সালোয়ার কামিজ পড়া একটা বাঙ্গালী নারী বইমেলার আশেপাশে ধর্ষিত হলেন। স্বভাবতই সবার প্রতিবাদ করার কথা। লোক দেখানোর জন্য হোক আর খারাপ লাগা থেকে হোক মিঃ এক্স প্রতিবাদ করলেন। তারপর হঠাত দেখলেন প্রতিবাদীদের মাঝে মিঃ এক্সের কিছু অপছন্দের লোকজনও আছে। কিছু প্রতিবাদী এর জন্য সরাসরি ধর্মকে দায়ী করছে।
আবার কিছু লোককে দেখলেন ধর্ষণকে জায়েজকরার জন্য প্রশ্ন তুলছে, মেয়েদের খারাপ পোষাক পড়ার দরকার কি? মেয়েরা একা বাইরে যাবে কেন? আধুনিক হলেই ছোট জামা-কাপড় পরতে হবে? ইসলাম কি নারীদের চলার ব্যাপারে বিধি দেয় নি? এক হাতে কি তালি বাজে?
মিঃ এক্স অবস্থান পরিবর্তন করে ফেললেন। মিঃ এক্সের উপলদ্ধি হলো, সুশীলেরা শুধু ধর্ষণকারীর বিরুদ্ধে কথা বলছে, ধর্ষিতার কি কোন দোষ ছিল না? সে ভাবল শাস্তি চাইতে হবে, তবে শাস্তি হোক আর না হোক এর আগে পোষাক-আশাক এবং ধর্মসম্মতভাবে নারীদের চলাচলের ব্যাপার জোর দিতে হবে। তিনি ব্লগে-ফেসবুকে তার উপলদ্ধি-ভাবনা ফুটিয়ে তুললেন।
কিছুদিন পরের কথা, মিঃ ওয়াই হিজাব পড়া মেয়ের ডাগর ডাগর চোখের দিকে তাকিয়ে লালা ঝরাচ্ছেন। সুযোগ পেলেই ঝাপিয়ে পড়বেন। মিঃ ওয়াই জানেন এর কোন শাস্তি পেতে হবে না, তার বন্ধু মিঃ এক্সের মতো মানুষেরা এই হিজাবীকেও মডার্ন ছোট পোশাক পড়া কামুকী হিসেবে সবার সামনে উপস্থাপন করবে। আরো হাজারে হাজার মিঃ এক্স এবং মিঃ ওয়াই জন্ম নিবে।
বিঃদ্রঃ এটা নিছক গল্প। এই গল্পের সাথে অভিজিৎ রায় হত্যাকান্ডের পর যারা ফেসবুক-ব্লগে নাস্তিক লেখক হিসেবে অভিজিৎকে গালি দিচ্ছে, তাদের কোন মিল খুঁজে পেলে লেখক দায়ী নয়।
*****
আমি ঋভু সাবর্ণি। ফেসবুকে নিয়মিত নিজের চিন্তাভাবনা প্রকাশ করছি। প্রোফাইল পরিদর্শনের আমন্ত্রণ সবার জন্য।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০১৫ রাত ৮:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




