নাটোর থেকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া তিন স্কুল ছাত্রীকে তাদের বড় হওয়ার স্বপ্নের পুরুষ রাতুল মাস্টার না হয়েই নিলফামারী জেলা পুলিশের হেফাজত থেকে বাড়ি ফিরে আসতে হল। নাটোর সদর উপজেলার পাটুল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মঙ্গলবার দুপুরে নিখোঁজ হয় তিন ছাত্রী। অনেক খোঁজা-খুঁজির পর ওই তিন ছাত্রীকে নীলফামারি জেলা পুলিশের হেফাজত থেকে বুধবার ভোররাতে নাটোরে ফিরিয়ে আনা হয়।।
স্থানীয়রা জানায়, সদর উপজেলার পাটুল উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী ওয়াহিদা ফেরদৌস জয়া ও ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী মারভি সরকার তিন্নী এবং সীমা খাতুন। তাদের তিন জনের বাড়ি সদর উপজেলার পাটুল গ্রামে। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের কাশ শেষে তারা বাড়ি ফিরে না আসায় অভিভাবক ও শিকরা আশে পাশে খোঁজা-খুঁজি করতে থাকেন। কেউ তাদের কোন সন্ধানই দিতে পারেননি। এক পর্যায়ে নিখোঁজ জয়ার খাতায় তার মা‘কে লেখা একটি চিঠির সন্ধান পাওয়া যায়। চিঠিতে জয়া তার মাকে লিখেছে, ‘আমি তোমাকে খুবই ভালোবাসি আম্মু কিন্তু আমার কোন উপায় নেই তাই আমাকে পালাতে হল। তুমি বেশী টেনশন করোনা। আমি আবার তোমার কোলে ফিরে আসবো রাতুল মাস্টারের মতো বড় হয়ে। আমার সঙ্গে আছে তিন্নি ও সিমা’
উল্লেখ্য, ভারতীয় বাংলা সিরিয়াল টাপুর-টুপুরের একটি জনপ্রিয় চরিত্রের নাম রাতুল মাষ্টার।
জয়ার লেখা এই চিঠির কথা জানার পর তিন ছাত্রীর আত্মীয়-স্বজনরা আরও ভেঙ্গে পড়েন। বিষয়টি নলডাঙ্গা থানায় জানানোর পর নাটোরের পুলিশ সুপার কাইয়ুমুজ্জামান খানের তত্ত¡াবধানে জোড় অনুসন্ধান শুরু করা হয়। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলাতেও খবর দেয়া হয়।
সন্ধ্যা সাতটার দিকে নীলফামারীর পুলিশ সুপার আলমগীর আলম নাটোরের পুলিশ সুপারকে জানান, নিখোঁজ তিন ছাত্রীকে পুলিশ নীলফামারী রেলস্টেশন থেকে উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে রেখেছেন।
ওয়াহিদা ফেরদৌস জয়ার বাবা ওয়াস উদ্দিন মাস্টার বলেন, ‘এক সঙ্গে তিন ছাত্রী নিখোঁজ হওয়াতে আমাদের সবার মনেই আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল। পরে মেয়ের লেখা চিঠি পড়ে আমরা নিশ্চিত হই যে এটা কোন দুর্বৃত্তের ঘটানো কোন ঘটনা নয়। তবে আমরা সবাই মেয়েদের ভবিষ্যত ভেবে চিন্তায় পড়েছিলাম। ভারতীয় টেলিভিশনের অপরিকল্পিত নাটক দেখে ছেলে-মেয়েরা তাদের সর্বনাশ করছে। বিশেষ করে ভারতের সিরিয়ালগুলো আমাদের সন্তানদের ধ্বংস ডেকে আনছে।’
নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘তিন ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় গত পরীায় নম্বর কম পাওয়ায় অভিভাবকরা বকাঝকা দেয়ায় তারা এমন কাজ করার কথা চিন্তা করে। তারা সবাই মিলে তিন্নীর নানার বাড়ি লালমনিরহাটে যাওয়ার কথা ভেবেই নীলসাগরে চড়েছিল কিন্তু নীলসাগর টেনটি নীলফামারী স্টেশন পর্যন্ত গিয়ে থেমে যাওয়ায় ট্রেন থেকে নেমে স্টেশনেই ঘোরা-ফেরা করছিল তারা।’
নলডাঙ্গা থানার পুলিশসহ অভিভাবকরা মাইক্রোবাসে রাতেই নীলফামারী রওনা হয়ে ভোরের দিকে নীলফামারী থেকে ওই তিন ছাত্রীকে নাটোরে নিয়ে আসেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



