জাগরী অনির্বাচিত সরকারের আমলে শুরু হওয়াটা কিছুটা কাকতালীয়। আমি (রুবায়াত খান) ইউনিভার্সিটি থেকে পাস করে বের হই ২০০৮ সালে, এবং সেই সময়টাতেই কিছু কাজের মাধ্যমে আমার নিজের মতো কয়েকজনের সাথে পরিচয় হয় যাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে রাজনীতি, যারা দেশের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন, এবং কিছু একটা করতে ভীষন উন্মুখ। আমাদের মধ্যে কয়েকজন ছিলেন যারা এর আগে কাছাকাছি নানা উদ্যোগ নিয়েছেন বা তার অংশ ছিলেন, কিন্তু কোনটিই ঠিক তাদের আদর্শের পথে থাকে নি বলে বের হয়ে এসেছিলেন। এই কয়েকজন ভিন্ন ধ্যানধারনার এবং আদর্শ-তাড়িত মানুষের আলোচনার ফাঁকে ফাঁকেই জাগরী’র আইডিয়াটি জন্ম নেয়। ওই সময় আইডিয়াটি নিয়ে আমরা সবাই এতটাই excited ছিলাম যে শুধুমাত্র অরাজনৈতিক সরকারের আমল বলে থেমে থাকাটা সমীচিন মনে করি নি। বরং সঙ্গে সঙ্গে ঝাপিয়ে পড়ে জাগরী গড়ে তুলবার চেষ্টা করেছিলাম। নিশ্চিতভাবেই তখন যদি এরশাদ, খালেদা জিয়া কিংবা শেখ হাসিনার শ্বাসনামলও হতো তবেও আমাদের কাজকর্মে, উদ্যোগ, শ্রমে বিন্দুমাত্র কোন ফারাক হতো না। তবে যেহেতু তখন কোন কারনে একটা অনির্বাচিত, অগনতান্ত্রিক, আধা-সামরিক সরকার ক্ষমতায় ছিলো, কাজেই এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন আসাটা স্বাভাবিক এবং অবধারিত, এবং এটা মেনেই জাগরী’কে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে হবে কেবল কাজ এর মাধ্যমে।
এবং আমাদের মনে হয় আমরা তা কিছুটা করেছিও। জাগরীর জন্মের পর আমাদের প্রথম কার্যক্রমটি ছিলো “আমার ভোট, আমার কথা”, যার মাধ্যমে আমরা ২০০৮ নির্বাচনে যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেছিলাম জেনে, বুঝে, সিদ্ধান্ত নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে। আমরা টি-শার্ট বানিয়েছিলাম, লিফলেট বিলি করেছিলাম, সারা দেশে ক্যাম্পেইন চালিয়েছিলাম, এবং একটি তথ্যচিত্র তৈরী করেছিলাম যুবসমাজের নির্বাচন-কেন্দ্রিক চিন্তাভাবনা নিয়ে।
তথ্যচিত্রটি এই লিংক এ পাবেনঃ
http://www.youtube.com/watch?v=snaUCMK2ETs
এর পর-ও বিভিন্ন সময়ে আমাদের নানা উদ্যোগের কোনটিই কোন একটি রাজনৈতিক দলের বা সমাজশ্রেণীর স্বার্থ-সংশ্লিষ্ঠ উদ্দেশ্য ছিলো না। কাজেই জাগরী'কে বিচার করা উচিত হবে তার কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে (যদিও অবধারিত ভাবেই আমরাও ভুল ত্রুটি করেছি এবং করবো হয়তো), তার জন্মতারিখ দিয়ে নয়। আমার জন্ম এরশাদ-এর আমলে, তাই বলে কি আমি জাতীয় পার্টির সমর্থক?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


