somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি অসম্পূর্ণ গল্প

১৬ ই জুলাই, ২০১০ রাত ৩:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এতক্ষণ ধরে জামার দোকানে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে প্রিয়তী। পছন্দই হচ্ছেনা কিছু। এমন সময় খুব পরিচিত গলা শুনে ফিরে তাকালো প্রিয়তী। একটা মেয়ে আর একটা ছেলে এসে ঢুকেছে দোকানটায়। ছেলেটার দিকে চোখ পড়তেই প্রিয়তী অনুভব করলো তার পুরো চেহারা রক্তশূন্য হয়ে যাচ্ছে। অদ্ভুত কিছু অনুভূতি একসাথে এসে খেলে গেল মনে। চোখের সামনে খেলা করে গেল অনেকগুলো চেহারা, আর অনেক স্মৃতি।
চোখের সামনে প্রিয়নকে দেখেও ঠিক বিশ্বাস হচ্ছিল না প্রিয়তীর। এই একজন মানুষের সামনে যেন পড়তে না হয় সেজন্য ভার্সিটি থেকে বের হওয়ার পর ভার্সিটির কোন বন্ধুবান্ধবের সাথে কোন যোগাযোগ রাখে নি প্রিয়তী। কিন্তু প্রিয়নকে সামনে দেখে বরং অনেক ভালো লাগা খেলে গেল তার মনে। ভার্সিটি জীবনে প্রিয়তীর সবচেয়ে ভালো বন্ধু ছিল প্রিয়ন। সেই বন্ধুত্ব ভালোবাসায় মোড় নিতেও সময় লাগেনি। কিন্তু তারপরেই সব উলটপালট হয়ে গেছে। সপ্তাহের ৪ দিনই দেখা যায় ধুন্দুমার ঝগড়া চলছে। শেষে দুজনে মিলেই শেষ করে দিয়েছিল সম্পর্কটাকে। শুরুটা যেমন হয়েছিল নিরবে নিভৃতে, শেষটাও হল তেমন।
প্রিয়তী ভার্সিটি থেকে বের হয়েছে বছর দুয়েক। এখন একটা ছোট চাকরী করছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে বলে পড়াশুনা শেষ হওয়ার সাথে সাথে ফ্যামিলি থেকে বিয়ে করার জন্য চাপ শুরু হয়ে গেল। প্রিয়তীর কি হল নিজেও জানে না। সব অসহ্য লাগতে শুরু করলো। মনে হল, তার পক্ষে অন্য কাউকে বিয়ে করাটা ঠিক সম্ভব নয়। বাসার চাপটা মেনে নিতে পারলো না বলে ঝগড়া করে বেরিয়ে এল বাসা থেকে। এখন একটা কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলে থাকে সে। সারাদিন কাজে কর্মে সময় চলে যায়, কিন্তু সন্ধার পরে একা রুমে নিঃসঙ্গতা যখন ভর করে, মাঝে মাঝে মনে হয় বাবা-মার কাছে আবার চলে যাবে, খুব ইচ্ছে হয় মাঝে মাঝে প্রিয়নকে ফোন করতে। তার এত ভাল বন্ধু ছিল... আজ বন্ধুত্বের দাবি নিয়েও কি একটা ফোন করা যায় না?
আজ দুবছর পর প্রিয়ন তার সামনে দাঁড়িয়ে। মেয়েটি কে? বেশ সুন্দরী মেয়েটি। প্রিয়নের স্ত্রী? বিয়ে করে ফেলেছে প্রিয়ন? কথা বলবে এগিয়ে গিয়ে? নাকি বলাটা উচিৎ হবে না? যদি তার স্ত্রী হয়... কি বলবে এককালের ভালো বন্ধু? মনের মধ্যে একগাদা প্রশ্ন নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো প্রিয়তী। সে কি বেড়িয়ে যাবে দোকান থেকে? ঠিক তখনই প্রিয়নের গলা শুনতে পেল,”প্রিয়তী না? কিরে হাওয়া হয়ে গেলি একেবারে? আছিস কেমন?” প্রিয়তী ফিরে তাকাল প্রিয়নের দিকে। হালকা করে হাসলো। “ভালোই আছি। তোর কি খবর?” “হুম, ভালো”- বললো প্রিয়ন। “পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি”-বলে হাসিমুখে পাশের মেয়েটার দিকে তাকাল প্রিয়ন “আমার ছোট বোন। নিষাদ।” হঠাৎ করে প্রিয়তীর মনে হল বুকের ভেতরে কোথায় যেন একটা আনন্দের হিল্লোর বয়ে গেল। হেসে পরিচিত হল নিশাদের সাথে। “তারপর?”- জিজ্ঞেস করলো প্রিয়ন “বিয়ের দাওয়াতটাও দিলি না। এই তোর বন্ধুত্ব?” কেন যেন তার মুখ ফুটে বেরোল না সে বিয়ে করেনি। প্রিয়তী পালটা প্রশ্ন করলো, “তুইও তো জানাস নি।” নিশাদ হেসে বললো “ভাইয়া বিয়ে করলে তো জানাবে। সবাই এত করে বলছে, তাও রাজি হচ্ছে না।“ প্রিয়তী অবাক হয়ে তাকালো প্রিয়নের দিকে। তবে কি... ঠিক তখনই বেজে উঠলো মুঠো ফোন। প্রিয়নকে যেতে হবে। আর কথা হল না। বিদায় নিয়ে হাটতে শুরু করলো প্রিয়ন আর তা বোন। প্রিয়তীর খুব ইচ্ছে হল সেই পুরোতন নামে ডাকে... কিন্তু তাদের পথ যে আলাদা। তারাই দুবছর আগে সেই আলাদা আলাদা পথ বেছে নিয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০১১ সকাল ১০:২৪
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×