somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুর্নীতির মহাগদ্য...............

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৩ দুপুর ২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ঘটনা ১: সম্ভবত ৯৫/৯৬ দিকের ঘটনা রাজনীতি বুঝার বয়স তখনো হয়নি আমার ইমিডিয়েত বড় ভাই আমারে রাজনীতি বুজাইতে উনার লেকচার শেষ করলো "তারেক জিয়ার পকেট গরম" এই স্লোগান দিয়ে। এভাবেই জীবনে প্রথম বারের মত তারেক জিয়া সম্পর্কে পরিচিত হই।


ঘটনা ২: মোবাইল কল রেট ৭ টাকা মিনিট ২০০১ এ বিএনপি সরকার ক্ষমতা আসছে চারদিকে একই খবর তারেক জিয়ার মালিকানায় ইন্ডিয়ান এয়ার টেল বাংলাদেশে আসবে কল রেট হবে ২ টাকা মিনিট। বিএনপির সাপোর্টার হিসেবে সুযোগ পাইলেই এর কৃতিত্ব নিতে ভুল করি নাই। সত্যি বলতে এই প্রসংগে কৃতিত্ব নেয়ার সুযোগ কমই হইছে কারন যেখানেই এই প্রশংগ আসছে আমার আগেই কেউ না কেউ (আওয়ামি/বিএনপি/সাধারণ /অসাধারণ সবাই) এ নিয়া আমার কথা গুলা বলে ফেলছে। বছর ২ পরে উল্টো সুর সবার দেশি মোবাইল কম্পানীগুলা থেকে টাকা খেয়ে (চাদা/কমিশন) তারেক রহমান তার এয়ারটেল প্রজেক্ট বাতিল করছে।


ঘটনা ৩: আমাদের আসনে ২০০৭এর নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মোট ১২ জন, একা একজন বিপরীতে ১১ জনের জোট। শেষে ১১ জনের মধ্য থেকে সাবেক এম্পিকে মনোনয়ন দেয়া হয়। শুরু হল নতুন খেলা বাকী ১০ জন সাথে আরো ১১/১২ জন মিলে এক মিটিংয়ে প্রার্থীর কাছে দুই কোটি টাকা চাইল নির্বাচন পরিচালনায় খরচের জন্যে। যদিও তাদের আসল উদ্যেশ্য ছিল প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাড়াক এতে তাদের পছন্দমত অন্য প্রার্থীকে দল বেছে নিবে। এসব দর কষাকষির এক পর্যায়ে প্রার্থী সাবেক এম্পিকে তারা শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করে, অবশেষে সাবেক এম্পি প্রার্থীতা প্রত্যাহারে রাজী হন। পরদিন সংবাদ সম্মেলন করে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন। ঐ দিন চারদিকে থেকে একই খবর তারেক রহমান এম্পির কাছে টাকা চাইছে তাই এম্পি ইলেকশন করবে না। কাউকে কিছু বলার সুযোগই নাই, কেউ শুনতে আগ্রহী না। প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল বিএনপির প্রার্থীর কাছে তারেক রহমান টাকা চাঁদা চাইছে। (নোট: ২০০৮এর নির্বাচনে প্রায় একই ঘটনা ঘটিয়েছে ঐ ১১ জন, প্রথমে সবাই এমপিকে সাপোর্ট পরে এম্পি অসুস্থতার কারন দেখিয়ে সরে যান তারপর ঐকই ব্যাক্তি দলের হয়ে ইলেশনের জন্যে মনোনয়ন পান। খিয়াল কইরা এইবার কিন্তু সবাই আগে থেকেই জানতো কে কিভাবে খেলবে, দ্বাদশ ব্যাক্তিও একই যার মনোনয়ন ঠেকাতে অন্যরা একট্টা)


ঘটনা ৪: কক্সবাজারে সে সময়কার সেরা হোটেল সী প্যালেস নাটক ফাটক অনেক কিছুই হইছে ঐ হোটেলে সারা দেশে ফেমাস বিলাস বহুল আধুনিক ঐ হোটেল তবে সী প্যালেস নামে না তারেক জিয়ার হোটেল নামে!! এখনো যদি গ্রামে গিয়ে জিজ্ঞাসা করে কক্সবাজারের সেরা হোটেলের নাম কি বা মালিক কে এক মুহুর্ত চিন্তা না করে আপনাকে উত্তর দিবে তারেক জিয়া। ২০০৭ এর নির্বাচনে কাজ করতে গিয়ে অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হয় বড় ভাই শিখিয়ে দিলেন প্রার্থীর পেশা সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করলে বলবা তারেক জিয়ার সাথে ব্যাবসায় পার্টনার হোটেল সী প্যালেস ও কয়েকটা গার্মেন্টসের মালিক। সত্য মিথ্যা যাচাইয়ের সময় কই শুরু করে দিলাম প্রচারনা (নতুন প্রার্থীদের তারাতারি পরিচিত করার জন্যে এ ধরনের প্রচারনা দেশ ব্যাপী চালানো হইছে নিঃসন্দেহে বলতে পারি)।


ঘটনা ৫: দেশের প্রথম শ্রেনীর পত্রিকা থেকে শুরু করে সব ধরনের গণমাধ্যমেই সিন্ডিকেট, বিশেষ মহল, হাওয়া ভবন, মামুন সবশেষে সরাসরি তারেক রহমানের নামসহ প্রতিবেদন, গবেশনা (প্রপাগন্ডা), কলাম প্রকাশ করেছে তারেক রহমানের দুর্নীতি নিয়ে। এসব প্রতিবেদনের বিশ্বাস যোগ্যতা বাড়ানোর জন্য সুনির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে তারা লিখেছে- যেমন 'রুপালী ব্যাংক বিক্রি' ক্রেতা অন্য কেউ নয় তারেক রহমান নামেই শুধু সৌদি রাজ পরিবার, বিদুৎ খাতে তারেকের খাম্বা ২০ হাজার কোটি টাকা লুপাট (যেখানে ৫ বছরে সরকারের বাজেট ছিল ৭হাজার কোটি টাকা), মালয়শিয়ায় তারেকের ইন্ডাস্ট্রীয়াল জোন এ ধরনের অভিযোগের ইয়ত্তা নেই।


ঘটনা ৬: তারেক রহমানের ব্যাবসায়িক পার্টনার মামুনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল উদ্দিন গং সরকারের প্রথম সাপ্তায় কিন্তু দেড় মাস পর তাকে আদালতে হাজির করা হয় এই দেড় মাস চলে তারেক রহমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা আর মনপুত তথ্য না পাওয়ায় দিন রাত নির্যাতন এর মধ্যে তিন বার তাকে ক্রস ফায়ারের জন্যে ফায়ারিং স্পটে নিয়ে যাওয়া হয় তথ্যের জন্যে।


ঘটনা ৭: ৭ই মার্চ, ২০০৭ তারেক রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। কিভাবে গ্রেফতার করা হয় সবাই জানেন কমবেশী। ২৩ মার্চ ৬ ঘন্টা ব্যাপী তল্লাশি চালানো হয় হাওয়া ভবনে। জব্দ করা হয় পেপার কাটিং, সিডি, ফ্লপি, কয়েকটা কম্পিউটার। গ্রেফতারের পরবর্তী দুই সাপ্তায় প্রায় সব পত্রিকায় যেসব অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্টতার সংবাদ বের হয়- ১. মামুন ও তারেক দু'জনেই স্বীকার করেছেন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফিদ্ধকা, থাইল্যান্ড, দুবাই ও সুইজারল্যান্ডসহ ইউরোপের একাধিক দেশে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। ২. দুবাইতে তিনি একটি মার্কেট করেছেন। ৩. দক্ষিণ আফিদ্ধকায় ১৫ মিলিয়ন প্রজেক্টে বিপুল বিনিয়োগ করেছেন। ৪. রয়েছে মালয়শিয়া ও সিংগাপুরে বিশাল বিনিয়োগ। ৫. দেশে তিনি টিভি চ্যানেলসহ ওয়ান গ্রুপ, জাজ ডিসি্টলারিজ, খাম্বা, টেক্সটাইল মিল, ড্যান্ডি ডাইংয়ের শেয়ার, কোকো জাহাজ, বিজ্ঞাপনী সংস্থা ইত্যাদি বহু প্রতিষ্ঠানের মালিক। ৬. অপরাধ জগতের সম্রাট দাউদ ইব্রাহিমের সাথে দোস্তি।


৫,৬ও৭ নম্বর ঘটনা বাদ দিলে তারেক রহমানের ইমেজ সংকটের জন্যে দায়ী তারেক রহমানের শুভাকাংখী ও কর্মীরা। বুঝে না বুঝেই তারা/আমরা আওয়ামী ফাদে পা দিয়েছিল/ছিলাম। নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধার জন্যে ডিম দেয়া হাসটাকে গিলে খেয়েছিলাম। কিন্তু আমরা কি অনুতপ্ত? আমি অনুতপ্ত কারন আমি ও আমাদের বছরের পর পর উচ্চ অভিলাসী স্বপ্ন বিলাসী নিত্যকার দিনের মিথ্যা গুলিই ৫,৬ এবং ৭ নম্বর প্রপাগন্ডা চালানোর সুযোগ করে দিয়েছে প্রতিপক্ষকে।

অনেকে মনে করেন তারেক রহমানের বিরোধ্যে মামলা গুলা তার ব্যাক্তিগত। কিন্তু আমি মনে করি তা মনে করি না। কারন আমাদের ছোট ছোট অভিলাস, আকাংখা ও আত্মতৃপ্ত করা আমাদের মিথ্যাগুলিই তারেক রহমানের আজকের ইমেজ সংকট ও পাহাড়সম নির্যাতনের জন্যে দায়ী। আমি ও আমার মত সাধারন কর্মী ও সাধারন মানুষ তারেক রহমানকে নিয়ে সেসব মিথ্যাচার গুলি ছিল নিঃস্বার্থ ও নিঃর্লোভ। কিন্তু যারা তারেক রহমানকে নিয়ে মিথ্যাচার করেছিল বিক্রি করেছিল পন্যের মত তারা কি অনুতপ্ত? তাদের কি কোন চেষ্টা আছে তাদের দোকানটা (তারেক রহমানের ইমেজ) রক্ষার?
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৪:৫৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেদুইন: আরবের বালুর বুকে লেখা ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৮


বালুর ঢেউ যেখানে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখে
সেখানে জন্ম নেয় মানুষ
যাদের ঘর ছিল দিগন্ত
আর ছাদ ছিল নক্ষত্রভরা রাত।

তারা বেদুইন
মরুর সন্তান, বাতাসের সাথী
তৃষ্ণার মাঝেও যাদের হৃদয়
অতিথির জন্য ঝরাতো মধুর হাসি।

খেজুরগাছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

CONTROL YOUR TONGUE...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৪


১. অনেকদিন আগে আওয়ামী লীগের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, “ঘুষকে ঘুষ বলা যাবে না, বলতে হবে স্পিড মানি”। গতকাল বিএনপি’র সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৮২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩১



আলহামদুলিল্লাহ প্রথম রোজা ডান!
সন্ধ্যায় এলোমেলো খাবার খাওয়ার কারণে ইফতারের পর শরীরটা আমার খারাপ লেগেছে। আই ফিল ব্যাড। শরবতে এত চিনি দিয়েছে যে, মনে হয়েছে রসোগোল্লার সিরা। এলোমেলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব ভাষা দিবসের সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:১৫



একুশ মানে মাথা নত না করা।
একুশ মানে ভাষার প্রশ্নে আপোষ না করা।

অমর একুশে আমাদের শেখায়—
আমাদের মাতৃভাষা কারও দয়ার দান নয়।
ভাষা আমাদের অর্জিত অধিকার।

যারা ভাষার জন্য শহীদ হয়েছেন, তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মাতৃভাষা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:০৯


রক্তে কেনা মাতৃভাষা
বিশ্বব্যাপী সম্মান।
দৃপ্ত শপথে অটুট রাখবো
বাংলা ভাষার মান। 

মায়ের ভাষা সবার কাছেই
সবচাইতে প্রিয়।
প্রত্যেক ভাষাভাষীকে তার
প্রাপ্য সম্মানটুকু দিও।

ভাষা নিয়ে বিদ্বেষ বিভেদ
রুখতে ফেব্রুয়ারিতে।
ঢাকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×