ভাষা সদা পরিবর্তনশীল। দীর্ঘ সময়ে বিবর্তন, পরিবর্তন ও আত্মীকরণের মাধ্যমে ভাষার ক্রমবিকাশ ঘটতে থাকে। বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে আমরা জানি বাংলা প্রায় ১২০০ বছরের পুরাতন ভাষা। আমাদের হাতে পাওয়া বাংলাভাষার সবচেয়ে পুরাতন লিখিত উৎস চর্যাপদের দুই একটা লাইন পড়লেই বোঝা যায় ভাষা পরিবর্তনের এই মাত্রা কত বেশী। উদাহরণ হিসেবে চর্যাপদের একটা লাইন উল্লেখ করা যেতে পারে।
"উঁচা উঁচা পাবত তঁহি বসই সবরী বালী।"
অর্থঃ উঁচু পর্বতে শবরী বালিকা বাস করে।

একশ বছর আগের চলিত গদ্যরীতির সাথে বর্তমান গদ্যরীতির পার্থক্যও উল্লেখযোগ্য। সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা বাংলার লিখিত সাহিত্যের সবচেয়ে বেশী বিকাশ ঘটে উনবিংশ শতাব্দী ও বিংশ শতাব্দীতে। উনবিংশ শতাব্দীর পুরোটা জুড়ে
এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ওই সময়ের লেখকবৃন্দ বাংলায় অনেক সংস্কৃত শব্দ ও কিছু অন্য বিদেশী শব্দ আত্মীকরণ করেছিলেন। সেগুলোর অনেক কিছু বর্তমান লেখকদের লেখায় দেখা যায় না। প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির কারণে নতুন নতুন অনেক ইংরেজী প্রযুক্তিনির্ভর শব্দ আমরা বাংলায় আত্মীকরণ করছি। শুধু প্রযুক্তিনির্ভর নয়, ভাব প্রকাশের অনেক শব্দ বাংলা থাকা সত্ত্বেও আমরা ইংরেজী ও বিদেশী শব্দ গ্রহণ করছি। এটা দোষের কিছু না। এটা বরং ভাষার ভান্ডার সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করছে। তবে এর জন্য আমাদের সচেতনভাবে কিছু করতে হবে। প্রথমত বাংলায় যেকোন কিছু লিখতে রোমান হরফ পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। নতুন কোন শব্দ যদি ব্যবহার করতেই হয়, তবে বাংলা হরফে লিখতে হবে। এক্ষেত্রে লেখক বা সাংবাদিকদের ভুমিকাটা অনেক বড় হতে হবে। ফেসবুকাররা এবং ব্লগাররাও কিছুটা অবদান রাখতে পারেন।
ভাষা নিয়ে শুধু আজকের দিন না, ৩৬৫ দিনই আমরা সরব থাকব। তবে ফ্রেব্রুয়ারী মাসে এটা নিয়ে একটু আনুষ্ঠানিকতা বেশী থাকবে। এটাকে ছোট করে দেখার কিছু নেই। এই আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে আমরা ভাষাকে যদি আরো ভালোবাসতে শিখি এবং শুদ্ধভাবে উপস্থাপন করতে শিখি, বরং সেটাই হবে বড় পাওয়া। যে মাতৃভাষা দিবস আমাদের দেশকে বিশ্বদরবারে একটা পরিচয় এনে দিয়েছে, সেই আমাদের দেশেই অনেক নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষা আজ লুপ্তপ্রায়। সেগুলো নিয়ে আরো অনেক কথা বলা যেত। কিন্তু মোট কথা হল, এগুলো রক্ষা করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ আমরা নিতে পারছি কি?
সকল প্রাণী তার মায়ের ভাষায় হেসে-খেলে সগর্বে চলাফেরা করুক। ভাষা বৈচিত্র্যের এই সৌন্দর্য্যই হবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বড় পাওয়া।
*****
আমি ঋভু সাবর্ণি। ফেসবুকে নিয়মিত নিজের চিন্তাভাবনা প্রকাশ করছি। প্রোফাইল পরিদর্শনের আমন্ত্রণ সবার জন্য।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১০:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




