সাম্প্রতিক সময়ে যে কোনো শিল্পীর গানের সঙ্গে সঙ্গে মিউজিক ভিডিও তৈরির বিষয়টি যেন অলিখিত একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে। শিল্পী কে বা তার গান কোন মানের - এ ক্ষেত্রে তা যেন কোনো বিষয় নয় বরং মিউজিক ভিডিও সেই গানের সঙ্গে থাকছে কি না তাই-ই যেন মুখ্য। নতুন নতুন মডেলদের নিয়ে তৈরি এসব মিউজিক ভিডিওতে স্বাভাবিকভাবেই মানের বিষয়টি নিয়ে ভাবা হয় না। একদল মডেলের গানের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে লাফালাফি, ঝাপাঝাপির মাধ্যমে যা তৈরি হচ্ছে, তাকেই পরিবেশক ও নির্মাতারা মিউজিক ভিডিও বলে চালিয়ে দিচ্ছেন!
ফলে মূল যে ক্ষতিটি হচ্ছে তা হলো, ভালো মানের মিউজিক ভিডিওগুলো দর্শকদের তেমন একটা রেসপন্স পাচ্ছে না। কারণ দর্শকরা এসব নিম্নমানের মিউজিক ভিডিও দেখতে দেখতে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে মিউজিক ভিডিও থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এ কারণে ভালোমানের মিউজিক ভিডিও বাজারে এলেও দর্শকরা তেমন একটা উৎসাহী হচ্ছেন না। ভাবছেন এটিও বড় জোর গৎবাধা, নিম্নমানের মিউজিক ভিডিওই হবে!
অথচ নিম্নমানের মিউজিক ভিডিও নিম্নমানের ক্ষেত্রে কোনো সেন্সরশিপ না থাকায় অনায়াসেই নির্মাতারা যা তৈরি করছেন, তাকেই মিউজিক ভিডিও বলে চালিয়ে দিচ্ছেন। অনেক সময় মিউজিক ভিডিওতেও মাত্রাতিরিক্ত অশ্লীলতা ছাড়া অন্য কিছুই দেখা যায় না। নারী দেহের প্রদর্শনীই তখন এসব মিউজিক ভিডিওতে মুখ্য হয়ে ওঠে। অথচ এসব প্রতিকারের কোনো পথই নেই বলে যেন মনে হয়।
অনেক সময় ভালো একটি গানও মার খেয়ে যেতে পারে কেবল নিম্নমানের একটি মিউজিক ভিডিওর কারণে। কষ্টের গানের মিউজিক ভিডিওতে যদি একদল মডেল নাচানাচি করে গানটি পরিবেশন করে তখন স্বাভাবিকভাবেই নির্মাতাদের কনসেপ্ট নিয়েই প্রশ্ন উঠবে। আবার সুন্দর একটি মিউজিক ভিডিওর গুণেও কোনো গায়কের গান হিট হয়ে যেতে পারে।
সুতরাং মিউজিক ভিডিও নিম্নমানের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সচেতনতার পরিচয় রাখাটা বাঞ্ছনীয়। আর একটি সেন্সরবোর্ড থাকা প্রয়োজন, যারা এসব মিউজিক ভিডিওর মান বিবেচনা করবে। তাহলেই দর্শকদের কাছে মিউজিক ভিডিও আরো গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয়তা পাবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




