somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভানু সে বসিলো পাটে

০১ লা জানুয়ারি, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিভে গেলো নতুন বছরের প্রথম দিবসের প্রথম সূর্যটা৷ এই তো কিছু আগে এই গ্রহবাসী অনেক আয়োজন করে একটি বছরকে বিদায় জানিয়েছে৷ ব্রক্ষ্মাণ্ডের অভিধানে দিন-রাত-মাস-বছর কিছু নেই, কিন্তু মানুষের অভিধানে তো আছে৷ তাই একটি বছর জমা হয়েছে স্মৃতির পাতায়৷ আর কখনো ফিরবে না সে৷ তার শুধু যাওয়া আছে, ফিরে আসা নেই৷ ফিরে আসা নেই আসলে কোনোকিছুরই৷ সবকিছু কেবলই চলে যায়৷ সময়, দিন-রাত-নক্ষত্র-বছর, জীবন অথবা প্রিয়তমা, ভালোলাগা মন্দলাগা, অথবা বয়স, সব কেবলই চলে যায়৷ হারিয়ে যায়৷

তবু পিছু ফিরে চায় না মানুষ৷ বিপুল উদ্দীপনায় স্বাগত জানায় নতুন বছর৷

উৎসবের আতশবাজির ভীড় ঠেলে চেয়ে দেখি নতুন বছরের উদীয়মান প্রথম সূর্য৷ কতো আশা আর নিরাশায় দুলে যায় মন৷ হয়তো অন্যরকম হবে এবার সবকিছু... হয়তো... হয়তো কি... জানি না৷

মোবাইলটা কেপে ওঠে৷ একের পর এক ফোন আসে৷ মেসেজে মেসেজে ভরে যায় মোবাইল আর ইন্টারনেটের পাতা৷ নতুন বছরের শুভেচ্ছা৷ সুখী হোক নতুন বছর৷ আমিও শুভেচ্ছা জানাই৷ কামনা করি সুখী হোক সবাই৷ সুখী হোক সবার বছর৷ যদিও জানি পথের ধারের উলঙ্গ ফুটপাতে হয়তো ঠাণ্ডায় তিরতির করে কাঁপছে কোনো মাবব শিশু৷ হয়তো শকুনেরা উদ্দত নখর মেলে ভাবছে- চালের দাম বাড়াবার এ এক ভালো সুযোগ৷ হয়তো পৃথিবীর কোনো পথের খাদে উল্টে পড়ে আছে কোনো বাস৷ হয়তো নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে আসা কতো মানুষ লাশ হয়ে গেছে কোনো বোমার বিস্ফোরণে৷ হয়তো পৃথিবীর রাস্ট্রনায়কেরা ভ্রু কুচকে ভাবছে- কোন দেশটা আক্রমন করা যায়; কোন দেশের কতোগুলা মানুষ মারলে ইতিহাসের পাতায় সাহসী রাস্ট্রনায়ক হিসেবে উঠে যাবে তাদের নাম৷ আমি এসবই জানি৷ আমি জানি পৃথিবী থেকে কমবে না শকুনের দল৷ উদ্দত নখর মেলে ক্রুর দৃষ্টিতে তার চেয়ে থাকা৷ জানি নতুন বছরে সুখী হওয়া হবে না সবার, বরং শুকিয়ে যাবে অনেক জীবন৷

তবু আমি মেসেজের পর মেসেজ পাঠাই৷ আতশ বাজির বিস্ফোরণে আনন্দে উদ্বেলিত হই৷ অনর্গল ফোনের পর ফোনে বলে যাই- সুখী হও, সুখী হও, সুখী হও৷
আমরা বড় সুখের প্রত্যাশী৷

তবু জীবনে সুখ আসে কই৷ অনন্ত সংগ্রাম আমাদের পায় না সুখের ঠিকানা৷ গুটি গুটি পায়ে দৌড়ে চলে যায় ক্লান্ত সময়৷
আর তখন, নতুন বছরের প্রথম দিবসের প্রথম সূর্যটাকে নিভে যেতে দেখে চমকে উঠি৷ কি আশ্চর্য দ্রুততায় বয়ে যায় সময়!
১০টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এসো ঈদের গল্প লিখি..... পড়ি

লিখেছেন অপ্‌সরা, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১১


আরও অনেকের গল্প পড়ার অপেক্ষায়..... স্বপ্নের শঙ্খচিলভাইয়া, নতুন নকিবভাইয়া, প্রবাসীকালোভাইয়া,ওমর খাইয়ামভাইয়া, হুমায়রা হারুন আপুনি, করুনাধারা আপুনি, মেহবুবা আপুনি, রাজীব নূর ভাইয়া, রানার ভাইয়ার গল্প পড়তে চাই, জানতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কে আমারে ডাকে?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২০

কিছু কিছু গান তৈরির পর সৃষ্টির আনন্দে আমি অত্যধিক উচ্ছ্বসিত হই। এ গানটার ফিমেইল ভার্সনটা তৈরি করেও আমি অনেক অনেক তৃপ্ত। আপনারা যারা ফোক-ক্ল্যাসিক্যাল ফিউশন ভালোবাসেন, এটা তাদের জন্য উপযুক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের ভুল বনাম যুদ্ধকৌশল

লিখেছেন আলামিন১০৪, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯






ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করেছিল এবং তার মাশুল দিচ্ছে হাড়ে-হাড়ে। যখন গাজার শিশু-মহিলা-আপামর জনসাধারণকে নির্বিচারে বোমা-ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছিল তখন আম্রিকা বলেছিল ঈসরাইলের উপর হামলায় ইরানের ভূমিকা নেই- মানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লোভে পাপ, পাপে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫২


"মাংস সমিতি।" এরকম নাম শুনলে প্রথমে হাসি পায়। সঞ্চয় সমিতি শুনেছি, ঋণ সমিতি শুনেছি, এমনকি মহিলা সমিতিও শুনেছি। কিন্তু মাংস সমিতি? তারপর একটু ভাবলে হাসি থেমে যায়। কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×