আমার ছেলে বেলা নিয়ে ভাবতে বসে মনে হলো ...কেমন ছিলো ছেলে বেলা ? ভালো না মন্দ? আর দশ জনের মত না ভিন্ন..? ভেবে দেখলাম খুব আহামরি না তবে কিছুটা আলাদা..
আলাদা এই কারনে আমার বেলায় বিধি নিষেধ গুলো একটু বেশীই ছিলো.. একারনে আমার বড় বোন মিউজিক কনসার্টে গিয়া জেমসের গান শুনলেও আমাকে বাসার জানালায় বসে আবছা ভাবে ভেসে আসা গান শুনতে হতো.. এই সব কারনে ছোটবেলা্য় কতো বার ভাবছি আত্নহত্যা করমু কিন্তু ছোট কলিজায় সাহসে কুলাতো না
ছোটবেলা গেলো বলতে গেলে আম্মার হাতের মাইর খে্যে খেয়ে ..জুতা ,পিড়ি ডাল ঘুটুনী , ক্যাসেট প্লেয়ারের তার কিছুই বাদ ছিলো না মাইরের অস্তহিসাবে ..সব চাইতে দু:খজনক ব্যপার ছিলো যে শলার ঝাড়ুর মাইর আমি খাইতাম সেটাও ছিলো আমারই নিজের হাতে বানানো..। মাইরের পর কোন আদর সোহাগের ব্যাপার ছিলো না । ধুমছে মাইর খাবার পর কেটে ছিড়ে গেলে আম্মা কাটা জায়গা্য তেল মালিস করে দিত আর একটা ডিম পোছ করে খেতে দিত..দিয়ে বলতো "তুই মহাশয়তান তাই তোকে মারছি আর তুই আমার ছেলে তাই ডিম খাইতে দিসি..আর
জীবনে তুই এমন করবি ?" আমি বলতাম ; না ..প্রতিবার একই নাটক তখন এই আদর মাখা কথা শুনে আভিমানে আমার বুক ফেটে আসতো..
আমাকে আম্মা একে বারে ছোট বেলা্য কি আদর করছে জানিনা ..কিন্তু জ্ঞান হবার পর কখনো কোলে নিয়ে চুমা খেয়ে বাংলা সিনেমা স্টাইলে বলেনি " আ্য় আমার যাদু বুকে আয়" আর ত সিনামা স্টাইলে আমাদের কোন পাবিবারিক গান ও ছিলো না .।
( আসলে চান্স পাইলে শুক্কুর বারে বিটিভিত খুব সিনামা দেখতাম.. ছোট হলেও সিনামাকে খুব সিরিয়াসলিই নিতাম
এক শুক্রবার দেখেছিলাম শাবানা আলমগীরের সাথে বাসর ঘর করতেছে ..কিন্তু পরের শুক্রবার দেখি একই শাবানা মোটকা জসিমের সাথে খিল খিল করে হাসে ,নাচে গান গা্য আর ফুলবাগানে লুকোচুরি খেলে এদিকে আমার মধ্যশুরু হয়ে গেছে চাপা টেনশন .কারন ওদের কে এই নাচানাচি অবস্হায় যদি আলমগীর দেখে ফেলে তাইলে তো বিশাল ক্যাচাল লেগে যাবে ..কিন্তু দেখি ন খালি নাচানাচিই শেষ না শাবানা এবার হাসতে হাসতে জসিমের সাথে বাসর ঘরে ঢুকে গেলো ..শাবানার এই বেইমানি দেখে অল্প বয়সে কচি মনে অনেক ব্যাথা পেয়েছিলাম...) আর এখনতো সিনামা না বাস্তবে আশেপাসে এইসব দেখে দেখে গা সওয়া হয়ে গেছে..
যাক সিনেমা বাদ .. এবার আব্বু প্রসংগে আসি .. আমার বাবার একটা বিরক্তিকর ব্যাপার ছিলো বাসা্য যে কোন ধরনের গেস্ট আসলে আমাকে দিয়ে গেস্টের পায়ে ধরে সালাম করানো... যেই আসুক আব্বু আমাকে দেখিয়ে বলত "এটা আমার ছেলে" ..তারপরের ডায়লগ ছিলো "হিরো তুমি আংকেলকে সালাম করছ ? " আমি যদি বলতাম হ্যা স্লামালেকুম দিছি..তখন উনার কথা ছিলো যাও পা ধরে সালাম করো... ভাবটা ছিলো আমার পোলা দেখছেন? পুরাই আদব লেহাজের গোডাউন.. আর দুইবার সালাম করে আমি মনে মনে গেস্টের চৌদ্দ গুস্টি
উদ্ধার করতাম.. তবে এটা কাজে লাগাইছি পরে বড় হয়ে
আমার এক কাজিনকে নিয়া গেছি রাঙামাটি বেড়াইতে ফ্রেন্ডের বাসায় ..আন্টির সাথে ভালো খাতির আমার .. আন্টি আমাকে তুই করে ডাকে ..প্রায় নিজের মায়ে মতই আদর করে ... আমার কাজিনকে আন্টির সাথে পরিচয় করিয়ে বললাম
আন্টি এটা আমার কাজিন রুবেল.। ার রুবেল তখন হাতটা একটু তুলে বলল " স্লামালাইকুম সাথে সাথে আমি পাশ থেকে হুংকার দিয়ে বললাম বেয়াদপ.. তুই আন্টিকে হাতে সালাম দিছস ...যা পায়ে ধরে সালাম দে
ঝারি খেয়ে রুবেল তো অপ্রস্তুত তারাতারি আবার গেছে সালাম করতে তখন তার চেহারাটা হয়েচিলো দেখার মত... আর আমি তো ইদিকে খিক খিক হাসি ...
যাক অনেক প্যাচাল পাড়লাম ...সবার তো ছেলে বেলার অনেল কাহীনি থাকে . ভাবলাম আমারটা বাদ যাবে কেন ? বলাতো যায় না যদি কোন দিন বিখ্যাত হয়ে যাই তখন তো আর লিখার সময় পাবো না তাই হাতে সময় থাকতে লিখে ফেললাম.. আপনাদের ভালো লাগলে আরো লিখবো...।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


