somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রিয়াজ শাহেদ
ভন্ডামির কোনো শেষ নাই, ভন্ডামি তাই সর্বদাই

একটি নির্বিকার নৃশংসতার গল্প

২৬ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[ আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে শোনা মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাগুলো সংগ্রহ করে আর্কাইভ গঠন- ব্লগার জ্বিনের বাদশা নিয়েছেন এই অসাধারণ উদ্যোগটি। তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে আমি পোস্ট করছি আমার দাদার জীবনে ঘটে যাওয়া মুক্তিযুদ্ধের একটি ঘটনা; চলুন ফিরে যাই সেই সময়ে যখন নির্বিকার নৃশংসতা পথেঘাটে সস্তায় বিকোতো ]

ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় আমার দাদার বাড়ি। মুক্তিযুদ্ধের সময় দাদার বয়স প্রায় সত্তর, অস্ত্র হাতে যুদ্ধে অংশ না নিলেও বিভিন্নভাবে সাহায্য করছেন মুক্তিযোদ্ধাদের। একদিন বেরিয়েছেন বাজার করতে, সাথে প্রতিবেশী বন্ধু। বাজার করে ফিরে আসার সময় পড়ে গেলেন পাকবাহিনীর একটা ট্রাকের সামনে। আতংকজাগানিয়া ট্রাকটা রাস্তার একধারে দাঁড়িয়ে আছে, ভেতরে প্রায় দশ-পনেরো জন খানসেনার সাথে এলাকার চিহ্নিত আলবদর বাহিনীর কয়েকজন সদস্য বসে আছে। দাদাদেরকে দেখে তাদের কোন ভাবান্তর হলোনা বলেই মনে হলো, একজন শুধু দাদার হাতে ধরা বাজারের থলেটার দিকে ইংগিত করে কিছু একটা বললো।

দাদারা ট্রাকটা পার হয়ে বেশ কিছুদুর চলে এসেছেন, এমন সময় হঠাৎ গুলির আওয়াজ; দাদা দেখলেন তার ছোটখাটো বন্ধুটি একটা ঝাঁকি খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে গেছে। দাদা বুঝতে পারছেন বন্ধুটি এখনো মারা যায়নি, বাজারের ব্যাগ ফেলে দাদা তাকে ধরে ওঠানোর চেষ্টা করলেন। কিন্ত পেছন থেকে আসা একটি কন্ঠস্বর শুনে তাকে থেমে যেতে হলো, “ঐ অরে ধরবিনা খবরদার, দেখতাছসনা স্যারেরা প্র্যাকটিস করতাছে? একটু পরে অপারেশন আছে।” দাদা ফিরে তাকালেন; ট্রাকের ভেতর বসা এক আলবদর বলেছে কথাগুলো। এক পাকসেনা হাত দিয়ে দাদাকে ইশারা করলো সরে যেতে। তখনো পর্যন্ত দাদা বুঝে ঊঠতে পারেননি একটু পরে তার চোখের সামনে পৃথিবীর সবচেয়ে নারকীয় দৃশ্যের অবতারণা হতে চলেছে।

দাদাকে বন্দুকের ইশারায় তার বন্ধুর কাছ থেকে সরানো হলো। এবার একজন একজন করে পাকসেনা দাদার বন্ধুটিকে লক্ষ্য করে নিশানা প্র্যাকটিস করা শুরু করলো। আলবদরগুলি হাততালি মেরে তাদেরকে উৎসাহ দিচ্ছে। তখন প্রায় দুপুরবেলা, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, যতদূর দেখা যাচ্ছে রাস্তাঘাট পুরো ফাঁকা, তার মাঝে শুধু একটি ট্রাকের ভেতর কিছু পথভ্রষ্ট মানুষ আর রাস্তায় আমার দাদা, আর হঠাৎ করেই পৃথিবীর সবচেয়ে হতভাগ্য মানুষে পরিণত হওয়া দাদার সেই বন্ধু, জীবিত না মৃত বোঝা যায়না। দুয়েকটা শকুনও কি ওড়ে আসন্ন ভোজের অপেক্ষায়? পুরো ব্যাপারটিকে কোন পরাবাস্তব জগতের দৃশ্য বলে মনে হয়।

অবশেষে একসময় শেষ হয় খানসেনাদের এই উৎসব। দাদার বন্ধুটিকে মানুষ হিসাবে আর চেনা যায়না, অনেক লাল রঙ দেয়া একটা গোল বলের মতো মনে হয়। দাদা ভেবে পাননা কী করে তিনি এই লাল বলটিকে বাড়িতে নিয়ে যাবেন। সমাধান দেয় এক আলবদর, “অক্ষণ চইলা যা, অইটারে নিবিনা, স্যারেরা আরো প্র্যাকটিস করব পরে।”
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৯:২৬
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফের 'রসগোল্লা'

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৫ ই জুন, ২০২১ রাত ৮:৪৮


মুজতবা আলী সাহেবের ‘রসগোল্লা’ গল্প পড়ে রসগোল্লার রস আস্বাদন করেননি এমন বাঙ্গালী সাহিত্যপ্রেমী খুঁজে পাওয়া দুস্কর!
কোত্থেকে যেন জেনেছিলাম রসগোল্লার উদ্ভাবক কলকাতার এক ময়রা আর সেটা উদ্ভাবিত হয়েছিল এই বিংশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালোবাসলে ভালোবাসা' ই ফিরে আসে ! ( বাদল দিনের চিঠি )

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ১৫ ই জুন, ২০২১ রাত ১১:৩২


ভালোবাসলে ভালোবাসাই ফিরে আসে ঠিক!

তুমিময় একটা শহর! ক্যাম্পাসের শীত গ্রীষ্ম, নিউ মার্কেটের বই স্টেশনারি, গাউছিয়া চাঁদনি চকের টিপ চুড়ি, ধানমন্ডি ছুঁয়ে সংসদের রাস্তায় তারুণ্যের উত্তালদিন। বয়সের সিড়ি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফুল নেবে গো..................( গোলাপ রহস্য)

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১৫ ই জুন, ২০২১ রাত ১১:৪৭



বিশ্ব জুড়ে জুন মাসটিকে বলা হয় গোলাপের মাস। এই জুনকে স্মরণে লেখাটি উৎসর্গিত।


ফুল ভালোবাসেন না এমন মানুষ সম্ভবত নেই । ফুলের জন্যে ভালোবাসা কেমন হবে, কবি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আরিশের প্রথম জন্মদিন

লিখেছেন হাবিব স্যার, ১৬ ই জুন, ২০২১ রাত ১২:০৮



আমার ছেলে আরিশ রহমান।
আরিশ রহমান ছাড়াও ওর আরো একটা নাম রয়েছে। আসওয়াদ। নামটি রেখেছেন আরিশের নানু। আসওয়াদ নামে ডাকলে সাড়া দেয় বেশি। ছেলে আমার হাঁটতে শিখেছে প্রায় এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরীমনিকে যারা “মক্কার খেজুর” মনে করেন, ছবি এবং কথাগুলো তাদের জন্য।

লিখেছেন আসিফ শাহনেওয়াজ তুষার, ১৬ ই জুন, ২০২১ রাত ১২:৩৬


মাস দেড়েক আগে রোজার ভেতর সারাদেশে যখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউটা আসলো, তখন পরীমনি দুবাই গিয়েছিলো অবকাশ যাপন করতে । সোশ্যাল মিডিয়ায় সে তখন এমন কিছু আয়েশী জীবনের ছবি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×