somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লাল-নীল সংসার!!

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

- চকলেট খাবা?
- দেখ আমি তোমার সাথে ফাইজলামি করার জন্য আসি নি। আমি সিরিয়াসলি কিছু কথা বলতে চাই।
- এটা সেন্টারফ্রেশ চুইংগাম না যে, খেলেই মুখের জিপার বন্ধ হয়ে যাবে।
- আবার!
- আচ্ছা আমিই খাই। কি বলবে বলো!
- আমার বাসায় বিয়ের কথা চলছে! প্রায়ই ছেলে পক্ষ দেখতে আসে। ওদের সামনে স্ট্যাচু হতে ভালো লাগে না!
- বিয়ে করে ফেলো! নিষেধ করেছে কেউ?!
- মানে কি এসবের? প্রেম করলাম তোমার সাথে, বিয়ে করব অন্যজনকে!
- হুম
- মজা কইরোনা প্লিজ!
- নাহ! আমি ড্যাম সিরিয়াস!

অস্ফুট কন্ঠে 'ওহ!' বলেই চলে যাচ্ছিলো মেয়েটি। আর ছেলেটি তাকিয়ে থাকল মেয়েটির চলে যাওয়া পথের দিকে।
এখানে দুইটা ঘটনা ঘটতে পারে। একটা কাল্পনিকতা আরেকটা বাস্তবতা। দুইটা ঘটনাই একটু মিলিয়ে দেখি...


এক...
মেয়েটি চলে যাচ্ছিল, তার চোখটা ভিজে আসছিল বারবার। ছেলেটি খেয়াল করল বিষয়টা। হঠাৎ ডেকে উঠল ছেলেটি, 'বউ!' মেয়েটি তার ছলছল চোখ মুছে মুচকি হেসে বলল, 'জ্বী!'
- ভালোবাসি!
- 'হু!' মেয়েটির চোখ জুড়ে হাসির ঝিলিক ছড়িয়ে পরে পুরো মুখে।
- চিন্তা করো না। খুব জলদিই কিছু একটা করব ইনশাল্লাহ!
- জানি তো!
- আর তোমারও আর স্ট্যাচু হতে হবেনা। হি হি হি
- মজা করবা না বলছি। হুহ

এরপর হয়ত ছেলেটি ঐ মেয়েটির হাতটা খুব শক্ত করে ধরবে। আর মেয়েটিও ছেলেটির হাতেই নিজেকে ছেড়ে দিবে। হাসবে দুজনেই!



দুই...
ছেলেটি মেয়েটির চলে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে থাকল। একসময় মেয়েটি চোখের আড়ালে চলে গেল। সাথে সাথেই ছেলেটি তার চোখটা মুছল। বেকার ছেলেদের কাঁদতে নেই। কারন তাদের কান্নাকে 'মায়া কান্না' বলে ধিক্কার দেয় অনেকেই!

হঠাৎ ফোনটা কেঁপে ওঠে ম্যাসেজ টোনে। মেয়েটির ম্যাসেজ! লিখা আছে, 'আমি সত্যি তোমায় এই মুহুর্ত থেকে প্রচন্ড ঘৃনা করতে শুরু করেছি! আই হেইট ইউ!'
- 'ক্ষমা করে দিও। আর হ্যা, এখনও ভালোবাসি তোমায়...' ম্যাসেজটা লিখেই সেন্ড অপশনে চাপল ছেলেটি। কিন্তু লেখা উঠল, 'ম্যাসেজ নট সেন্ট!'
বেকার ছেলেদের ফোনে মাঝে মাঝে ব্যালেন্সও থাকে না!

ছেলেটি মুচকি হাসল নিজের কথা ভেবে। এরপর পকেটে রাখা হেডফোনটা কানে লাগিয়ে হাটতে শুরু করল। কানে বাজতে থাকল অঞ্জন দত্তের এক অমর গান,
আর কিছুদিন দিন তারপর বেলা মুক্তি,
কসবার ঐ নীল দেওয়ালের ঘর।
সাদাকালো এই জঞ্জালে ভরা মিথ্যেকথার শহরে,
তোমার আমার লাল-নীল সংসার!!

আইভান
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ইং
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৯:৩৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০১

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

ছবি, সংগৃহিত।

সারসংক্ষেপ

রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। সাধারণ মুসলিম সমাজে রোজা ভঙ্গের ধারণা প্রধানত পানাহার ও যৌন সংসর্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ কুরআন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভ্রমণব্লগ: আলোছায়ার ঝলকে এক অপার্থিব যাত্রা”

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬

মালয়েশিয়া আমার বেশ পছন্দের একটি দেশ। আমার জীবনের একটি অংশের হাজারো স্মৃতি এই দেশে। একটা সময় ছিল যখন এই দেশ ছিল আমার সেকেন্ড হোম।‌ এখন ও আমার আত্নীয়-স্বজন, ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×