পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কর্মীদের মধ্যে বুধবার ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। দফায় দফায় সংঘর্ষ আর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলী এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ ঘটনায় ১০ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যবসায়ী ইমরানের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ইমরান ছাড়াও আহতদের মধ্যে তিন জনের নাম পাওয়া গেছে। এরা হলেন ছাত্রলীগ কর্মী শাহীন ও জালাল এবং ব্যবসায়ী কাওসার। কাওসারের অবস্থা গুরুতর।
জানা যায়, বুধবার সদরঘাট পাটুয়াটুলী এলাকায় এক চশমার দোকানে এক কর্মচারী ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হলে দোকান মালিকরা দোকানপাট বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অগ্রণী ব্যাংক ভাঙচুর করে। বুধবার বেলা ৩টা থেকে শুরু হয়ে সংঘর্ষ ৫টা পর্যন্ত চলে।
বেলা ৩টায় ব্যবসায়ীরা দোকান পাট বন্ধ করে লাঠিসোটা নিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন। অচল হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। চলে ইট পাটকেল নিক্ষেপ। বন্ধ করে দেওয়া হয় ওই এলাকার সব সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে পুলিশকে নীরব ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবনে ভাঙচুর চালিয়েছে ব্যাবসায়ীরা। এ ছাড়া বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে।
বাংলাদেশ চশমা বণিক শিল্প সমিতির সদস্য কাজী জানে আলম বলেন, ‘ছাত্রলীগ নামধারী চার থেকে পাঁচজন সন্ত্রাসী পাটুয়াটুলীর নূরুল হক টাওয়ারের নূর অপটিকসে ঢুকে কয়েকটি চশমা নিয়ে যায়। দোকান কর্মচারী ইমরান চশমার দাম চাইলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
এক পর্যায়ে সন্ত্রীরা ওই কর্মচারীর পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়। এ সময় উত্তরা থেকে আসা চশমার ক্রেতা মিঠু এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় ইমরানকে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কাজী জানে আলম দাবি করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নামধারী এসব সন্ত্রাসীরা প্রায়ই টাকা পায়সা এবং বিনামূল্যে চশমা নিয়ে যায়।
তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আহŸায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম আকন্দ বলেন, যারা ব্যাবসায়ীকে মারধর করেছে তারা জগন্নাথ শাখা ছাত্রলীগের কেউ না। ছাত্রলীগের নাম দিয়ে তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছে। আর এর ফলে চশমা ব্যাবসায়ীরা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাংক ও নতুন ভবনে হামলা চালায়। এতে বাধা দিলে ব্যাবসায়ীরা আমাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



