

‘লাল নাক দিবস’। হাস্যরসাত্মক মনোরঞ্জনের মাধ্যমে দরিদ্র এবং অসহায়-অক্ষম মানুষকে সাহায্য করাই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। শুনতে কিছুটা অদ্ভুত কিংবা আশ্চর্যবোধক মনে হলেও চমৎকার আনন্দমাখা জ্বলজ্বলে এই দিনটি। এই লাল নাক দিবসে বিভিন্ন সংস্খা, প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত দানের অর্থ অনুন্নত পৃথিবীর অসহায় মানুসদের মাঝে বন্টন করা হয়। প্রতি দুই বছরে উদযাপিত হয় এই দিবসটি। পৃথিবীর ধনী ও উন্নত দেশ হিসেবে ইংল্যান্ডে এই দিবসটি ব্যাপক আনন্দের মধ্য দিয়ে পালিত হয়। ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনের রাস্তায় রাস্তায় দেখা যায় লাল নাকের জোয়ার।

কীভাবে এল লাল নাক দিবস
আজ থেকে প্রায় ছাব্বিশ বছর আগে ইউরোপের ব্রিটিশ নাগরিক দুই কমেডি স্ক্রিপরাইটার রিচার্ড কারটিজ এবং আলেকজান্ডার মেনজিজ এর চিন্তা-চেতনায় ‘কমিক রিলিফ’ নামক ইউরোপে একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। আফিন্সকার ইথিওপিয়াতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ মূলত এর প্রেরণা ছিল। এই দাতব্য প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৫ সালে সুদানের রিফিউজি ক্যাম্প থেকে বি.বি.সিতে মানুষের দুর্ভোগের চিত্র সরাসরি সম্প্রচার করে। এরপর থেকে এটি পৃথিবীর বিভিন্ন দরিদ্র এবং উন্নয়নশীল দেশ বিশেষ করে আফিন্সকার হত দরিদ্র বিভিন্ন দেশ যেখানে শিক্ষার হার পৌছুয়নি, মানুষ নির্মম ভাবে জীবিকা নির্বাহ করে সেখানে অবদান রেখে চলেছে। মানুষদের সহযোগিতায় এই সংস্খাটির বিভিন্ন মাত্রার উদ্দ্যোগ লক্ষণীয়। যেমন-
কঙ্গো এবং সুদানে তারা মূলত বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী শহীদ সৈনিকদের সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্য তারা কাজ করে যাচ্ছে। কেনিয়া ও উগান্ডাতে রাস্তায় বসবাস কারী ব্যক্তিদের উন্নত জীবন নিশ্চিত করার অভিলক্ষ্যে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। তানজানিয়াতে দুরারোগ্য ব্যাধি এইডস আক্রান্ত পরিবারের শিশুদের রক্ষার দায়িত্বে আছে। এবাবে কমিক রিলিফের প্রেরণায় ইউরোপ এবং আফিন্সকার প্রায় সত্তরটি প্রতিষ্ঠিত দাতব্য সংস্খা যেমন অক্সফোড, সাইট সারভারস, ক্রিশ্চিয়ান এ্যাড সহ আরো অনেকে অসহায় দরিদ্র মানুষ, সুবিধা বঞ্চিত শিশু, পঙ্গু অক্ষম ও মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ এবং নারী অধিকার উন্নয়নের জন্য নানা ভাবে শ্রম দিয়ে যাচ্ছে। এই ‘কমিক’ রিলিফ’ নামক দাতব্য সংস্খাটির প্রতীক হচ্ছে ‘লাল নাক’। আর এরই সূত্রপাত হিসেবে প্রতি দুই বছরে ‘লাল নাক দিবস’ পালন করা হয়।


যে ভাবে পালিত হয় লাল নাক দিবস
লাল নাক দিবসের মূল লক্ষ্য হল দান। অর্থাৎ সমাজের ধনী শ্রেণীদের দানকৃত অর্থে দরিদ্রের উন্নত জীবন। তাই এই দিবস উপলক্ষ্যে বিভিন্ন দাতব্য সংস্খা, ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান, সরকারী উদ্দ্যোগ সহ আনাচে কানাচে থকে দান অর্থ জমা হয়। অনুন্নত দেশের নাগরিকদের ভেঙ্গে যাওয়া জীবনের স্বপ্ন জোড়া দেয়ার প্রচেষ্টায় এই প্রকল্প সত্যিই অসাধারণ। ১৯৯৭ সালের ১৪ মার্চ পপ দল ‘হু ডু ইউ থিংক ইউ আর ... ’ টাইটেলের একটি গান পরিবেশন করে; যার ৬,৭২,৫৭৭ কপি বিক্রিত হয়। এর পুরো অর্থ কমিক রিলিফে জমা দেয়া হয়। ১৯৯৯ সালের ১২ মার্চ ইউ. কের জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘ডক্টরহু’ এর একটি প্যারোডি শো- এর আয়োজন করা হয়েছিল যার মাধ্যমে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ড সংগ্রহীত হয়েছিল। ২০০১ সালের ১৬ মার্চ ‘লাল নাক দিবস’ উপলক্ষ্যে দান অর্থের পরিমাপ ছিল ৬১,০০০,১৪০ পাউন্ড। এই অর্থ বিভিন্ন টিভি প্রোগ্রাম, বিত্ত শালীদের ব্যক্তিগত সাহায্য এবং বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহীত হয়। এই বছর জনপ্রিয় টিভি শো ‘সেলিব্রিটি বিগ ব্রাদার এর অবদান অনস্বীকার্য। ২০০৩ সালের ১৪ মার্চ পালিত এই দিবসের উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল ‘স্পিকিং ক্লক’ অর্থাৎ ‘কথা বলা ঘড়ি’। মানুষের কণ্ঠস্বর লিপিবদ্ধ এই অদ্ভুত ঘড়িটিকে কেন্দ্রবিন্দু করে জনপ্রিয় ইংলিশ কমেডিয়ান লেনি হেনরি কিছু প্রোগ্রামের আয়োজন করেন যার মূল্যমান ছিল ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ড। সেই বছরে সব মিলিয়ে দাতব্য সংস্খায় জমা হয় ৬১,৪৭৭,৫৩৭ পাউন্ড। এছাড়াও জনপ্রিয় টিভিশো যেমন ইস্ট এন্ডারর্স, ইউনিভার্সিটি চ্যালেঞ্জ, সেলিব্রিটি ডাইভ্রিং স্কুল এবং প্রভূত সুনাম অধিকারী ‘হারি পটার’ এর প্যারোড শো নানা ভাবে অর্থ দানে সাহায্য করেছিল। ২০০৫ সালের ১১ মার্চ দেশের বিভিন্ন টিভি সেলিব্রিটি যেমন ক্রিস ইভান, লেনি হেনরি, ডাভিনা ম্যাকল, গ্রাহাম নোটন, জোনাথন রোজ সহ আলো অনেকের উপস্খিতি, হাসি ঠাট্টা, আলাপ-চারিতায় মুখর ছিল। ২০০৭ এর ১৬ মার্চ এ পালিত দিবসের মূল শ্লোগান ছিল ‘দি বিগ ওয়ান’। এই বছর ওয়াকার (চিপস পেপার কোম্পানী), ক্লিনেক্স চেকলেট কোম্পানী) এবং অ্যানডেক্স (টিস্যু পেপার কোম্পানী) এদের দাতা ক্ষেত্রে বিশাল অবদান ছিল। এই বছর চাদার মূল্যমান ছিল ৬৭,২৬,০৭৭ পাউন্ড। ২০০৯ এর ১৩ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় এই লাল নাক দিবস। এই বছর সংগৃহীত চাঁদার পরিমাণ প্রায় ৮০ মিলিয়ন পাউন্ড।

লাল নাকের বাহারী অলংকরণ
লাল নাক দিবসের একটি সিংহ পরিমান অর্থ অর্জিত হয় ‘লাল নাক’ বিক্রয়ের মাধ্য দিয়ে। এই দিসকে আরো অর্থ মন্ডিত এবং পরিশীলিত করতে এই বিশেষ দিনে মানুষ নাকে একটি ‘রেড নোজ’ পরে থাকে। বিভিন্ন সময়ে অলংকৃত এই ‘নাকের’ বর্ণনা দেয়া হল।
১৯৮৮ : সাধারণ লাল রংয়ের বৃত্তাকার একটি প্লাস্টিকের নাক। নাম ছিল ‘দা রেড নোজ’।
১৯৮৯ : প্লাস্টিকের তৈরী এই নাকটিতে একটি মুখ অংকিত ছিল। নাম ছিল ‘মাই নোজ’।
১৯৯১ : প্লাস্টিকের তৈরী এই নাকটিতে হাত এবং মুখ ছিল। এর নাম ছিল ‘হ্যান্ড নোজ’।
১৯৯৩ : প্লাস্টিকের তৈরী এই নাকের টমেটোর ডাটা এবং টমেটোর মত আকার ছিল। এর নাম ছিল ‘চমেটো নোজ’।
১৯৯৫ : প্লাষ্টিকের তৈরী এই নাকটিতে হলুদ এবং গোলাপী রং পাল্টানোর ব্যব্লÿা ছিল। এর নাম ছিল ‘দি হিট সেনসেটিভ’।
১৯৯৭ : লাল রংয়ের লোমে একটি স্বচ্ছ প্লাস্টিক দ্বারা আবৃত্ত। এর নাম ছিল ‘সেগি নোজ’।
১৯৯৯ : আকৃতি বিহীন, জ্বলজ্বলে সোনালী পদার্থ দ্বারা আবৃত; যখন চেপে ধরা হয় তখন শব্দ করে। এর ছিল ‘ দি বিগ রেড হুটার’।
২০০১ : এই নাকে চলমান চোখ এবং লাল রংয়ের চুল সংযুক্ত ছিল। নাম ছিল ‘হুপি নোজ’।
২০০৩ : এই নাকে চলমান চোখ এবং লাল রংয়ের চুল সংযুক্ত ছিল। নাম ছিল ‘হয়ারি নোজ’।
২০০৫ : এই নাকে একটি হাস্যোজ্জ্বল মুখের ছবি আঁকা ছিল এবং রংবেরংয়ের চুল লাগানো ছিল। নাম ছিল ‘বিগ হেয়ার এবং বেয়ন্ত।’
২০০৭ : এই নাকের নাম ছিল ‘দা বিগ ওয়ান’।
২০০৯ : তিনটি ভিন্ন ধরনের নাক ছিল। এবং তিন ধরনের নাম ছিল তাদের ‘দিজ ওয়ান’, ‘দ্যাট ওয়ান’, ‘দা আদার ওয়ান’।
২০১১ : ২০০৯ এর মত এবারে ও তিনটি ভিন্ন ভিন্ন নাকের আয়োজন করা হয়েছে। তিনটি বিখ্যাত ভয়ংকর চরিত্র যথা হংকাস চাকেল চম্প এবং ক্যাপ্টেন হুকা- এর মুখ মন্ডল অবলম্বনে অংলকৃীত হয়েছে। নাম দেয়া হয়েছে ‘মনস্টার নোজ’।
১৯৮৮ সালের পর থেকে ৬০ কোটি নাক বিক্রয় হয়েছে আফিন্সকার ২১টি দেশে।
.jpg)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


