somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মন- ইড, ইগো, সুপার ইগো

১১ ই মার্চ, ২০১২ বিকাল ৪:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মানব স্বত্তা মূলত তিনটি মানষিক অবস্থার সমন্বয়ে গঠিত। যাকে আমরা মন বলি তা মূলত এটাই। এর একটি হলো ইড, অন্যটি ইগো এবং শেষটি সুপার ইগো। ইড মূলত: মানুষের আদিম স্বত্তা হিসাবে কাজ করে। মানব মনের স্বভাবজাত চাহিদা পূরনে কাজ করে ইড। এটাকে অনেকটা ‘মন যা চায় তাই’ এর সাথে তুলনা করা যেতে পারে। সুপার ইগোকে বলা যেতে পারে মানুষের বিবেক। ইড যখন মানুষের কামনা-বাসনা পূরনে উদ্দীপ্ত করে, সুপার ইগো তখন তাকে বাঁধা দেয়। সুপার ইগো সবসময় মানুষকে মানবিক চাহিদার উর্ধে থেকে ভালো কাজ করতে উদ্দীপিত করে। অন্যদিকে, ইগো হচ্ছে এই দুই অবস্থার একটি মধ্যবর্তী স্বত্তা। ইগো এবং সুপার ইগোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলাই ইগোর কাজ। যে মানুষের ভিতর এই ভারসাম্য রক্ষাকারী ইগো মতা বেশী, স্বাভাবিক সমাজে তার অভিযোজন ক্ষমতা তত বেশী। ইগো না থেকে, কেবল যদি কারো ভিতর ইড কাজ করতো, তাহলে সে অমানুষ বা উম্মাদ হয়ে যেতো। আবার যদি কারো ভিতর কেবল সুপার ইগো কাজ করে, তাহলে সে সাধু-সন্নাসী হয়ে যেতো। ইগো এই দুই অবস্থার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে থাকে।

একটা উদাহরণ দেয়া যাক, কোন এক বাড়ির উঠানে বসে একজন মা তার দুই সন্তানকে ভাত খেতে দিয়েছেন। এদের একজন তার নিজের সন্তান অন্যজন সৎ সন্তান। আশেপাশে কিছু প্রতিবেশীও রয়েছেন। তরকারী হিসাবে মাছের একটি বাটি রয়েছে। যেখানে রয়েছে মাছের একটি মাথা অন্যটি লেজ। এখন খুব স্বাভাবিক ভাবেই মায়ের মনে কাজ করবে, মাথাটি তার নিজের সন্তানকে দিতে। কিন্তু এমনটি করা হলে, প্রতিবেশীরা সমালোচনা করতে পারে এই চিন্তা থেকে তিনি মাথাটা তার সৎ সন্তানকে দিলেন। লেজটা দিলেন আপন সন্তানকে।

এখানে, মায়ের ইড কাজ করছিলো তার আপন সন্তানকে মাছের মাথাটা দেয়ার জন্য। কিন্তু পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রেক্ষিতে (প্রতিবেশীদের সমালোচনার ভয়ে) তিনি সেটা তার সৎ সন্তানকে দিলেন। এখানে তার সুপার ইগো কাজ করেছে। ফলে ইড এখন বিক্ষিপ্ত। এই বিক্ষিপ্ত অবস্থাকে শান্ত করার জন্য এখন কাজ করবে ইগো। ইগো সেই মাকে রাতে স্বপ্ন দেখাবে, যে সে তার আপন সন্তানকে এর চেয়ে বড় একটি মাছের মাথা (তুলনামূলক ভালো) দিয়ে খাওয়াচ্ছে। এখানে ইগো স্বপ্নের মাধ্যমে ভারসাম্য করে দিলো।

একইভাবে জীবনের বিভিন্নে ক্ষেত্রে সুপার ইগোকে প্রধান্য দিয়ে আমরা আমাদের বিভিন্ন ইচ্ছা বা চাহিদা পূরন করতে পারিনা। এই ভয়ে যে; পাছে, লোকে কিছু বলে। আমাদের এই অপূরনীয় চাহিদায় বিক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মন। তখন মন বা ইডকে শান্ত করতে স্বপ্নে আমরা আমাদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে থাকি।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জিন্নাহ পর্ব-২

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯



এবার জিন্নাহর পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কিত বিতর্কিত বক্তব্যে আসা যাক। জিন্নাহ জন্মসূত্রে গুজরাটি ছিলেন এবং কেবল ইংরেজি ও গুজরাটি ভাষা জানতেন। তিনি উর্দু বলতে পারতেন না। সেক্যুলারিস্ট জিন্নাহ যেহেতু ব্যক্তিজীবনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাকে শত্রু ভাবছেন, সে হয়তো আপনার জীবনের একজন পথপ্রদর্শক

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

গানঃ সামু একটি ছোট নৌকা
https://suno.com/s/ckWb25lfp1xBLIzc
==============



একটা পুরনো গল্প বলি। একটি বনে কিছু বাঁদর আর বেবুন বাস করতো। সেই বনের পাশেই একটি ভুট্টার ক্ষেত ছিলো। বাঁদর আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা ভাষা সংস্কৃত ভাষার উপভাষা নয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৩


বাংলা ভাষা একটি স্বতন্ত্র ভাষা। বাংলা ভাষা সংস্কৃত ভাষা থেকে আসে নাই, এটা মেনে নিতে হবে। কারণ, ইতিহাসে আছে, ভারতবর্ষে আর্যদের আসার আগেও 'বঙ্গ' নামের একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি ভূমি'র... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামের জ্ঞানদীপ : যুক্তির আরব্য-ফারসী নবযাত্রা প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য -৩য় পর্ব

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:১৭

জাতীয় জন্মসনদে ভুলের ভূত আর সাভারের জালিয়াতি চক্র: সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কি কোনোদিন থামবে না?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০০



আজ ৬ অক্টোবর, জাতীয় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে—‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত হবে সুশাসন’। অথচ বাস্তবতা যেন এই স্লোগানের একদম উল্টো! সরকারি নথিতে যখন সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×