দেশ যখন স্বাধীন হয় তখন আমি মধ্য যৌবনে, আমার বয়স পঞ্চাশ।২০০৩-এর ফেব্রুয়ারিতে আমার বয়স আশি পূর্ণ হল। বিগত ত্রিশ বছরে আমার জীবন নানা দিকে ছড়িয়ে পড়েছে, অজস্র সহস্রবিধ চরিতার্থতায়। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি-সমাজ সম্পর্কিত বিভিন্ন অংগনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিযে মানব জীবনের একটা নতুন অর্থ আমি খুঁজে পেয়েছি। আমার মনোজগতে যে পরিবর্তন ঘটেছে তা আমার নিজেকেই বিস্মিত করে তোলে। সমাজতন্ত্র সম্পর্কে প্রথম যৌবনেই আমার আগ্রহের উন্মেষ ঘটেছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সমাজতান্ত্রিক আদর্শে আমার আস্থা দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হয়ে উঠতে থাকে। বিষয়টি সম্পর্কে পড়াশুনার ব্যাপ্তি, মহৎ চরিত্রের অধিকারী সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী অনেক ক’জন শিল্পী-সাহিত্যিক-রাজনৈতিক কর্মীর সঙ্গে পরিচয়, দেশের ও বিদেশের , একাধিক সমাজতান্ত্রিক দেশে ভ্রমণ, সেসব দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, নানা সম্মেলনে যোগদান, নানা অন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক সংস্থার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ প্রভৃতি অনুসরণযোগ্য আদর্শ হিসেবে সমাজতন্ত্রে আমার আস্থাকে মজবুত করেছে, সোভিযেত ইউনিয়নের ভাঙ্গন সত্ত্বেও । সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যায় , আমার বিবেচনায় সমাজতন্ত্রের কোন আদর্শগত ত্রুটির জন্য নয়, তার অন্যান্য অনেক কারণ রয়েছে, কিন্তু এখানে আমি সে আলোচনায় যাব না।এখানে শুধু আমি আমার অন্তরের বিশ্বাসের কথাটা বলি।সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই আমরা একদা সমগ্র বিশ্বের জন্য একটা উন্নত জীবন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারব। অন্য কোনভাবে তা সম্ভব হবে না।
(পৃষ্ঠা-১৭৭)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


