প্রতিদিন পেতাম পাঁচটাকা,
রিক্শা ভাড়া তিন আর টিফিনের জন্য দুই।
সেই টাকা জমিয়ে কত কি করেছি !!!
হারকিউলিসকে সেঁটে দিয়েছি অংক খাতায়,
সুপারম্যানকে করেছি বাক্সবন্দ্বী,
ম্যাকগাইভার.....চাচা চৌধুরীও বাদ যায়নি।
আরেকটু বড় ক্লাশে শ্রীদেবী.....মাধুরী.....সেবা প্রকাশনী,
কিংবা অন্জন দত্তের " আর কিছুদিন তারপর বেলা মুক্তি "।
সেই " আর কিছুদিন " এর অপেক্ষা আমার আজও শেষ হয়নি।
আমার বেলা বোস বিরক্ত হয়ে খট করে ফোন রেখে দিত।
গলা দিয়ে কোন শব্দই বের হতোনা আমার।
অথচ কত কি বলার ছিল.....
বলার ছিল লাল জামা পরলে তাকে কত সুন্দর লাগে।
গাঢ় খয়েরি জুতোটা।
ছোট না, বড় টিপগুলো।
আকাশ মেঘলা হলে খোলা চুল, নাহলে দুই বেণী।
সোজা মেইন রোড দিয়ে, সেনপাড়া দিয়ে নয়,
ওপাড়ার ছেলেগুলো বড্ড পাঁজি।
কত কি !!!
যেমন বলা হয়নি নতুন বানানো স্কুল জামাটার পিঠ বেশী রকমের খোলা,
উফ ! কতজনের চোখ যে উপড়ে ফেলতে চেয়েছি?
চেয়েছি তার স্কুলের দাঁড়োয়ান হতেও।
নিদেনপক্ষে আঁচারওয়ালা।
কিন্তু পাশ করলে তো স্কুলে আসবেনা ভেবে আমার আর ওসব করা হয়ে উঠেনি।
তাই প্রতিদিন দূর থেকে দেখতাম,
স্কুল শেষে একটা লাল টুকটুকে আইসক্রীম অথবা ঝালমুড়ি হাতে তার চলে যাওয়া।
একটা আস্ত রিক্শা বিন্দু হয়ে মিলিয়ে যেত শুন্যে।
হিসেব করেছিলাম বড়জোর এক মিনিট তাকে দেখা যায়।
অথচ এই এক মিনিটের হেরফেরে কেমন একলা হয়ে যেতাম....
সেই এক মিনিটের লোভে পরেরদিন আবার, প্রতিদিন। বন্ধুদের কাছ থেকে ধার করা নতুন জামা ঘামে ভিজে চুপসে যেত।আর কেবলই শুকাতো বইএর ভাজে লুকানো ফুলেরা।বৃষ্টির দিনে কখনও কখনও হাল ছেড়ে দিত বৃত্তির টাকায় কেনা ঘড়িটা।
হাল ছাড়িনি আমি। কত বিকেল, কত সন্ধ্যা অপেক্ষা করেছি একটু বিষন্ন হবার লোভে।ছাদে হাঁটার সময় কেমন বিষন্ন হয়ে যেত সে। তবে কি তারও কাওকে কিছু বলার ছিলো?
বলা হয়নি কখনও।ছাদ থেকে সে অদৃশ্য হওয়ার এক মিনিটের মধ্যে জ্বলে উঠত কোণের ঘড়ের আলো।আর বিষন্ন আমি আবার এক মিনিটের হেরফেরে কেমন একলা হয়ে যেতাম।
(রিপোস্ট) (প্রথম আলোয় প্রকাশিত)
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


