্য রমণী কি আপনার হৃদয়ে নির্দয়ের মত দোলা দেয়নি ? মানুন আর নাই মানুন, প্রেমিকপ্রবরেরা কিন্তু ঝোল খায় এবং ভালই খায় !

অতএব, নারীকুল সাবধান ! এ ব্যাপারে আমার নিজস্ব একটা তত্ত্ব আছে। বিয়ে করা যেমন দিল্লীকা লাড্ডু গলাধঃকরণ। খেলে পস-াতে হয় আবার না খেলেও। তাই হয়তো খেয়ে পস্তানোকেই শ্রেয় মনে করে আমরা জীবিত থেকে বিবাহিত হয়ে যাই। আর তখনই Lost love কে উসুল করে নিতেই পরস্ত্রীর দ্বারস্থ হতে হয়। আর সংসার যেহেতু রমণীর গুণেই সুখী হয়, তাই তারা যদি প্রেমের মড়াকে বেশি দিন ভাসিয়ে রাখেন তাহলে বিয়েটা হয়ে যাবে চটপটির মত - ‘খাইলে চাটবেন আর না খাইলে পস্তাবেন।’’

ছোট্ট একট জোক বলে আজকে বিদায় নিচ্ছি। শেষ বিচারের দিনে স্বয়ং ঈশ্বর সবাইকে পুরস্কৃত করছেন। পৃথিবীতে পতিপরায়ণা কিংবা পত্নীপরায়ণ থাকার উপর ভিত্তি করে। এক ব্যক্তি ইহজীবনে বড়ই পত্নীপরায়ণ ছিলেন। পরস্ত্রীর সাথে পরকীয়া তো দূরের কথা, চোখ তুলেও তাকাননি।
ঈশ্বর সন্তুষ্ট হয়ে তাকে একটি রোলস রয়েস দিলেন, উনিও আনন্দিত হয়ে দামি গাড়ি হাঁকড়ে ঘুরে বেড়ান। হঠাৎ একদিন তার স্ত্রীর সাথে দেখা হয়ে গেল। দূর থেকে দেখে তিনি খুশি হবেন কি হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। তার স্ত্রী যে একটি বাইসাইকেলে চেপে যাচ্ছেন !

মানুন আর নাই মানুন, শুধু পরস্ত্রীই নয় পরপুরুষও আমাদের কাতর করে এবং ভালোই করে !
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×