somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডাক আসে ঠিকই কিন্তু চিঠি আসে না

১০ ই অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১০:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শের শাহ সর্বপ্রথম এ উপমহাদেশে ‘ঘোড়ার ডাক’ এর প্রচলন করেন। ছোটবেলায় যখন এটা পড়েছি, তখন মনের ভেতর একটাই প্রশ্ন ছিল- আচ্ছা এর আগে কী এখানকার ঘোড়াগুলো ডাকতে পারতো না? পরে জেনেছি এই ডাক- সেই ডাক নয়। এ হলো চিঠি-পত্রের ডাক। এসএমএস, ইমেইল আর সেলফোনের মধুর অত্যাচারে চিঠি তার যৌবন হারিয়েছে বহু আগেই। এখন কেবল দু’টাকার সচল নোট এর মতো প্রবীণ অতীতটা বয়ে বেড়াচ্ছে। অবশ্য আর কত? সেই ঘোড়ার ডাক অথবা তারও আগে থেকে শুরু। এরপর কত হাতি- কত ঘোড়া গেল তল! আর এখনকার নতুন নতুন প্রযুক্তি এসে বলে দেখিতো এখানটায় কত জল! প্রাযুক্তিক আগ্রাসনে এখন ডাক ঠিকই আসে কিন্তু চিঠি আর আসে না।
চিঠির আদ্দিকালের কথা এলে পাখি সমাজের নাম না নিলে অদেখা ইতিহাস কিংবা দেখা সিনেমার সেই বিখ্যাত চিঠি চালাচালির স্টাইলটাকে অস্বীকার করা হবে। বিশ-তিরিশ পুরুষ আগে পাখিরাইতো চিঠি আদান-প্রদানের মহান দায়িত্বটা পালন করতো! অথচ এখন তাদের কোন নাম গন্ধই নাই! এ নিয়ে পাখিদেরও মন খারাপ। এক জ্ঞানী পাখি সঙ্গীটাকে বলছে-
: পৃথিবীর মানুষগুলো ভীষন খারাপ, তাই না?
: এতো পুরান কথা। এটা নতুন করে বলার কী আছে?
: না, হঠাৎ মনে পড়লো। সামনেই নাকি ডাক দিবস। অথচ আমাদের নামটা পর্যন্ত নিচ্ছে না ওরা। আমাদের চিঠি সংক্রান্ত অবদান নিয়ে কোন দিবসও নাই।
: ঠিক বলেছো। অথচ আমাদের পূর্ব পুরুষরা চিঠি চালাচালি নিয়ে কতো কষ্টই না করেছে!
: শুধু কী তাই? মোবাইলের মেসেজ অথবা ইন্টারনেটের চিঠিতেও আমাদের কোন ছাপ নেই। ছবি, লোগো কিচ্ছু নেই। কেবল রঙ বেরঙের ডাক বাক্স বসানো।
: হু.. মানুষগুলো আসলেই স্বার্থপর। আচ্ছা, এর কী কোন বিহিত করা যায় না।
: না। তবে একটা উপায় আছে
: কী সেটা?
: আসামের আত্মহত্যাপ্রবণ পাখিদের মতো আত্মহত্যা করা!
এরপর সেই পাখিদের কথোপকথন আর জানা যায়নি। পাখিরা হঠাৎ করে এতো ইমোশনাল হয়ে পড়লো কেন সেটা অবশ্য একটা গবেষণার বিষয় হতে পারে। তবে আমার এক স্বঘোষিত পাখি বিশেষজ্ঞ বন্ধুর মতে চিঠি চালাচালির কাজে বহুদিন ধরেই পাখিদের ব্যবহার করা হচ্ছে না। ফলে চৌদ্দপুরুষ ধরে ওরা ললনাদের আদর সোহাগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর সেই দু:খে আত্মহত্যা করার ইচ্ছা ওদের জাগতেই পারে!
আত্মহত্যার খপ্পরে আমিও পড়েছিলাম। তবে বেঁচে গেছি। তখন আমি নাইন কী টেনে পড়ি। কাঁচা বয়স। এক কাসমেটকে মনে ধরে গেল। ব্যস, লিখে ফেললাম প্রেমপত্র- ‘আমার ভালোবাসা গ্রহণ না করলে আমি আত্মহত্যা করবো।’ কিন্তু সেই চিঠিটা নিজের হাতে তুলে দেয়ার সাহস ছিল না। ওর কাজিনকে দিয়ে পাঠিয়ে দিলাম। সময়মতো জবাবও এলো। কিন্তু সেটা দেখে আমার চু চড়কগাছ না হয়ে ধুতরা গাছ হবার যোগাড়। মেয়েটা লিখেছে- ‘আত্মহত্যা করলে অবশ্যই দিনে করবেন। কারন আপনার যা সাহস তাতে করে রাতে আত্মহত্যা করতে গেলে ভয়ের চোটে আপনার হার্ট অ্যাটাক হয়ে যেতে পারে।’ চিঠি পড়ে হাসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছিলাম না। পরে যে করেই হোক আত্মহত্যার দূরদর্শী সিদ্ধান্ত থেকে ফেরত এসেছিলাম বলেই হয়তো এখন বেঁচে থাকার বোনাসটা উপভোগ করতে পারছি। পরে জেনেছি মেয়েটি চিঠির চাইতে সরাসরি ‘আই লাভ ইউ’ থিওরীতে বিশ্বাসী ছিল। কিছু হয়নি বলে আর কখনো প্রেমের চিঠিই লিখিনি।
যদিও এখনো অনেকে চিঠি লিখে, তবুও একথা নিশ্চিত চিঠির সেই স্বর্ণযুগ এখন আর নেই। চিঠি এখন আনুষ্ঠানিকতা কিংবা প্রাযুক্তিক উৎকর্ষতার সস্তা মোড়কে বন্দী। আগের সেই আবেগ, রোমাঞ্চ, শিহরণ, বিশ্বাস কোনটাই এখন আর নেই। কিন্তু সব সময় সবকিছুকে অবিশ্বাস করা যৌক্তিক নাও হতে পারে। প্রাসঙ্গিক একটা কৌতুক দিয়েই শেষ করা যাক-
এক ছেলের অনেক দিনের শখ সে একটা সাইকেল কিনবে। কিন্তু কিছুতেই সেই শখটা পূরণ হচ্ছিল না। উপায় না দেখে সাইকেল কেনার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে পাঁচ হাজার টাকা চেয়ে চিঠি লিখলো সে। ঘুরতে ঘুরতে চিঠি এসে পড়লো ডাক বিভাগের এক কর্মকর্তার টেবিলে। চিঠিটা পড়ে তার খুব মায়া হলো। তিনি ছেলেটার জন্য আড়াই হাজার টাকা পাঠালেন। কিছুদিন পরেই সৃষ্টিকর্তার নামে আরেকটা চিঠি এলো। ছেলেটা লিখেছে-
‘সৃষ্টিকর্তা, তোমাকে ধন্যবাদ। তুমি আমার জন্য টাকা পাঠানোতে আমি খুব খুশি। কিন্তু আমার মনে হয় ডাক বিভাগের লোকজন অর্ধেক টাকা মেরে দিয়েছে। কারন আমি মাত্র আড়াই হাজার টাকা পেয়েছি!’


লেখাটি ঘোড়ার ডিমে প্রকাশিত।
লিংকি
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বৃষ্টি দিনের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৫



টিভি বা পত্রপত্রিকায় আবহাওয়া'র খবর নিয়ে নিউজ হয়-
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের পূর্বাভাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইন দ্যা শ্যাডোস অব ইল্যুশন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৮



রাজধানীর নিঝুম আবাসিক এলাকার তিনতলা ফ্ল্যাটের শোবার ঘরটি তখন ক্রাইম সিন টেপে ঘেরা। ধুলো জমে থাকা এয়ার কন্ডিশনারের শব্দের মাঝে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে রক্তের হালকা সোঁদা গন্ধ।

পিবিআই ইনভেস্টিগেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১০


‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগীকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মস্তিষ্ক কাজ করার আগেই যখন উত্তর চলে আসে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৭


মস্তিষ্ক কাজ করার আগেই যখন উত্তর চলে আসে

একসময় কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে মানুষকে ভাবতে হতো। বই খুলতে হতো, লাইব্রেরিতে যেতে হতো, কারও সঙ্গে আলোচনা করতে হতো, ভুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্বাবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ৪

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১৬


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।
একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/3039397|১ম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×