
বালুর ঢেউ যেখানে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখে
সেখানে জন্ম নেয় মানুষ
যাদের ঘর ছিল দিগন্ত
আর ছাদ ছিল নক্ষত্রভরা রাত।
তারা বেদুইন
মরুর সন্তান, বাতাসের সাথী
তৃষ্ণার মাঝেও যাদের হৃদয়
অতিথির জন্য ঝরাতো মধুর হাসি।
খেজুরগাছের ছায়ায় বসে
তারা লিখত না কাগজে ইতিহাস
তাদের স্মৃতি ছিল জীবন্ত গ্রন্থ
কবিতাই ছিল তাদের পরিচয়পত্র।
যখন সভ্য শহর ঘুমিয়ে ছিল অজ্ঞতার অন্ধকারে
তখন মরুর পথে তারা বহন করত বাণিজ্যের আলো
দূর ইয়েমেন থেকে শাম
মক্কা থেকে পারস্যের প্রান্তে
উটের ঘণ্টায় বাজত সংযোগের সুর।
তাদের পথেই মিলেছিল সংস্কৃতি
ভাষা পেয়েছিল ছন্দ
আরবি কবিতা হয়েছিল মরুর বাতাসের মতো স্বাধীন
যার শব্দে জন্ম নিয়েছিল সাহস আর সম্মান।
তারা শিখিয়েছে
সম্পদ নয়, মর্যাদাই মানুষের পরিচয়
প্রাসাদ নয়, প্রতিশ্রুতিই সবচেয়ে দৃঢ় আশ্রয়।
মরুর কঠোরতা গড়েছিল তাদের চরিত্র
ধৈর্য ছিল তাদের পানীয় জল
আর স্বাধীনতা ছিল তাদের নিশ্বাস।
যখন রাসুল(স,) এর আহ্বান উঠল মানবতার নামে
এই বেদুইন হৃদয়ই প্রথম শুনেছিল সেই ডাক
তারা মরুর সীমা ছাড়িয়ে
বহন করল জ্ঞান, ন্যায় আর ঈমানের আলো
পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে।
তাদের উটের পদচিহ্নেই খুলেছিল পথ
বিজ্ঞান, ভাষা আর দর্শনের যাত্রায়
কারণ পথ না থাকলে
সভ্যতাও কখনো পৌঁছায় না গন্তব্যে।
আজও মরুর বাতাস বলে
সভ্যতা শুধু নগর দেয় না জন্ম
কখনো কখনো ইতিহাসের মহান শিক্ষক
হয় এক যাযাবর জাতি।
হে বেদুইন
তোমাদের সরল তাঁবুর ভেতরেই লুকিয়ে ছিল
মানবতার সবচেয়ে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়
যেখানে শেখানো হতো
সাহস, সম্মান, আর অতিথিকে ভালোবাসা।
বালুর বুক আজও ধরে রেখেছে তোমাদের পদচিহ্ন
কারণ সভ্যতা এগিয়েছে সামনে
কিন্তু পথ দেখিয়েছিল মরুর মানুষ।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ
কবিতাটি বেদুইনদের প্রতি নিবেদিত ।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



