মৃত্যু মানব জীবনের এক অনিবার্য বাস্তবতা। তবু সবার মৃত্যু কি সমান হয়? কারো কারো মৃত্যু হয় বিছানায় ধুকে ধুকে, আবার কেউ কেউ জীবনের আবহমান সংগ্রামে বেছে নেয় হার না মানা এক মৃত্যু। আমি সেই সাহসী মানুষদের কথাই বলছিলাম। জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও যারা উঁচিয়ে রাখতে জানে বিপ্লবের নিশান। গাইতে জানে সংগ্রামের চিরায়ত গান।
কেবল সাহসীরাই পারে স্রোতের প্রতিকূলে দাঁড়িয়ে থাকতে। ভীরুরা কেবলই স্রোতের টানে ভেসে যায়। আর যারা অদম্য সাহসী, তারা তো স্রোতের গতিই পরিবর্তন করে ফেলতে জানে। সমাজব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও প্রচলিত অসঙ্গতি দূর করতে তেমন কিছু সাহসী মানুষেরই আজ প্রয়োজন। যারা মৃত্যুর ভয়ে ভীরুতাকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকতে চায়, এই পথ তাদের জন্য নয়।
এ প্রসঙ্গে একটা গল্প মনে পড়ে গেলো, একবার কোন এক সুলতান (নামটা মনে করতে পারছিনা) কথা প্রসঙ্গে এক জেলেকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তুমি তো সমূদ্রে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছো। তোমার বাবা কি করেন?’ জেলে উত্তরে বলেছিলো, ‘ আমার বাবাও একজন জেলে ছিলেন, এবং তিনি সমূদ্রে মাছ ধরতে গিয়েই মারা গেছেন।’ সুলতান আবার বললেন, ‘তার বাবা, মানে তোমার দাদা কিভাবে মারা গেছেন?’ জেলে বললো, ‘তিনিও সমূদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি।’ এবার সুলতার বললেন, ‘তোমার বাবা এবং দাদা দু’জনই সমূদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে মারা গেছেন, আবার তুমি একই কাজ কর। তোমার ভয় করেনা।’ জেলে এবার সুলতানকে পাল্টা প্রশ্ন করলেন, ‘হুজুর বেয়াদবী নিয়েন না, আপনার বাবা কিভাবে মারা গেছেন?’ সুলতার উত্তরে জানালেন, তাঁর বাবা বার্ধক্যজনিত কারণে বিছানায় রোগে ভূগে মারা গেছেন। জেলে আবারো জানতে চাইলো, সুলতানের দাদা কিভাবে মারা গেছেন? সুলতান বললেন, তাঁর দাদাও একইভাবে মারা গেছেন। এবার জেলে সুলতানকে উদ্দেশ্য করে বললো, ‘আপনার বাবা, দাদা দু’জনই বার্ধক্যজনিত কারণে রোগে ভুগে বিছানায় শুয়েই মারা গেছেন, আপনার সেই বিছানায় শুতে ভয় করেনা?’ জেলের এই উত্তর সুলতানের জীবনে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনে দিয়েছিলো।
বলতে চাচ্ছিলাম, মৃত্যু পূর্ব নির্ধারিত একটি বিষয়। চাইলেই তো কেউ এটাকে এড়িয়ে যেতে পারেনা। অনেকেই তো সুরম্য রাজপ্রাসাদ, বিশাল সৈন্যবাহিনী, দূর্ভেদ্য দূর্গ, কতকিছুই না করেছে। কিন্তু ক’জন পেরেছে মৃত্যু নামক এই চিরন্তন মেনে না নেয়া বাস্তবতা থেকে পালিয়ে থাকতে। সুতরাং মরতে যখন হবে সাহসের সাথে সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে মরাই ভালো।
সমাজতান্ত্রীক বিপ্লবীদের একটি কবিতা পড়েছিলাম,
তুমি যাকে মৃত্যু বল, তুমি যাকে বল শেষ, সমূল পতন
আমি তার গভীরে বিশ্বাসী বারুদের চোখ দেখে বলি
এসব মৃত্যু কোন শেষ নয়, সব নয়
এসব মৃত্যু থেকে শুরু হয় আমাদের সূর্যময় পথ।’
কথাগুলো কি অস্বীকার করার উপায় আছে? আমি দেখেছি, প্রতিটি মৃত্যু থেকেই জন্ম নেয় নতুন নতুন জীবন। তৈরী হয় চেতনার দূর্ভেদ্য দূর্গ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



