somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মার্চেন্ট ব্যাংক, ফোর্স সেল ও নৈতিকতা

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ৯:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আরও আর্টিকেল পড়ুন

সাম্প্রতিককালে শেয়ারবাজারে ব্যাপক মূল্য পতনের পর যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তাতে মার্চেন্ট ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে জোরেসোরে আলোচনা চলছে। মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমে সরকারের নীতিনির্ধারক মহল বেশ সমস্যায় পড়েছে। বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী এদের কার্যক্রমে নৈতিকতার প্রশ্ন তুলে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নতুন আইন করার কথা বলেছেন। তিনি প্রথম দিকে বলেছিলেন, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর অনৈতিক কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পরে গত শুক্রবার এসইসি অফিসে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কথা বলার পর তার সুর বেশ নরম হয়ে গেছে। তিনি বলেছেন, এসইসি ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো একত্রে বসে এর ব্যাংকিং কার্যক্রম কিভাবে হবে তা নির্ধারণ করবে।
আসলে করার তেমন কিছু নেই। বিশ্বব্যাপী মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো একটা নীতিমালার আওতায় পরিচালিত হয়। পুঁজিবাজারে এদের বিনিয়োগ হয় সিংহভাগ। ৭০% থেকে শুরু করে ক্ষেত্রবিশেষে প্রদানযোগ্য ঋণের ৯০% পর্যন্ত এরা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে। বিভিন্ন সূত্র থেকে তহবিল সংগ্রহ করে নিজেরাই যেমন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে, তেমনি তাদের কায়েন্টদেরও শেয়ার খরিদের জন্য ঋণ সুবিধা প্রদান করে। মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো মূলত মার্জিন রুলস এর আওতায় এই ঋণ সুবিধা প্রদান করে থাকে। বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি বিষয় হওয়ার কারণে এটি ফাইন্যান্সের ছাত্রছাত্রীদের পাঠ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। ব্যাংকগুলো সাধারণত ঝুঁকিমুক্ত থাকতে ১:১ অনুপাতে ঋণ সুবিধা প্রদানের পক্ষপাতি। এতে করে কায়েন্টদের স্বার্থ যেমন বজায় থাকে তেমনি ব্যাংকগুলোর নিজস্ব আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। কিন্তু সরকারের ইচ্ছা যদি অন্যরকম হয় অর্থাৎ সরকার যদি চায় শেয়ারবাজার চাঙ্গা হোক, তবে নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই ঋণ সুবিধা ১:১.৫ বা ক্ষেত্র বিশেষে ১:২ অনুপাতে ঋণ দেয়ার সিলিং নির্ধারণ করে দেয়। ঊর্ধ্বমুখী বাজারে এই ব্যবস্থা ব্যাংক এবং কায়েন্ট উভয়ের জন্য উপযোগী হলেও বাজার যখন নিম্নমুখী হয় তখন তা পরস্পরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে শেয়ারবাজারে যদি কখনো ধস নামে তবে অধিক ঋণ নিয়ে খরিদ করা শেয়ারের লোকসানের কারণে একজন বিনিয়োগকারীর সর্বস্বান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যেমনটি বর্তমান সময়ে পরিলক্ষিত হচ্ছে।
সাধারণত ক্ষুদ্র-সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই শেয়ার কেনার জন্য মার্চেন্ট ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে। এই ঋণ গ্রহণের সময় তাদের ঋণের চার্জ পেপারে সই দিতে হয়। এখন অর্থমন্ত্রী যেমনটি বলেছেন, ‘নৈতিকভাবে তারা ফোর্স সেলের মাধ্যমে কায়েন্টদের শেয়ার বিক্রি করতে পারে না’ কথাটি কিছুটা হলেও সত্য। কারণ, এসব ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা অনভিজ্ঞতা ও প্রকৃত শেয়ার মূল্য সম্মন্ধে স্বচ্ছ ধারণার অভাবে শেয়ার কেনার সময় মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর মুখাপেক্ষী ছিল। যথাযথ বিনিয়োগ পরামর্শ প্রদান মার্চেন্ট ব্যাংকের অনেকগুলো কাজের একটি। এখন মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো নির্ধারিত ফি নিয়েও যদি তাদের কায়েন্টদের অতি উচ্চ মূল্যে ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ার কেনার পরামর্শ দিয়ে থাকে এবং এরপর ধসের কারণে যদি ওই কায়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে তার দায় সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট ব্যাংকের ওপর কিছুটা হলেও বর্তায়। সেক্ষেত্রে বাজার স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর অপেক্ষা করা উচিত। কারণ একবার শেয়ারগুলো ফোর্সড সেল হয়ে গেলে সর্বস্বান্ত হওয়া ছাড়া ওই বিনিয়োগকারীর আর কোন গত্যন্তর থাকে না। অতীতে দেখা গেছে, এরূপ পরিস্থিতিতে আইসিবিসহ অন্য অনেক মার্চেন্ট ব্যাংক তাদের বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে ফোর্স সেল থেকে বিরত ছিল।
অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ওইদিনের আলোচনার পর এবারও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো সরকারের প্রস্তাবিত ১:২ হারে শর্তসাপেক্ষে ঋণ সুবিধা প্রদান করতে সম্মত হয়েছে। তবে শর্ত না বলে যথাযথভাবে মার্জিন রুলস অনুসরণ করে বললে ভাল হয়। তারা বলেছে, শেয়ারের মার্জিনের পরিমাণ ৫০% কমে গেলে একবার এবং ৭০% কমে গেলে আর একবার তারা মার্জিন কল করবে। মার্জিন পূরণ করতে ব্যর্থ হলে তারা ফোর্স সেল করতে পারবে, এরূপ অনুমতি দিতে হবে।
বিষয়টি বাণিজ্যিক বিবেচনায় যথার্থ। কিন্তু এসইসি এবং সরকারি মহল কে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কিরূপ ব্যবস্থা নেবে। এসইসি তো প্রত্যেক বিনিয়োগকারীদের বিও একাউন্ট খোলা ও নবায়নের সময় ৫০ টাকা গ্রহণ করে। এই অর্থের কিয়দংশ ব্যবহার করে তারা একটি বিনিয়োগ সহায়তা সেল গঠন করতে পারে, যেখান থেকে সাধারণ-ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা সঠিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন শেয়ারবাজার চাঙ্গা হবে তেমনি ওইসব বিনিয়োগকারীরাও ঝুঁকিমুক্ত থাকবে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সত্যকে স্বীকার করার সাহস কি আমাদের হারিয়ে যাচ্ছে?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

সত্যকে স্বীকার করার সাহস কি আমাদের হারিয়ে যাচ্ছে?

আমাদের দেশে এখন অদ্ভুত এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। আপনি কোনো দলের সমালোচনা করলে- আপনি সেই দলের শত্রু।
আপনি কোনো দলের একটি ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

ফ্যাসিস্ট আমলে পুলিশকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল- এ অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার অংশ।
জুলাইয়ের পর- সেই পুলিশ কি সত্যিই বদলেছে, নাকি শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×