somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্যবহারে বংশের পরিচয়-বিশ্ব বংশ দিবস উপলক্ষে সবিশেষ বা সব শেষ বাঁশ

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা প্রশ্ন দিয়ে শুরু করা যাক। "কোন উদ্ভিদে ফল হয় না? অতএব তা খাওয়া কোন কাজের কথা নয়; কিন্তু তবুও আমরা তা প্রায়ই নিজে খাই এবং অপরকেও দিতে দ্বিধা করি না। বলুন তো কোন সে উদ্ভিদ?" কথায় বলে, " বৃক্ষের পরিচয় তার ফলে"।আর এর কোন ফল না থাকায় এর পরিচয় তার 'ব্যবহারে'। হ্যাঁ, এতি হল বাঁশ। সাধুজনে তাকে আদর করে ডাকে 'বংশ'। এই বাঁশেরই ডিসেকশান করে অত্র পাতার যত্রতত্র ফাঁস করব বলেই আজ কলম ধরেছি।

যাহাই বাঁশ, তাহাই ঘাস

বিজ্ঞানমনস্ক হবার ছলে অন্যমনস্ক হবার ধান্ধা আমার নেই। তবে ক্ষুদ্র ঘাসের বংশধর কি করে এহেন বিপুল্বপুর মালিক হল তার কারণ পিক করা আমার খুদে মস্তিষ্কের কম্ম নয়। তবে এটি বেশ বুঝা যাচ্ছে বাঁশ ঘাসের দোসর এবং আজকের ডাইনোসর।

বাঁশ সাহিত্য
কতশত ফুল-ফলের গাছকে রবি-নজরুলেরা জাতে তুলেছেন কিন্তু বাঁশের দুঃখ তারা বুঝেননি। কিন্তু একজন ঠিকই বুঝেছিলেন। সাধে কি তাঁর নাম 'দুঃখবাদের কবি'! আলবাত তিনি যতীন্দ্রমোহন বাগচী। বিখ্যাত 'কাজলা দিদি' কবিতার প্রথম পংক্তিতাই তাইতো অপাংক্তেয় বাঁশকে ঠাঁই দিয়েছেন- " বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ঐ"।
যদিও তাঁর বংশপ্রীতি সংশয় জাগায় তবুও তো যতুবাবু বংশের মান বাঁচিয়েছেন বতে।

প্রবাদপ্রতিম বাঁশ
কবিতায় বাঁশের খাসদখল না থাকলেও বাংলা প্রবাদে তার জায়গা বেদখল হবার নয়। 'কাঁচা বাঁশে ঘুণধরা' কোন অকালপক্ক যদি তাকে সে জায়গা হতে হটাতে চায় তবে তার জেনে রাখা ভাল যে তাকে 'বাঁশ দিয়ে' নাশ করার উপায় বাঁশের হাতেই বাস করে। কারণ সে জানে 'কাঁচায় না নোয়ালে বাঁশ পাকলে করে ঠাস ঠাস'। তবুও ত গুরুমারা বিদ্যে গিলে 'বাঁশের চেয়ে কঞ্চি দড়' হয়েই যায় তাহলে তার হাঁসফাঁস করে লাশ হওয়া ছাড়া গতি নেই। তবু রক্ষা 'বাঁশবনে যে ডোম কানা' নইলে কবেই যে বাঁশের বংশ ধ্বংস হয়ে যেত- আল্লাহ মালুম।

বাঁশ দেওয়া কথা, লাগে বড় ব্যথা
সেই কবে রগুড়ে ভানু তাবত বাঙ্গালিকে বাঁশ দিয়ে গেছেন। সে ক্ষোভেই কি আমরা বাঙ্গালিরা একে অপরকে বাঁশ দিচ্ছি এবং নিচ্ছি। যেন 'এ খেলা চলবে নিরন্তর.... '। এটা যে কেবল কথার কথা, তাই বাঁচোয়া। নইলে অনেকেই যেভাবে আছোলা বাঁশ দিচ্ছে বাস্তবিকই যদি তা সম্ভব হত তাহলে বাঁশাবাঁশির চোটে যে কী রেষারেষিই না বেঁধে যেত, ভাবতেই হাসাহাসি করতে মনে চায়।

যতক্ষণ বাঁশ, ততক্ষণ আশ
চমকাবেন না। প্রবচনটিতে শ্বাসের স্থলে বাঁশ মোটেও আনফিট নয় বরং সুপারহিট বৈকি। কেননা বাঁশ একতা গাছ আর গাছের থেকেই মেলে অক্সিজেন- শ্বাসের আসল মসলা। এমন শাঁসালো লজিকের সাথে রয়েছে এন্তার বাঁশালো ম্যাজিক। শুধু এটুকুই বলব, একবিংশ শতাব্দী হতে জাচ্ছে 'এক বংশ শতাব্দী' কারণ... আজ আমরা বাঁশের মর্ম বুঝে কর্ম করছি; পালন করছি "বিশ্ব বংশ দিবস"। বুঝেশুনে বাঁশের ব্যবহার করুন, কারণ ব্যবহারেই বংশের পরিচয়।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×